Latest Post
92 অন্যান্য 51 অর্থনীতি 24 আইন ও আদালত 76 আন্তর্জাতিক 613 এক ঝলক 3 কক্সবাজার 1 কবিতা 22 কিশোরগঞ্জ 4 কুড়িগ্রাম 6 কুমিল্লা 1 কুষ্টিয়া 3 কৃষি 107 কৃষি ও প্রকৃতি 10 ক্রিকেট 1 খাগড়াছড়ি 73 খেলাধুলা 49 গণমাধ্যম 12 গাইবান্ধা 1 গাজীপুর 17 চট্টগ্রাম 5 চাঁদপুর 5 চাঁপাইনবাবগঞ্জ 2 চুয়াডাঙ্গা 14 জয়পুরহাট 1 জাতীয় 3 জামালপুর 1 জোকস 6 ঝনিাইদহ 246 ঝালকাঠি 12 ঝিনাইদহ 4 টাঙ্গাইল 44 ঠাকুরগাঁও 39 ঢাকা 1 থী 4 দিনাজপুর 4807 দেশজুড়ে 42 ধর্ম 3437 নওগাঁ 14 নাটোর 2 নারায়ণগঞ্জ 1 নিহত ২ 1 নীলফামারীর 2 নেত্রকোনা 1 নোয়াখালী 3 পঞ্চগড় 4 পিরোজপু 2 প্রকৃতি 2807 প্রথম পাতা 23 প্রবাস 1 ফরিদপুর 17 ফিচার 8 ফুটবল 1 ফেনী 94 বগুড়া 2 বলিউড 58 বাগমারা 84 বিএমএসএফ 31 বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি 53 বিনোদন 51 বেনাপোল 2 ব্রাক্ষণবাড়িয়া 1 ব্রাহ্মণবাড়িয়া 51 ভিডিও 18 ভোলা 8 ভ্রমণ 59 ময়মুনসিংহ 1 মাগুরা 1 মাদারীপু 2 মাদারীপুর 1 মানিকগঞ্জ 1 মেহেরপুর 495 যশোর 5 রংপুর 103 রাজনীতি 3 রাজবাড়ী 95 রাজশাহী 3 লক্ষ্মীপুর 24 লাইফস্টাইল 2 লালমনিরহা 41 শিক্ষা 1 শ্রীপুর 891 সকল জেলা 2 সাতক্ষীরা 9 সিরাজগঞ্জ 3 সিলেট 63 সুনামগঞ্জ 31 স্বাস্থ্য 4 হবিগঞ্জ 1 হলিউড 10 bmsf

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) : দেশের পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ডামাডোল বাজতে শুরু করেছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে কয়েকটি ধাপে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ ঘোষণার পর থেকেই আসন্ন আত্রাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী মমতাজ বেগম নিয়মিত গনসংযোগ, পথসভা, উঠান বৈঠকসহ নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। 

নিজের অবস্থান আরো সুসংহত করতে তিনি প্রতিদিন সাধারণ মানুষের কাছে ছুটে চলেছেন। দিনরাত ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করে যাচ্ছেন। উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নে পথসভাও করতে দেখা গেছে তাকে। নিজের প্রার্থিতা জানান দিয়ে তিনি ওইসব এলাকার সাধারণ মানুষের সমর্থন ও দোয়া প্রার্থনা করছেন। এছাড়াও তিনি বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও আগামীতে আর কি কি হতে যাচ্ছে সেই বার্তাও পৌছে দিচ্ছেন।

ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মমতাজ বেগম বলেন, আমি আত্রাই উপজেলার উন্নয়নের মাধ্যমে জনগনের সেবা করেই বাঁকি জীবন বেঁচে থাকতে চাই। সমাজের অবহেলিত ও অধিকার বঞ্চিত সাধারণ মানুষের পার্শ্বে থেকে তাদের অধিকার আদায় ও সমাজের উন্নয়ন মূলক কাজ করে সব সময় জনগনের সেবা করতে চাই।

তিনি আরো বলেন, সমাজের অহেলিত ও নির্যাতিত নারী সমাজের পক্ষে কাজ করতে চাই। আমাদের সমাজ থেকে মাদক, সন্ত্রাস, বাল্যবিয়ে ও যৌতুক নামক ব্যধি মুক্ত করার জন্য কাজ করব। জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে নওগাঁর আত্রাই উপজেলা অসন থেকে নির্বাচন করতে চাই। আশা করি আমি নির্বাচন করলে বিপুল ভোটে জয়লাভ করতে পারবো। রাজনৈতিক-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে নিজেকে সব সময় জড়িত রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। দলীয় নেতাকর্মীদের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থেকে দলকে সংগঠিত করে আসছি। আমি ও আমার পরিবার উপজেলাবাসীর পাশে আগেও ছিলাম এখনও আছি এবং যতদিন বেঁচে আছি ততদিন থাকবো।

আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করার মধ্য দিয়ে এই উপজেলাকে একটি সুখি, সমৃদ্ধ ও মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আমি আশা করি আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এই উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবেন এবং শেখ হাসিনার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করার মধ্য দিয়ে এই উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সার্বিক সহযোগিতা করবেন। #

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন
বাবুল আকতার, সাপাহার (নওগাঁ): আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন-২০১৯ এর প্রথম ধাপে তফসীল ঘোষণার পর নওগাঁর সপাহার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সাপাহার উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শাহজাহান হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেছেন।
গত বুধবার সকাল ১১টায় উপজেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে জননেতা শাহজাহান হোসেন নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে উপস্তিত হয়ে তিনি উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ রেজাউল করিম এর নিকট থেকে মনোনয়ন ফরম গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য যে এবারে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান  আলহাজ্ব শামসুল আলম শাহ চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান হোসেন নির্বাচনে প্রতিদন্দিতার ঘোষনা দিলে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও নওগাাঁ- ১ এর এমপি মাননীয় খাদ্য মন্ত্রী বাবু সাধন চন্দ্র মজুমদারের উপস্থিতিতে ভোটের আগেই ভোট করে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচন করা হয়। এ সময় তৃনমুলের ভোটে সাধারন সম্পাদক শাহজাহান হোসেন জয়লাভ করেন। এর পর তিনি তৃন মুলের নেতা হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক গণ সংযোগ শুরু করেন। পরবর্তি সময়ে দলের হাই কমান্ড থেকে বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শামসুল আলম শাহ চৌধুর কে দলীয় ভাবে মনোনয়ন দেয়া হয়।  এ নিয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উৎকন্ঠা ও উত্তেজনাকর অবস্থার সৃষ্ঠি হয়। অপর দিকে তৃন মুলের দাবীর প্রেক্ষিতে উপজেলা আওয়ামীলীগের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন ও উপজেলার তৃণ মুল পর্যায়ের নেতাকর্মী,যুবলীগ,ছাত্রলীগ,শ্রমিকলীগ সহ স্থানীয় আওয়ামীলীগের নের্তৃবৃন্দ কে সঙ্গে নিয়ে উৎসব মুখর পরিবেশে বুধবার মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেন। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ আগামী ১৮ ফেব্র“য়ারী, বাছাই ২০ফেব্র“য়ারী, প্রত্যাহারের শেষ তারিখ আগামী ২৭ ফেব্র“য়ারী,আগামী ১৮ মার্চ ভোট গ্রহণ করা হবে।

