নওগাঁয় পরিবেশ সুরক্ষায় সুশীল সমাজের গণতান্ত্রিক সংলাপ ও যৌথ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত

নওগাঁয় পরিবেশ সুরক্ষায় সুশীল সমাজের গণতান্ত্রিক সংলাপ ও যৌথ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত

ফয়সাল আহম্মেদ, নওগাঁ: জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশগত অবক্ষয়ের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে নওগাঁয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে জেলা সুশীল সমাজ সংগঠনের এক বিশেষ গণতান্ত্রিক সংলাপ ও যৌথ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
 
আজ ১৯ জুলাই (রবিবার) পরিবেশ অধিদপ্তর, নওগাঁ জেলা কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং নেটজ (NETZ) বাংলাদেশের অংশীদারিত্বে 'এনগেজ (ENGAGE)' প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করে ডাসকো ফাউন্ডেশন। সংলাপে জেলা সিএসও-এর ১৬ জন সদস্যসহ মোট ৩০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
 

ডাসকো ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোঃ মোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর নওগাঁ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো: নাজমুল হোসাইন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন টেকনিক্যাল অফিসার তামান্না জেবিন। সংলাপে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাসকো ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সামশাদ খানম সূচি, প্রকল্প সমন্বয়ক রুহুল আমিন, এরিয়া অফিসার মোঃ তুহিন ইসলাম এবং ফিল্ড ফেসিলিটিটর ব্রজেন হেমরম।
 
উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সিএসও সদস্যরা নওগাঁর পরিবেশগত অবক্ষয়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ পেশ করেন। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিয়মবহির্ভূত ইটভাটার কারণে এলাকার ফসলি জমির উর্বর টপ-সয়েল বা উপরিভাগের উর্বর মাটি মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে। ড্রাম ট্রাক ও ট্রলিতে করে অবাধে মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় মাটি পড়ে পিচ্ছিল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, যার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই প্রায়শই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি, অটো রাইস মিল বা বয়লারের উড়ন্ত ছাইয়ের কারণে পথচারীদের চোখের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে এবং রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা গরম ছাইয়ের ওপর পড়ে সাধারণ মানুষ দগ্ধ ও দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এসব জনস্বার্থবিরোধী ও পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি প্রতিকার ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জোর দাবি জানান তারা।
 
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো: নাজমুল হোসাইন সুশীল সমাজের উত্থাপিত সমস্যাগুলো আমলে নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন। একই সাথে তিনি পলিথিন ও সিঙ্গেল ইউজ (একবার ব্যবহারযোগ্য) প্লাস্টিক ব্যবহারের ভয়াবহ ক্ষতিকর দিকগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অপচনশীল প্লাস্টিক শত শত বছর ধরে পরিবেশ ও মাটির উর্বরতা নষ্ট করছে এবং ড্রেন ও জলাশয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে। আরও আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এই প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক বাতাস, পানি ও খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে, যা কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করাসহ ক্যান্সারের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। তিনি পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর দণ্ড ও জরিমানার বিধানগুলো স্মরণ করিয়ে দেন এবং পরিবেশ রক্ষায় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা কামনা করেন।
 
সমাপনী বক্তব্যে ডাসকো ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ বলেন, পরিবেশগত অধিকার নিশ্চিত করতে এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে সহনশীল কমিউনিটিতে রূপান্তর করতে স্থানীয় প্রশাসন ও সুশীল সমাজের এই যৌথ সংলাপ ও ধারাবাহিক তদারকি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

[blogger][facebook]

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

আজকের দেশ সংবাদ . Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget