নওগাঁয় স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর অভিযোগ ‘মিথ্যা ও সাজানো’


নওগাঁ প্রতিনিধিনওগাঁ ন্যাশনাল মডেল স্কুলের পরিচালক মো. শহীদ প্রামাণিকের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী শারমিন আক্তারের আনা অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাতের অভিযোগকেসম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতবলে দাবি করেছে তার পরিবার নিজ সন্তানরা।

গত ৩০ এপ্রিল শারমিন আক্তারের করা সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে পাল্টা বক্তব্যে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, প্রকৃত অর্থে শারমিন আক্তারই তার স্বামী সন্তানদের ওপর দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে অকথ্য নির্যাতন চালিয়ে আসছেন।

বক্তব্যে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন শারমিন আক্তারের নিজ সন্তানরা। বড় মেয়ে সানজিদা সাবিহা শিফা অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে জানান, "মা ছোটবেলা থেকেই বাবার ওপর মানসিক শারীরিক নির্যাতন করতেন। বাবার প্রতি রাগ মেটাতে তিনি আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তেন। মায়ের মারধরের কারণে আমার একটি দাঁত উপড়ে গিয়েছিল এবং ছোট ভাই শ্রেষ্ঠর চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি দেখেছি বাবা আমাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করতেন। কিন্তু পরিস্থিতি যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং নানার বাড়ির লোকজন বাবাকে ডিভোর্সের হুমকি দিচ্ছিল, তখন আমি নিজেই বাবাকে বলি এই প্রতিদিনের অশান্তি আর অত্যাচারের চেয়ে একবারে আলাদা হয়ে যাওয়া ভালো। বাবার এই অসহ্য যন্ত্রণাময় জীবন থেকে মুক্তি নিশ্চিত করতেই আমি তাকে ডিভোর্সের পরামর্শ দিয়েছি।“

শিফা আরও জানান, তার নানার বাড়ির লোকজন বাবাকে ডিভোর্স দেওয়ার জন্য হুমকি দিয়েছিলেন এবং তাদের উস্কানিতেই এই অশান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। সন্তানদের পড়াশোনা জানমালের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই মূলত তার বাবা ডিভোর্সের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।

ভুক্তভোগী স্বামী মো. শহীদ প্রামাণিক জানান, ২০০৮ সালে বিয়ের পর থেকেই শারমিন আক্তার তার পরিবার তার সহায়-সম্পত্তির ওপর নজর দেয়। নওগাঁ শহরের বাড়ি এবং গ্রামের পৈত্রিক সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়ার জন্য শারমিন তাকে প্রতিনিয়ত চাপ দিতেন। এতে ব্যর্থ হয়েই তিনি একের পর এক মিথ্যা নাটক সাজাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, "গত ২৫ মার্চ আমি তাকে আইনগতভাবে তালাক প্রদান করি। এর প্রতিশোধ নিতেই তিনি লক্ষ টাকার ভুয়া যৌতুক মামলা এবং সংবাদ সম্মেলন করে আমার মানহানি করছেন। অথচ বিয়ের সময় আমি তাকে মোহরানা পরিশোধ করে ঘরে তুলেছিলাম এবং তারা আমাকে কোনো টাকা বা ২০ ভরি গয়না দেয়নি; বরং শারমিন নিজেই বাড়ি থেকে গয়না নিয়ে চলে গেছেন।"

তিনি আরও বলেন, "একজন নিরপরাধ মানুষ হিসেবে আমি প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানাই যাতে পুরো বিষয়টি অত্যন্ত নিরপেক্ষ গভীরভাবে তদন্ত করা হয়। সত্য যেন সামনে আসে এবং আমি আমার সন্তানরা যেন এই হয়রানি থেকে মুক্তি পাই।"

শহীদ প্রামাণিকের মা শহীদা বেগম জানান, শারমিনের অস্বাভাবিক আচরণের কারণে এবং পরিবারের সম্মতিতে ২০১৩ সালে তার ছেলে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপরও শারমিনকে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হতো। কিন্তু শারমিনের মূল লক্ষ্য ছিল সম্পত্তি আত্মসাৎ করা।

স্থানীয় ন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষক এবং এলাকাবাসীরা শহীদ প্রামাণিককে একজন শান্ত ভদ্র মানুষ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, কোনো সাধারণ মানুষ হলে শারমিনের এই দীর্ঘকালীন টর্চার সহ্য করতে পারতেন না।

বর্তমানে লক্ষ টাকার কথিত যৌতুক মামলাটি চলমান রয়েছে এবং বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করছে। তবে নিজ সন্তানদের এমন সাহসী সত্য সাক্ষ্য পুরো ঘটনাকে নতুন দিকে মোড় দিয়েছে।