জি,এম মিঠন, নওগাঁ জেলা: নওগাঁয় ক্যান্সার আক্রান্ত দুই সন্তানের জননী গৃহবধূ মাহমুদা বেগমকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন। ইতি মধ্যেই দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা করাতে গিয়ে জায়গাঁ জমি সর্বত্র বিক্রি করে গৃহবধূ মাহমুদা বেগম এর স্বামী ইদ্রিস আলী নিস্ব হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে স্ত্রীকে বাঁচাতে স্বামী ইদ্রিস আলী দিশেহারা হয়ে সমাজের দানশীল ব্যাক্তিদের সহযোগীতা কামনা করেছেন।
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার দরিয়াপুর গ্রামের দরিদ্র পরিবারের দুই সন্তানের জননী গৃহবধূ মাহমুদা বেগম (৩৫) আজ থেকে প্রায় ৫ বছর পূর্বে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে প্রথমে নওগাঁ ও পরে রাজশাহীতে চিকিৎসা করাকালেই পরীক্ষা অন্তে চিকিৎসকরা জানান, মাহমুদা বেগম স্তন ক্যান্সার এ আক্রান্ত। ফলে সে সময় থেকেই আজ প্রায় ৫ বছর ধরে তার স্বামী ইদ্রিস আলী স্ত্রী মাহমুদাকে বাঁচাতে চিকিৎসা চালিয়ে আসছেন।
এমনকি দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চালাতে গিয়ে ইতি মধ্যেই সম্পদ বলতে ইদ্রিস আলী তার একবিঘা জমি বিক্রি করা সহ সংসারের সব সহায়-সম্বল বিক্রি করেছেন এমনকি আত্বীয়-স্বজনদের কাছে ধারদেনা ও এনজিও থেকে ঋনের টাকা নিয়ে স্ত্রী মাহমুদাকে চিকিৎসা করিয়েছেন। 
ক্যান্সার মাহমুদা বেগমের স্বামী ইদ্রিস আলী কান্নাজরিত কন্ঠে জানান,স্ত্রী মাহমুদাকে বাঁচাতে তার চিকিৎসায় ইতি মধ্যেই আমার সহায় সম্পদ বলতে যা ছিল সবই বিক্রি করেছি এবং ধারদেনা ঋণ করেছি জানিয়ে তিনি আরো বলেন, উন্নত কেমো থেরাপীর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক, কিন্তু অর্থ অভাবে আমি আর চিকিৎসা করাতে পারছিনা এজন্য বিনা চিকিৎসায় স্ত্রী মাহমুদা বেগমকে বাড়িতে এনে রেখেছি।
ক্যান্সার আক্রান্ত দুই সন্তানের জননী মাহমুদা বেগমকে বাঁচাতে সমাজের দানবীর ব্যাক্তিবর্গ সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে চিকিৎসা সহযোগীতা কামনা করেছেন মাহমুদা বেগমের স্বামী ইদ্রিস আলী।
যোগাযোগ- ক্যান্সার আক্রান্ত মাহমুদা বেগমের স্বামী ইদ্রিস আলীর মোবাইল ফোন নাম্বার ০১৭৮৪-১২২৬১২।

মোঃ রাসেল ইসলাম,বেনাপোল(যশোর)প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মঙ্গলবার রাতে বিভিন্ন এলাকা থেকে একটি ওয়ান শুটারগান, ১ রাউন্ড গুলি, ২২৪ পিস ইয়াবা, ১৫৩ বোতল ফেন্সিডিল, ২শ গ্রাম গাজা ও ইজিবাইকসহ ১০ জনকে আটক করেছে।

আটককৃতরা হচ্ছে, শার্শা উপজেলার রামপুর গ্রামের মৃত মহিউদ্দীন বিশ্বাসের ছেলে কুখ্যাত মাদক ও অস্ত্রসহ একাধিক মামলার আসামি কবিরুল ইসলাম কবু (৪২), ঝিকরগাছা উপজেলা সংকরপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে আবুছার গাজী (৩৫), শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া গ্রামের কদর আলীর ছেলে আবুল কাশেম (২৭), অগ্রভুলোট গ্রামের বাদল গাজীর ছেলে শাহাদত হাজী (৪০), রৃদ্রপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ শেকরের ছেলে শরিফুল ইসলাম (২২), খাইরুল ইসলামের ছেলে সোহাগ (২২), ওবাইদুল ইসলামের ছেলে বাপ্পি (২০) আমলাই গ্রামের ভিম সিংহর ছেলে সঞ্জয় কুমার সিংহ (৩৫), কন্যাদহ গ্রামের আকরাম আলীর ছেলে তরিকুল ইসলাম (১৬) ও ঝিকরগাছা উপজেলার বোদখানা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে নুরুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।

 শার্শা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম মশিউর রহমান আমাদের প্রতিনিধি মোঃ রাসেল ইসলামকে জানান চোরাচালান প্রতিরোধ ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারে বিশেষ অভিযান কালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে একটি ওয়ান শুটারগান, ১ রাউন্ড গুলি, ২২৪ পিস ইয়াবা, ১৫৩ বোতল ফেন্সিডিল, ২শ গ্রাম গাজা ও ইজিবাইকসহ ১০ জনকে আটক করেছে।

এ ব্যাপারে আটককৃতদের নামে শার্শা থানা অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক মামলা হয়েছে।

মোঃ রাসেল ইসলাম,বেনাপোল(যশোর)প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলায় পুষ্টি সমম্বয় কমিটি’র দ্বি-মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বৃহস্প্রতিবার সকাল সাড়ে ১১টার সময় শার্শা উপজেলায় পুষ্টি সমম্বয় কমিটি’র দ্বি-মাসিক সভায় সভাপতিত্ব করেন শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পূলক কুমার ম-ল। এ সময় অন্যন্যাদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন,শার্শা উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান ,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আলেহা ফেরদৌস, শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমান, বেনাপোল পোর্ট থানার তদন্ত (ওসি) সৈয়দ আলমগীর হোসেন, শার্শা উপজেলার ভূমি সহকারী কমিশনার মৌসুমী জেরিন কান্তা, উপজেলা শিক্ষা অফিসার হাফিজুর রহমান, নিবার্চন কমিশনার কামরুজ্জামান, কৃষি অফিসার শ্রী সৌতম কুমার,সিনিয়র মৎস অফিসার আবুল হাসান,উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের সরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফ্ফর হোসেন, শার্শার ইউপি চেয়ারম্যান সোহারার হোসেন, বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, নিজামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ,গোগা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ, ডিহি ইউপি চেয়ারম্যান হোসেন আলীসহ উপজেলার সকল কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ : অামাদের বাংলাদেশে ভাষার মাস হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব পায় ফেব্রুয়ারি। এই মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাংলা দিন পঞ্জিকার ফাগুন মাসের আরম্ভ। ঋতুচক্রের শেষ ঋতু বসন্তেরও শুরু ফেব্রুয়ারিতেই। এই মাসে আরও যোগ হয়েছে ভালোবাসা দিবস নামের একটি দিন। বিশ্ব সংস্কৃতির অনুসরণে, অনুকরণে। ২১ ফেব্রুয়ারির মাত্র এক সপ্তাহ আগে ১৪ তারিখে এই দিবসটি খুব ঘটা করে আমাদের দেশে পালন করা হয়। এই দিনটি বর্তমানে আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডেও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। ফুল বেচাকেনা হয় এই ভালোবাসা দিবসে কয়েক কোটি টাকার। ভালোবাসার প্রতীক ফুল। ভালোবাসা দিবসে প্রিয় মানুষকে ফুল উপহার দিয়ে ভালোলাগা, ভালোবাসা ও পছন্দের গোপন বা প্রকাশ্য অনুভূতি জানান দেওয়া হয়। প্রিয়জনকে ফুল দিয়ে ভালোবাসার কথা জানানোই সর্বোত্তম উপায়, এর চেয়ে উৎকৃষ্ট ব্যবস্থা আর হতে পারে না। তবে ইদানীং সমাজে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন কাপড় দেওয়ার রীতিও। নারী-পুরুষের পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে জুতা স্যান্ডেল, অলঙ্কার কেনার সংস্কৃতি। বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার বিস্তৃত হয়েছে ভালোবাসা দিবস কেন্দ্র করে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত। অন্যদিকে জাতীয় গৌরব চেতনার ভিত্তি ভাষা শহিদ দিবস কেন্দ্র করে প্রকাশনা বাণিজ্য বলা যায় শুধুমাত্র রাজধানী শহর ঢাকা-কেন্দ্রিকই এখনও। গণমাধ্যমেও এই দুই দিবস উপলক্ষে বিপুল আয়োজন থাকে। বসন্ত বরণ উপলক্ষেও প্রচুর ফুল, পোশাক এবং আনুষঙ্গিক উপাদানের বেচাকেনা চলে। আর যাই হোক আমাদের অর্থনীতির এক বিরাট অংশ জুড়ে আছে এই দিবসগুলোর আনুষ্ঠানিকতা। ভালোবাসা দিবস আমাদের সংস্কৃতিতে আমদানিকৃত। কিন্তু বসন্ত এবং ভাষা শহিদ বা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস একান্তই আমাদের নিজস্ব, আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। ভালোবাসা দিবসও এখন আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিতে জায়গা করে নিয়েছে। ভালোবাসা দিবসের প্রাথমিক ইতিহাস যতটুকু জানা যায়, তা ছিল মূলত কৃষিব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। মনে করা হয়, প্রাচীন রোমকদের কোনও উৎসব আচার হতে ভালোবাসা দিবসের উৎপত্তি। এই উৎসব মূলত ফনাস নামের এক প্রকৃতি দেবতা-কেন্দ্রিক ছিল। প্রাথমিক উদ্দেশ্য শস্যক্ষেত্র ও পালিত পশু ইত্যাদির উর্বরতা বৃদ্ধি কামনা, পাশাপাশি জনগোষ্ঠীরও। পরবর্তীকালে সন্ত ভ্যালেন্টাইন নামের দুজন রোমক শহিদের স্মারক বার্ষিক ভোজনোৎসবের তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারির সঙ্গে যুক্ত হয়র ব্যাপকভাবে পালিত হতে থাকে। এই সন্ত দুজন তৃতীয় শতাব্দীতে জীবিত ছিলেন বলে বলা হলেও একবারে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা সম্ভব হয়নি। আরেক রকমের বিবরণে সন্ত ভ্যালেন্টাইনকে প্রেমিক সন্ত বা তাদের পৃষ্ঠপোষকরূপে ঐতিহ্যগতভাবে সম্মান করা হয়। কারাগারে আবদ্ধ দুই প্রেমিক-প্রেমিকার মিলনে সন্ত ভ্যালেন্টাইন বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন বলেও কোনও কোনও সূত্রে উল্লেখ দেখা যায়। দিনটি পালনে বিশেষ কিছু নিয়ম মেনে চলা হত আগে। তবে বর্তমানে সেই নিয়ম আর তেমন কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয় না। বরং বিষয়টি সর্বজনীন মর্যাদা পেয়েছে। ফেব্রুয়ারির ১৪ তারিখে পছন্দের পাত্রপাত্রীর নিকট উপহার সামগ্রী বা শুভেচ্ছাপত্র পাঠিয়ে দিনটি পালন করা হত। উপহারে ব্যবহৃত কার্ডটিই সাধারণত ভ্যালেন্টাইন নামে অভিহিত। কার্ডটি হৃদয় সংকেত বা ভালোবাসার প্রতীক চিত্র দিয়ে চিত্রিত বা অংকিত হয়। অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য পছন্দের পাত্রপাত্রীর নিকট প্রেরিত বার্তা বা উপহার ছদ্ম নামে পাঠানোর নিয়ম। প্রকৃত পরিচয় গোপন রাখা হলেও এখন আর তা অনুসরণ করা হয় না। বিজ্ঞানের প্রসার ও চর্চার ফলে সমাজ মানসের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক আদান-প্রদান এখন অত্যন্ত সহজ এবং বাধা-বিধির বাইরে। আমাদের সমাজে ভালোবাসা দিবসের আমদানি দশক দুয়েক আগে। মনে করা হয়, একটি বিশেষ উদ্দেশ্য সামনে রেখে এই দিবসটি সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছিল প্রাথমিক পর্যায়ে। শিক্ষা ব্যবস্থার নানারকম সংস্কারবাজির কারণে কয়েক প্রজন্ম নিজস্ব ঐতিহ্য সংস্কৃতি এবং জাতিগত অভ্যুদয়ের ইতিহাস সম্পর্কে ভুল বা খন্ডিত ধারণা লাভ করছিল। তেমন পরিবেশে যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে আত্মজিজ্ঞাসা বা আত্মপরিচয়ের কোনও আগ্রহ বা আকাংক্ষা ছিল না। ছিল না নিজ সংস্কৃতি চর্চার পৃষ্ঠপোষকতা। তাছাড়া আমরা ঔপনিবেশিক মানসিকতার শিক্ষায় সর্বদাই বিদেশ-বিজাতি-সংস্কৃতি তোষণে পোষণে, পালনে-লালনে এক পা নয় কয়েক পা এগিয়ে। যেখানে ভাষা আন্দোলনের মাসে আমাদের যুব সমাজের স্বজাতির ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে ব্যাপক অধ্যয়ন, চর্চা ও অনুশীলনের কথা; তেমন পরিস্থিতিতে তাদেরকে সেই পথে উৎসাহিত না করে একটি বিজাতীয় সংস্কৃতির আমদানি করে জাতীয় যুবমানসকে যে ভিন্ন পথে চালনা করার অসৎ উদ্দেশ্য ছিল, সে বিষয়ে সন্দেহ থাকার কোনও কারণ নেই। যারা ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করে বা ইংরেজি জানা বা বলা আভিজাত্যের অংশ মনে করে তারা বিষয়টি লুফে নিতে দেরি করে না। তাদের দেখাদেখি যুব সমাজের অন্য অংশও তা অনুসরণে অতি উৎসাহী হয়। ফলস্বরূপ আজকের বাংলাদেশে ভালোবাসা দিবসের জয়জয়কার। ঘটা করে পালিত হয়। এখন আর শুধু যুব সম্প্রদায়, প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যেই দিনটি পালন সীমাবদ্ধ নয়। নারীপুরুষ, বাবা-মা, ভাইবোন, আত্মীয় বন্ধু সবাই এই দিনটি পালন করে। তারপরও মানতে হবে এত চেষ্টা-অপচেষ্টার পরেও ভাষা শহিদের দিন বা মাসের মর্যাদা কোনও অংশেই কমেনি। যে বা যারা যে উদ্দেশ্যেই বিদেশের একটি প্রথা এদেশে চালুর চেষ্টা করেছে তা বলতে হবে ভিন্ন ফল দিয়েছে। একুশের মর্যাদা বা গুরুত্ব কমানোর অপচেষ্টা কোনও কাজেই আসেনি। 

যদিও এসব কথা অনালোচিতই রয়ে গেছে। তবে আলোচিত হওয়াই বোধ করি যুক্তিযুক্ত। একুশের শিক্ষা সেই যে বলা হয়- ‘একুশ মানে মাথা নত না করা’ সেই সত্য সেই শক্তি আবারও প্রমাণিত হয়, কোনও অপচেষ্টাই বাঙালির আত্মচেতনা দমিয়ে রাখতে পারবে না। সমস্ত অপশক্তির বিরুদ্ধে একুশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শেখায়। বাঙালির মাথা উঁচুই থাকবে যতদিন বাঙালি একুশের আদর্শ থেকে বিচ্যুত না হবে। ভালোবাসা দিবসের প্রধান উপাদান ফুল, একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা শহিদ দিবসেরও তাই। ফুল ভালোবাসার চিরন্তন প্রতীক। সর্বকালে সর্বসমাজে ফুল ভালোবাসতেই শেখায়। একুশেও ভালোবাসার কথাই শিক্ষা দেয়।

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

আজকের দেশ সংবাদ . Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget