Latest Post
92 অন্যান্য 51 অর্থনীতি 24 আইন ও আদালত 76 আন্তর্জাতিক 654 এক ঝলক 3 কক্সবাজার 1 কবিতা 22 কিশোরগঞ্জ 4 কুড়িগ্রাম 6 কুমিল্লা 1 কুষ্টিয়া 3 কৃষি 107 কৃষি ও প্রকৃতি 10 ক্রিকেট 1 খাগড়াছড়ি 73 খেলাধুলা 51 গণমাধ্যম 12 গাইবান্ধা 1 গাজীপুর 17 চট্টগ্রাম 5 চাঁদপুর 5 চাঁপাইনবাবগঞ্জ 2 চুয়াডাঙ্গা 14 জয়পুরহাট 2 জাতীয় 3 জামালপুর 1 জোকস 6 ঝনিাইদহ 246 ঝালকাঠি 12 ঝিনাইদহ 4 টাঙ্গাইল 44 ঠাকুরগাঁও 39 ঢাকা 1 থী 4 দিনাজপুর 4847 দেশজুড়ে 42 ধর্ম 3478 নওগাঁ 14 নাটোর 2 নারায়ণগঞ্জ 1 নিহত ২ 1 নীলফামারীর 2 নেত্রকোনা 1 নোয়াখালী 3 পঞ্চগড় 4 পিরোজপু 2 প্রকৃতি 2848 প্রথম পাতা 23 প্রবাস 1 ফরিদপুর 17 ফিচার 8 ফুটবল 1 ফেনী 94 বগুড়া 2 বলিউড 58 বাগমারা 87 বিএমএসএফ 31 বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি 53 বিনোদন 51 বেনাপোল 2 ব্রাক্ষণবাড়িয়া 1 ব্রাহ্মণবাড়িয়া 51 ভিডিও 18 ভোলা 8 ভ্রমণ 59 ময়মুনসিংহ 1 মাগুরা 1 মাদারীপু 2 মাদারীপুর 1 মানিকগঞ্জ 1 মেহেরপুর 495 যশোর 5 রংপুর 104 রাজনীতি 3 রাজবাড়ী 95 রাজশাহী 3 লক্ষ্মীপুর 24 লাইফস্টাইল 2 লালমনিরহা 41 শিক্ষা 1 শ্রীপুর 891 সকল জেলা 2 সাতক্ষীরা 9 সিরাজগঞ্জ 3 সিলেট 63 সুনামগঞ্জ 31 স্বাস্থ্য 4 হবিগঞ্জ 1 হলিউড 10 bmsf

নওগাঁয় আমন ধানে পোকার আক্রমন দিশেহারা কৃষক


নিজস্ব প্রতিবেদক, নওগাঁ : আমন ধানে পোকার আক্রমন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নওগাঁর কৃষকরা। কীটনাশক ব্যবহার করেও মিলছে না সমাধান। কৃষি বিভাগের লোক মাঠে না পেয়ে। বাধ্যহয়েই পরামর্শ নেওয়ার জন্য ছুটছেন কীনাশকের দোকানগুলোতে। কীটনাশক দোকানগুলো হাতে তুলে দিচ্ছেন নাম সর্বস্ব কোম্পানির ৪ থেকে ৫টি করে কীটনাশক ফাইল ও পাউডার। কৃষি বিভাগ কৃষকের মোবাইলে যোগাযোগ করতে অথবা লিখিত অভিযোগ করতে বলছেন।
কৃষি সম্প্রসারন অধিপ্তরের তথ্য মতে, চলতি আমন মৌসুমে জেলার ১১টি উপজেলায় মোট ১ লক্ষ ৯৭ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানে চাষ করা হয়েছে। তারমধ্য হাইব্রীড জাতের ২৫০ হেক্টর, উন্নত ফলনশীল (উফশী) জাতের ১ লক্ষ ৬৮ হাজার ১শ ৭০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ২৯ হাজার ৮০ হেক্টর।
পোরশা উপজেলার বাকইল গ্রামের কৃষক আব্দুস ছালাম ও হুমায়ন কবির বলেন, ৪ থেকে ৫ একর জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছি। ২ থেকে ৩ একর জমির ধান প্রায় নষ্ট হয়ে খড় হয়ে গেছে। কৃষি বিভাগের লোকজন এলাকায় না আসায় কারণে আমরা কোন পরামর্শ নিতে পারছি না। কীটনাশকের দোকানদারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষুধ স্প্রে করে কোন উপকারে আসছে না। এ রকম সমস্যা এই এলাকার অনেক কৃষকের।
নিয়ামতপুর উপজেলার চন্দননগর গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, ৯ বিঘা জমিতে স্বর্ণা-৫ জাতের ধানের চাষ করেছি। মাজরা পোকার আক্রমনে ধানের মুজি কেটে দিচ্ছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ না পেয়ে। দোকানে গেলে কাটটাপ গ্রুপের কিটনাশক ওষুধ স্প্রে করতে বলছে কিন্তু তাতে কোন লাভ হচ্ছে না। গোড় গামর হতে বসেছে ধান। এসময় পোকার আক্রমনে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি।
একই এলাকার কৃষক ফজলুল ও রশিদ বলেন, ২০ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছেন। ধান লাগানোর কিছু দিন পর থেকে মাজরা পোকার আক্রমন শুরু হয়। আক্রমনের পর থেকেই বিভিন্ন কোম্পানির ঔষুধ ব্যবহার করছি। ঔষুধ স্প্রে করলে এক সপ্তাহ ভালো থাকে তারপর আবার ধান মরতে শুরু হরে। কোম্পানির প্রতিনিধীরা যেসব ঔষুধ দিচ্ছে এমন ঔষুধ বাজারে আমরা কখনো দেখিনি।
মহাদেবপুর উপজেলার ইশ্বরপুর গ্রামের কৃষক শরিফ হোসেন ও আলীপুর গ্রামের ইয়াসিন আলীসহ এলাকার একাধীক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, আমন ধানে পোকার আক্রমনে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। কৃষি বিভাগের লোকজনদের মাঠে পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে কীটনাশক বিক্রেতাদের পরামর্শ নিয়ে ধানে ওষুধ স্প্রে করে কোন কাজ হচ্ছে না।
চকরাজা গ্রামের কৃষক সুলতান বলেন, ৪বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছি। প্রতি সপ্তাহে ধানে ওষূধ স্প্রে করি। আবহাওয়া কারণে মাঝ খানে একদিন ঔষুধ দিতে পারিনি। দুই দিন পরে এসে দেখি পোকার আক্রমনে অর্ধেক ধান মরে গেছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ না পেয়ে। দোকানে গেছে (মানজা প্লাস, সবিক্রন, এমিস্টার টপ ফাইল ও এসিকার পাউডার) চার প্রকার ঔষুধ দিয়ে স্প্রে করতে বলেন। চার বিঘা জমিতে একবার ঔষুধ স্প্রে করতে ৩ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।  
শ্যামপুর গ্রামের কৃষক সজিদ কুমার সাহা ও অখিল কুমার সাহা বলেন, আমন ধানের এবার মাজরা পোকার আক্রমন এমন ভাবে শুরু হয়েছে। তিন বার ঔষুধ স্প্রে করার পর পোকার আক্রমন থেকে ফসল রক্ষা করা যাচ্ছে না। আমাদের তিন ভাইয়ের দেড় বিঘা জমির ধানের আশা ছেড়েই দিয়েছি। লাগানো চাড়া সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে, নতুন করে ধানের গোড়া থেকে চারা গজিয়ে ফসল করার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।
মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অরুন চন্দ্র রায় বলেন, মাজরা পোকার আক্রমন ফসলকে বাঁচাতে আমরা ধানে পারচিং করতে বলছি। লাউটিং ও ভিরতাকো জাতীয় ওষুধ স্প্রে করলে সহজেই এ পোকার আক্রমন থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) কৃষিবিদ মো. শামছুল ওয়াদুদ বলেন, নওগাঁ জেলায় আমন ধানে কোথাও কোন প্রকার পোকার আক্রমন নেই। পোকার আক্রমন থাকলে কৃষককে আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করতে বলেন। কৃষি অফিসের লোকজনদের মাঠে পাওয়া যাচ্ছেনা এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন কৃষক যেন মোবাইল করে জানান তাহলে কৃষি অফিসের লোক গিয়ে পরামর্শ দিয়ে আসবে।

নওগাঁয় সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে দুঃস্থ পুরুষ ও নারীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান


নিজস্ব প্রতিবেদক, নওগাঁ :
নওগাঁয় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বিনামূল্যে দুঃস্থ পুরুষ ও নারীদের সামাজিক দূরুত¦ বজায় রেখে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়েছে। বুধবার সকাল ১১টা থেকে দিনব্যাপী ১০ বীর ১১ পদাতিক ডিভিশন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আয়োজনে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার গোবরচাঁপাহাট ডিগ্রী কজেল চত্ত্বরে প্রত্যন্ত এলাকার ০৫ শতাধিক দুঃস্থ পুরুষ ও নারীদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে সেনাবাহিনী। চিকিৎসা সেবা প্রদান কার্যক্রমরে উদ্বোধন করেন বগুড়া সেনাবাহিনীর ১০ বীর এর মেজর এম.কে হাবিব। এসময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া সেনাবাহিনীর ২১ ফিল্ড এ্যাম্বুলেন্স এর মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন আবিদ হাসান। উক্ত চিকিৎসা সেবা ক্যাম্পে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক দুঃস্থ পুরুষ ও নারীদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও ঔষুধ দেওয়া হয়। এসময় বগুড়া সেনানিবাস ১০বীর লেফটেনেন্ট সাকিব সহ সেনাবাহিনীর অন্যান্য সদস্য বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নওগাঁয় ১২শ’ কেজি চাল জব্দ, দোকানি খলিলুর পলাতক


 নওগাঁ : নওগাঁ সদরের মাদারমোল্লা বাজারে একটি মুদি দোকান ঘরের তালা ভেঙে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৪০ বস্তায় (৩০ কেজি ওজন) ১২শ’ কেজি চাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। ঘটনার পর থেকে দোকানি খলিলুর রহমান পলাতক রয়েছেন। চালগুলো জব্দ করার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মির্জা ইমাম উদ্দিন দোকানটিকে সিলগালা করে দেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সদর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের মাদারমোল্লা বাজারে খলিলুর রহমানের দোকান থেকে চালগুলো জব্দ করা হয়। খলিলুর রহমান সদর উপজেলার ইলশাবাড়ি গ্রামের মৃত সাবদুল হকের ছেলে।

সোমবার থেকে চন্ডিপুর ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজির চাল কার্ডধারীদের মাঝে বিক্রি শুরু হয়। ইউনিয়নের মাদারমোল্লা বাজারের ডিলার রুহুল আমিন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজির চাল কার্ডধারীদের মাঝে বিক্রি করেন। কিন্তু সুবিধাভোগীরা চাল উত্তোলন করার পর মুদি দোকানি খলিলুরের কাছে বিক্রি করে দেন। খলিলুর চালগুলো তার দোকানে রেখে তালাবদ্ধ করে রাখেন।

মঙ্গলবার বিকেলে গোপন সংবাদে উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে যায়। দোকান মালিক খলিলুরকে ফোন দিয়ে সাড়া না মিলায় তালা ভেঙে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৪০ বস্তা চাল উদ্ধার করে প্রশাসন।
নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মির্জা ইমাম উদ্দিন জানান, এই চালগুলো কেনা, বিক্রি এবং মজুদ করা সরকারি ভাবে দন্ডনীয়। দোকান ঘর থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালগুলো জব্দ এবং দোকানটি সিলগালা করা হয়েছে। তিনি ঘটনারপর থেকে পলাতক রয়েছেন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের প্রস্তুতি চলছে।

 

দেশে পর্যপ্ত খাদ্য মজুদ আছে। কোন চাল বা মিলা ব্যবসায়ী কারসাজি করে চালের দাম বৃাদ্ধ করলে কোন ছাড় দেওয়া হবে না-খাদ্যমন্ত্রী

নিজস্ব পতিবেদক : খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, দেশে পর্যন্ত খাদ্য রয়েছে। দেশে কোন খাদ্য ঘাটতি নেই। ভোক্ত-কৃষক সমস্বয় করে আমদানি নীতি করা হয়েছে। কোন চাল বা মিল ব্যবসায়ী নিজেদের স্বার্থে মুনাফা লুটে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোন রকম ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুশয়ারি উচ্চরণ করেন। আজ (২০সেপ্টেম্বর) দুপূরে সাপাহার উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত মাসিক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে খাদ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
নওগাঁর সাপাহারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কল্যাণ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান হোসেনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলাদেশের নয়, তিনি  সারাবিশ্বের সম্পদ -খাদ্যমন্ত্রী

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশে নয় সারা বিশ্বের অসংবাধিত নেতা ছিলেন এবং তার অমর বানীতে সকল বঙ্গালিরা মুক্তিযোদ্ধে ছাপিয়ে পড়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীতে সারাদেশে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর কর্ণার খুলার নির্দেশ রয়েছে ও উপজেলা পরিষদে বঙ্গবন্ধুর মুরাল তৈরীর করা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। বঙ্গবন্ধু শুধু আওয়মীলীগের সম্পদ না সারাদেশের ও সারাবিশ্বের সম্পদ। তিনি গতকাল শুক্রবার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু কর্নার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর কর্ণার ও তার জীবন উল্লেখ্য দেখে নতুন প্রজন্ম সকল দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে ও মাদক থেকে ফিরে এসে বঙ্গবন্ধুর এই আদর্শ এবং স্বাধীনতার পতাকা নিয়ে এগিয়ে যাবে।

এসময় জেলা প্রশাসক হারুন অর রশীদ, রাজশাহী বিভাগের আঞ্জলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক রায়হানুল কবির, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জিএম ফারুক হোসন পাটোয়ারী ও বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাইফুল ইসলামসহ খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে বৃক্ষ রোপন করেন মন্ত্রী।


নওগাঁয় শিক্ষকতার পাশাপাশি পেয়ারা চাষে লাভবান

নওগাঁ : নওগাঁর মান্দায় থাই পেয়ারার বাগান করে সফল হয়েছেন শামসুর রহমান। তিনি পেশায় শিক্ষক। উপজেলার গণেশপুর ইউনিয়নের গণেশপুর গ্রামে প্রায় ৫৫ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন মিষ্টি ও সুস্বাদু থাই পেয়ারার বাগান। প্রতিদিন তার বাগান থেকে প্রায় ৪০ মণের মতো পেয়ারা উঠানো হয়। এসব পেয়ারা নওগাঁসহ কয়েকটি জেলায় সরবরাহ করা হয়। এলাকায় তিনি একজন আদর্শ কৃষক হিসেবে পরিচিত। তিনি ‘সতিহাট কেটি উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে’ বাংলা বিভাগের শিক্ষক।
ছাত্রজীবন থেকে কৃষির সাথে সম্পৃক্ত শামসুর রহমান। পড়াশোনার পাশাপাশি ২০০২ সাল থেকে তিনি বিভিন্ন ধরনের ফলের চাষ করেন। ২০০২ সালে অন্যের কিছু জমি ইজারা নিয়ে প্রথমে শুরু করেন শবরি কলার আবাদ। এরপর সাগর কলা এবং সবশেষ চিনি চম্পা কলার চাষ করেন। কলা চাষে কিছুটা লাভ হলেও গাছে মোড়ক ধরায় লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় বেশি। ২০১১ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বগুড়া আজিজুল হক কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।
কলায় লোকসানের পর পাঁচ বছর আগে ১০ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে থাই পেয়ারার বাগান শুরু করেন। থাই পেয়ারা লাভজনক হওয়ায় জমির পরিমাণ বাড়তে থাকে। বর্তমানে ৫৫ বিঘা জমির ওপর পাঁচটি থাই পেয়ারার বাগান রয়েছে। প্রথম দিকে জমির ইজারা নিতে টাকার পরিমাণ কম থাকলেও বর্তমানে প্রতি বছর ১৬ হাজার টাকা বিঘা হিসেবে ইজারা নেয়া হয়েছে।
শিক্ষক শামসুর রহমান বলেন, ছাত্র জীবন থেকেই কৃষিতে সম্পৃক্ত। বিভিন্ন ফলের বাগান লাভজনক হওয়ায় কৃষিতে তিনি মনোনিবেশ করেন। পড়াশোনা শেষ করে গত পাঁচ বছর আগে অন্যের জমি ইজারা নিয়ে থাই পেয়ারার চাষ শুরু করেন। এ কাজে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করছেন স্ত্রী নূরী জান্নাত নেসা। জমি চাষ করে সরাসরি জমিতে চারা রোপণ করেন তিনি। প্রতি বিঘায় সারিবদ্ধভাবে নির্দিষ্ট দূরত্বে প্রায় ২০০-২৫০টি পেয়ারা চারা রোপণ করা হয়। পরে যখন চারা জমিতে লেগে যায় তারপর জৈবসার দেয়া হয়। বগুড়া, নাটোর ও চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে থাই পেয়ারার চারা সংগ্রহ করা হয়। প্রতিটি চারায় খরচ পড়েছিল ২০-৩০ টাকা।
 

 

নওগাঁয় শিক্ষকতার পাশাপাশি পেয়ারা চাষে লাভবান

প্রথম বছর প্রতি বিঘায় খরচ পড়ে প্রায় ৪০-৫০ হাজার টাকা। গাছ বড় হওয়ার পর দ্বিতীয় বছর খরচ কিছুটা বাড়ে। পেয়ারা লাগানোর ছয় মাস পর থেকে গাছে পেয়ারা আসা শুরু করে। গাছে যখন পেয়ারা আসা শুরু করে তখন অল্প পরিমাণ ওঠে। এরপর প্রতিদিন প্রায় ৩০-৪০ মণ উঠানো হয়। প্রতি মণে পাইকারি দাম পাওয়া যায় ১ হাজার ৬০০ টাকা। পাইকাররা এসে জমি থেকে কিনে নিয়ে যান। নওগাঁসহ কয়েকটি জেলায় সরবরাহ করা হয়। প্রতিদিন প্রায় ২০ জন শ্রমিক কাজ করেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কিছু জমিতে মাল্টা লাগাবেন।
তিনি আরো বলেন, নিজের তেমন জমিজমা নেই। অন্যের জমি ইজারা নিয়ে চাষাবাদ করা হয়। বগুড়া আজিজুল হক কলেজ থেকে ২০১১ সালে বাংলা বিভাগে অনার্স-মাস্টার্স করার পর কৃষিতে আরো বেশি মনোনিবেশ করেন। এরপর সতিহাট কেটি উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশে শিক্ষিত বেকারদের সংখ্যা বেশি। সবাই চাকরির পেছনে হন্য হয়ে ঘুরছে। যদি চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হয়ে কিছু করতে চায় তবে সফলতা আসবে বলে মনে করি।
বাগানে কাজ করা নিয়মিত শ্রমিক আজিজুল ও পারভেজ মোশারফসহ কয়েকজন বলেন, গত পাঁচ বছর থেকে তারা বাগানে নিয়মিত ২০-২৫ জন কাজ করছেন। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কাজ করে মজুরি পান ২৫০ টাকা। পেয়ারা বাগানে তারা সারা বছরই কাজ করতে পারেন। বাগানের ঘাস নিড়ানো থেকে শুরু করে পানি ও সার দেয়াসহ বিভিন্ন পরিচর্চা ও প্রতিদিন বাগান থেকে পেয়ারা উঠিয়ে প্যাকেটজাত করাই তাদের কাজ।
মান্দা উপজেলা কৃষি অফিসার রাকিবুল হাসান বলেন, বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আমার কাছে পরামর্শ নিতে এসেছিল। তাদের মিশ্র ফলের বাগানের বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেয়ারা, বিভিন্ন জাতের আম, ভিয়েতনাম নারকেল, বন সুন্দরী কুল, ড্রাগন ও মাল্টাসহ কয়েকটি ফলের বাগান করতে উদ্বৃদ্ধ করা হয়েছে। এতে করে সারা বছরই একটা আয় আসবে। শামসুর রহমানের পেয়ারা বাগানটি পরিদর্শন করা হয়েছে। তিনি সেদিক দিয়ে বেশ সফল। বিভিন্ন সময় মোবাইলে তিনি পরামর্শ নিয়ে থাকেন। কৃষি অফিস থেকে তাকে সহযোগিতা করা হচ্ছে। আমার মনে হয় চাকরির পেছনে না ছুটে যদি কেউ উদ্যোক্তা হন। বিশেষ করে মিশ্র ফলের বাগান করে শিক্ষিত সচেতন বেকাররা অবশ্যই সফল হবে। কেউ যদি আগ্রহি হন কৃষি অফিস থেকে তাকে সহযোগিতা করা হবে।

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

আজকের দেশ সংবাদ . Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget