সাপের লেজে পা দিয়ে ছেড়ে দেবেন না; ফলোআপ সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিকের গুরুত্বারোপ

ঢাকা, শনিবার, মে, ২০২৬ খ্রী: সাপের লেজে পা দিয়ে ছেড়ে দেবেন না। ছেড়ে দিলে আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এদের ছেড়ে দিতে নেই। আপনারা সাংবাদিক, প্রতিনিয়ত অন্যায় -অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছেন। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কলম চালিয়ে বন্ধ করা যাবেনা। স্পর্শকাতর এবং আলোচিত ঘটনা গুলো ফলোআপে রাখতে হবে। বিচারের কাঠগড়ায় এনে বিচার না হওয়া পর্যন্ত সংবাদের সাথে লেগে থাকতে হবে। প্রায় দেড় যুগের বেশি সময় ধরে ফলোআপ সংবাদ চোখে পড়েনা। অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে ফলোআপ সংবাদের দিকে পেশাদার সাংবাদিকদের আগ্রহ বাড়াতে হবে। সংবাদের ফলোআপ না থাকায় অপরাধীদের সাহস বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিকদের জাতীয় জোট এ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন-এ্যাবজার আহবায়ক বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর। তিনি শনিবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ফেনী সমিতির হলরুমে দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রার ৯ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা প্রতিনিধি সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। তিনি সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়ন, সাংবাদিক নিয়োগ নীতিমালা, সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন সহ ১৪ দফা দাবির পক্ষে সরকারের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চান। 



দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রার সম্পাদক কবি অশোক ধরের সভাপতিত্বে প্রতিনিধি সম্মেলন প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে মুক্ত গণমাধ্যম বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যারা সত্য প্রকাশ করবে তাদের উপর কোন ধরনের চাপ সৃষ্টি করা যাবেনা। রাজনৈতিক দল বা কোন ধরনের সরকারি সংস্থা হোক অথবা অন্য যে কেউই হোক তা থেকে বিরত থাকা উচিত। বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের প্রয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল পাশে থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করেছি। মুক্তিযুদ্ধ দিয়ে আমাদের শুরু মুক্তিযুদ্ধে আমাদের সবকিছু। আমরা দেখতে পাচ্ছি একটি গোষ্ঠী যারা এখনো অনেক সময় মুক্তিযুদ্ধকেই অস্বীকার করার মত দৃষ্টতা দেখাচ্ছে। এটার জন্য দায়ী সকলে এবং সার্বিকভাবে সকল রাষ্ট্রনৈতিক দলকে কমবেশি দায়ভার নিতে হবে। এখন আমাদের কাজ হচ্ছে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া এবং মুক্তিযুদ্ধকে মানবিক মর্যাদায় জাগিয়ে তোলা। 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটা শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চান। তার কারণ আমাদের অবস্থান আপনারা সকলেই জানেন। দেশের অস্তিত্বকে রক্ষা করতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।  

সম্মেলনের উদ্বোধন করেন সাবেক তথ্য সচিব সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ। 

বিশেষ অতিথি প্রশিক্ষক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, গ্রীণ ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক . মো: অলিউর রহমান, পিআইবির সাবেক পরিচালক মিজানুর রহমান, এ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অর্গানাইজেশনের আহবায়ক আহমেদ আবু জাফরএডিটরস ফোরামের মহাসচিব ওমর ফারুক জালাল, বাংলাদেশ সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান সাব্বির আহমেদ রনি, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুনসুরুল হক সোহান, এডভোকেট .আবু তাহের, বাংলাদেশ মানবাধিকার সমিতির মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈশা, জাগ্রত বাংলাদেশের রিফাত শিহাব উদ্দিন, মানবাধিকার খবরের সম্পাদক রোটা: রিয়াজ উদ্দিন।

প্রশিক্ষণ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রতিনিধি, পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।