Latest Post
92 অন্যান্য 51 অর্থনীতি 24 আইন ও আদালত 76 আন্তর্জাতিক 653 এক ঝলক 3 কক্সবাজার 1 কবিতা 22 কিশোরগঞ্জ 4 কুড়িগ্রাম 6 কুমিল্লা 1 কুষ্টিয়া 3 কৃষি 107 কৃষি ও প্রকৃতি 10 ক্রিকেট 1 খাগড়াছড়ি 73 খেলাধুলা 51 গণমাধ্যম 12 গাইবান্ধা 1 গাজীপুর 17 চট্টগ্রাম 5 চাঁদপুর 5 চাঁপাইনবাবগঞ্জ 2 চুয়াডাঙ্গা 14 জয়পুরহাট 2 জাতীয় 3 জামালপুর 1 জোকস 6 ঝনিাইদহ 246 ঝালকাঠি 12 ঝিনাইদহ 4 টাঙ্গাইল 44 ঠাকুরগাঁও 39 ঢাকা 1 থী 4 দিনাজপুর 4846 দেশজুড়ে 42 ধর্ম 3477 নওগাঁ 14 নাটোর 2 নারায়ণগঞ্জ 1 নিহত ২ 1 নীলফামারীর 2 নেত্রকোনা 1 নোয়াখালী 3 পঞ্চগড় 4 পিরোজপু 2 প্রকৃতি 2847 প্রথম পাতা 23 প্রবাস 1 ফরিদপুর 17 ফিচার 8 ফুটবল 1 ফেনী 94 বগুড়া 2 বলিউড 58 বাগমারা 87 বিএমএসএফ 31 বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি 53 বিনোদন 51 বেনাপোল 2 ব্রাক্ষণবাড়িয়া 1 ব্রাহ্মণবাড়িয়া 51 ভিডিও 18 ভোলা 8 ভ্রমণ 59 ময়মুনসিংহ 1 মাগুরা 1 মাদারীপু 2 মাদারীপুর 1 মানিকগঞ্জ 1 মেহেরপুর 495 যশোর 5 রংপুর 104 রাজনীতি 3 রাজবাড়ী 95 রাজশাহী 3 লক্ষ্মীপুর 24 লাইফস্টাইল 2 লালমনিরহা 41 শিক্ষা 1 শ্রীপুর 891 সকল জেলা 2 সাতক্ষীরা 9 সিরাজগঞ্জ 3 সিলেট 63 সুনামগঞ্জ 31 স্বাস্থ্য 4 হবিগঞ্জ 1 হলিউড 10 bmsf

নওগাঁর বদলগাছীতে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে করণীয় শীর্ষক সভা অনুষ্ঠিত
হাফিজার রহমান, বদলগাছী (নওগাঁ) সংবাদদাতা: নওগাঁর বদলগাছীতে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে করণীয় শীর্ষক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বদলগাছী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষকদের আয়োজনে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি  বিকাল ৩ টায় উপজেলার ঐতিহাসিক পাহাড়পুরে উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে উক্ত সভার আয়োজন করা হয়। বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুম আলী বেগ এর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ ছলিম উদ্দীন তরফদার (সেলিম)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আমিনুল ইসলাম মন্ডল, বদলগাছী উপজেলা আওয়ামীলীগ এর সাধারন সম্পাদক মোঃ আবু খালেদ(বুলু), বদলগাছী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আতাউর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ আব্দুর রউফ, ঢেকড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাজমা বেগম, সেনপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার মন্ডল প্রমূখ। এ সময় উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সকল ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে মধ্যাহ্ন ভোজের ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) : নওগাঁর আত্রাইয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার মার্তৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহর রাত ১২ টা ১ মিনিটে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পু®পস্তবক অর্পনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচী শুরু হয়। প্রথমে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ছানাউল ইসলাম পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে মহান ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় আত্রাই থানার ওসি মোবারক হোসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মমতাজ বেগম, ইউপি চেয়ারম্যান আক্কাস আলী, উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার ফজলুল হক, একাডেমিক সুপারভাইজার প্রদীপ কুমারসহ উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, আত্রাই বনিক সমিতি, আত্রাই প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সর্বস্তরের মানুষ পর্যায়ক্রমে শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। পরে মহান ভাষা শহীদদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন এবং তাদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। 

সকাল ৭টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি শোকর‌্যালী বের করা হয়। এতে বিভিন্ন রাজনীতিক, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। র‌্যালীটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ শহীদমিনার প্রাঙ্গনে এক সংক্ষিপ্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা বিয়াম ল্যাবরেটরী স্কুল ও কলেজে ২১শে বই মেলার উদ্বোধন করা হয়।
দিবসে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কালো পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। অন্যদিকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করা হয়।

নওগাঁর সাপাহারে আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা ও শহীদ দিবস পালিত
সাপাহার (নওগাঁ) : নওগাঁর সাপাহারে দিন ব্যাপী বিভিন্ন কর্মসুচী পালনের মধ্যে দিয়ে মহান ২১ ফেব্র“য়ারী শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃ ভাষা দিবস পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১২,০১ মিনিটে স্থানীয় শহীদ মিনারে পুস্পমাল্য অর্পনের মধ্যে দিয়ে সকল ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সকালে আনূষ্ঠানিক ভাবে জাতীয় ও কালো পতাকা উত্তোলন সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, রাজনৈতিক, পেশাজীবি সংগঠন ও সর্বস্তরের জন সাধারণের অংশ গ্রহনে একটি বিশাল প্রভাত ফেরী অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে নির্বাহী অফিসার কল্যাণ চৌধুরী'র সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় শহীদদের স্মরনে বিনম্্র শ্রদ্ধা নিবেদন করে বক্তব্য প্রদান করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি)সবুর আলী,কৃষি কর্মকর্তা মজিবুর রহমান,সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলহাজ্ব ওমর আলী,প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম,মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দুলাল আলম,ওসি তদন্ত মনিরুল ইসলাম প্রমূখ। অনুষ্ঠানের শেষার্ধে সাপাহার শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

নওগাঁর রাণীনগরে ধানের সঙ্গে শত্রুতা ॥ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা
আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ: নওগাঁর রাণীনগরে পূর্বশত্রুতার জেরে মৎসজীবীদের রোপনকৃত কয়েক বিঘা জমির ধান নষ্ট করেছে কতিপয় দুর্বৃত্তরা। উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের বিল মুনছুরে এ ঘটনাটি ঘটেছে। এঘটনায় রাণীনগর থানা ও উপজেলা ভ’মি অফিস বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা, উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের বিল মুনছুরের খাস জমি সরকারী চেকের মাধ্যমে হরিশপুর গ্রামের মৎসজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছে। চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ধান রোপনের পর নিয়মিত জমির পরিচর্যা করে আসছেন ভোগদখলকারীরা। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মিরাট উত্তরপাড়ার লোকজন বুধবার ও বৃহস্পতিবার সকালে রোপনকৃত কয়েক বিঘা জমির ধান পা দিয়ে মাড়িয়ে ও উপড়ে ফেলে নষ্ট করেছে। এতে করে ওই কৃষকরা আর্থিক ভাবে লোকসানের মুখে পড়েছে।

মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মাহফুজুল হকসহ স্থানীয়রা বলেন, উপজেলা মিরাট ইউনিয়নের বিল মুনছুরের খাস জমি সরকারী চেকের মাধ্যমে হরিশপুর গ্রামের মৎসজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে চাষ আবাদ করে আসছেন। চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ধান রোপনের পর নিয়মিত পরিচর্যা করে আসছিলেন এরই মধ্যে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মিরাট উত্তর পাড়া গ্রামের ইয়াদ আলীর ছেলে হানিফ, আফছারের ছেলে মান্নান, কলিমদ্দীনের ছেলে আনিছুর, মফিজের ছেলে মোফাজ্জল ও তার ভাই মুকুলসহ গ্রামের কতিপয় লোকজনরা প্রকাশ্যে রোপনকৃত কয়েক বিঘা জমির ধান পা দিয়ে মাড়িয়ে ও উপড়ে ফেলে নষ্ট করেছে। এবিষয়ে থানা ও উপজেলা ভ’মি অফিস বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছি।

রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএসএম সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এবিষয়ে আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সহকারি কমিশনার (ভ’মি) টুকটুক তালুকদার বলেন এই বিষয়ে আমি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। যারা বিলের আশেপাশে বসবাস করে তাদের জন্য অগ্রাধিকার রয়েছে। কিন্তু অন্য এলাকা থেকে এসে বিলের জমি দখল করে কেউ ব্যবহার করার অধিকার রাখে না। আর এটি সম্পন্ন সরকারি জায়গা। সরকার এখনো পর্যন্ত এই জমিগুলো কাউকে লিজ দেয় নাই। যদিও এর আগে লিজ দেওয়া হয়েছিলো তার মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। আমি সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবসে বেনাপোল নোম্যান্সল্যান্ড এলাকায় 
বসেছে দু‘বাংলার হাজার হাজার ভাষাপ্রেমী মানুষের মিলন মেলা  
দুই বাংলার মধ্যে কোন কাটাতারের বেড়া চাই না- পশ্চিমবঙ্গের খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী জ্যোতি প্রিয় মল্লিক
মোঃ রাসেল ইসলাম,বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: ‘একই আকাশ একই বাতাস, দুই বাংলার মানুষের ভাষা এক। একই নদী একই জল’ আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি বলে বাংলাদেশের মানুষের জন্য আমাদের প্রাণ কাঁদে। তাই তো বারবার ছুটে আসি দুই দেশের বাঙালী বাংলাভাষী মানুষের পাশে। ভাষা দিবস মিলিয়ে দিল ‘এপার-ওপার’। বাঁশের বেড়া উপেক্ষা করে ভাষার দাবিতে আন্দোলনে শহীদদের সম্মিলিত শ্রদ্ধা জানাল ভারত-বাংলাদেশ। ভৌগলিক সীমারেখা ভুলে কেবলমাত্র ভাষার টানে দু‘বাংলার মানুষ একই মঞ্চে গাইলেন বাংলার জয়গান। ”আমার প্রতিরোধ আমার সংগ্রাম আমার স্বাধীনতা আমার অধিকার আমার ৫২ আমার বর্নমালা” এই  শ্লোগানকে সামনে রেখে এপার ওপার দুই বাংলার একুশ উদযাপন পরিষদের আয়োজনে মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যৌথ ভাবে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে দিয়ে এবারও পালন করেছে এক সঙ্গে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে। বৃহস্পতিবার সকালে এভাবেই কাটালেন দুই বাংলার ‘বাংলা ভাষাভাষী’ মানুষ। সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে শহীদ বেদি ঢাকল ফুলের চাদরে।

বেনাপোল চেকপোস্ট নোম্যান্সল্যান্ডে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারো ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানানো হলো। মিষ্টি বিতরণ, আলোচনা আর গানে গানে মাতোয়ারা হলো দুই বাংলার একই আকাশ একই বাতাস। উভয় দেশের জনপ্রতিনিধিরা বলেন, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির কথা। এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে জড়ো হয়েছিল হাজার হাজার ভাষাপ্রেমী মানুষ। নেতাদের কণ্ঠে ছিল ভবিষ্যতে আরো বড় করে এক মঞ্চে একুশসহ অন্যান্য অনুষ্ঠান উদযাপনের প্রত্যাশা। উভয় দেশের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো শত:স্ফুর্তভাবে অংশ নেয় এ অনুষ্ঠানে। দু‘দেশের জাতীয় পতাকা, নানা রং এর ফেস্টুন, ব্যানার, প্লেকার্ড, আর ফুল দিয়ে বর্নিল সাজে সাজানো হয় নোম্যান্সল্যান্ড এলাকা। দু‘বাংলার মানুষের এ মিলন মেলায় উভয় দেশের সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে উৎসাহের সৃষ্টি হয়। প্রতি বছরই দুই বাংলার সীমান্তবর্তী এ অংশের বাসিন্দারা এক সাথে মিলিত হয়ে দিবসটি পালন করেন। তখন দুই দেশের সীমান্তের মধ্যবর্তী ওই স্থানে আবেগাপ¬ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। একে অপরকে আলিঙ্গন করে সকল ভেদাভেদ যেন ভুলে যায় কিছু সময়ের জন্য। ফুলের মালা ও জাতীয় পতাকা বিনিময় করে উভয় দেশের আবেগপ্রবণ অনেক মানুষ বাঙালীর নাড়ির টানে একজন অপরজনকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন। দুই বাংলার মানুষের মাঝে বসে এক মিলন মেলা। এ সময় পেট্রাপোল ও বেনাপোল চেকপোস্টে ঢল নামে হাজার হাজার মানুষের। ক্ষনিকের জন্য হলেও স্তব্ধ হয়ে যায় আন্তর্জাতিক সীমারেখা।

সকাল ১১ টায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী শ্রী জ্যোতি প্রিয় মল্লিক, বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস ও বনগাঁ পৌর মেয়র শংকর  আঢ্যর নেতৃত্বে ভারত থেকে আসা শতশত বাংলাভাষী মানুষ বাংলাদেশীদের ফুলের পাঁপড়ি ছিটিয়ে ও মিস্টি দিয়ে বরণ করে নেয় একে অপরকে। নোমান্সল্যান্ডে অস্থায়ী শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ভারতের পক্ষে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, বঁনগা লোকসভার সাংসদ শ্রীমত্যা মমতা ঠাকুর, উত্তর ২৪ পরগণা জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্রীমতি বীনা মন্ডল, বিধানসভা বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস ও বনগাঁও পৌর সভার মেয়র শংকর আঢ্য। বাংলাদেশের পক্ষে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্রাচার্য্য, যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শেখ আফিল উদ্দিন, কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরী, ৪৯ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর নজরুল ইসলাম, একুশ উদযাপন পরিষদের আহবায়ক উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মঞ্জু, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আলহাজ¦ নুরুজ্জামান।

ভাষা দিবসের মিলন মেলায় বিজিবি বিএসএফকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। এর পর দু’দেশের জাতীয় পতাকা উড়িয়ে হাজার হাজার ভাষাপ্রেমী মানুষ দিবসটি উদযাপন করে যৌথভাবে। এ সময় ভাষার টানে বাঙালির বাঁধন হারা আবেগের কাছে মিলে মিশে একাকার হয়ে যায় দু‘বাংলার মানুষ। এর মধ্য দিয়ে বোঝা গেল রফিক, শফিক, বরকত ও সালামের তরতাজা রক্ত বৃথা যায়নি। ভাষার আকর্ষণ ও বাঙালির নাড়ির টান যে কতটা আত্মিক ও প্রীতিময় হতে পারে তাও বুঝিয়ে দিল মহান একুশে ফেব্রুয়ারি। সেই সঙ্গে এপার-ওপার দুই বাংলার গণমানুষের ঢল ফের প্রমাণ করে দিলো দেশ ভাগ হলেও ভাগ হয়নি ভাষার। উভয় দেশের মধ্যকার সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি এখনো যে অটুট রয়েছে তাও বোঝা গেল অনুষ্ঠানে উপস্থিত দুই বাংলার অতিথিদের বক্তৃতায়। এরপর একুশ মঞ্চে উঠেন দু‘দেশের নেতৃবৃন্দ।

বেনাপোল একুশ উদযাপন পরিষদের আহবায়ক উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লি¬ক বলেন, আমি বাংলায় কথা বলি পুন: জন্মে আমি বাঙালী হয়ে জন্মাতে চাই। কাটাতারের বেড়া আমাদেরকে আটকাতে পারে কিন্ত আমাদের আবেগকে আটকাতে পারবে না। আমরা হয়ত থাকবো না। আগামীতে কোন কাটাতারের বেড়া থাকবে না। দু‘বাংলা এক হয়ে যাবে। দুই বাংলার কত বাঙালী জন্ম গ্রহণ করেছে সবাই বাংলায় কথা বলেন। দুই বাংলায় কত নামী দামি কবি সাহিত্যিক জন্মগ্রহণ করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কবি নজরুল ইসলাম, শরৎচন্দ্র চট্রোপাথ্যায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, স্বামী বিবেকানন্দ, রামকৃষ্ণ, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু, শেখ মুজিবর রহমান। ভাষার জন্য রফিক সালাম বরকত শফিক জীবন দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান নিজের জীবন দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করে একটি ভূখন্ড প্রতিষ্ঠা করেছেন। তারই যোগ্য কন্যা বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী আমাদের কাছের মানুষ। ভাষা আর স্বাধীনতার জন্য এত ত্যাগের নজির পৃথিবীতে অন্য কারোর নেই। ভাষার টানে আমরা বাংলাদেশে ছুটে এসেছি একুশ উদযাপন করতে। দু‘বাংলার মানুষ একসাথে মাতৃভাষা দিবস পালন করছি। দু‘বাংলার মানুষের মিলন মেলার মধ্য দিয়ে দু‘দেশের বন্ধুত্ব আরো সুদৃঢ় হবে। আগামীতে আরো বড় পরিসরে একুশে অনুষ্ঠান হবে বলে তিনি জানান।

তিনি সম্প্রতি ঢাকার চকবাজারে আগুনে পুড়ে ৮১ জনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন তাদের পাশে থাকতে না পারলেও দুর থেকে সমবেদনা জানাচ্ছি।

স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্রাচার্য্য বলেন, দুই বাংলার মানুষ আজ আমরা এক হয়েছি। ৫২ এর ভাষা আন্দোলন আমাদের অধিকার বোধের জম্ম দিয়েছিল। সালাম, বরকত, রফিক, শফিক জব্বারসহ হাজারো মানুষের রক্তের বিনিময়ে রাস্ট্রভাষার যে অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা বিশ্বে বিরল। পরবর্তীকালে স্বাধীনতা পেয়েছি ভারত বাংলাদেশের মানুষের রক্তের বিনিময়ে। আজকের সেই বাংলা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে সারা বিশ্বে। সেই চেতনার ধারাবাহিকতায় আজ দুই বাংলার বাঙালীরা এক মঞ্চে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্র বিকশিত হতে শুরু করেছে। ভাষা ও ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের দুই দেশের মধ্যে উপস্থিত সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের ভিতকে আরো শক্ত করবে।

মঞ্চে স্মৃতি চারণ করেন বাংলাদেশের ভাষা সৈনিক শামসুল হুদা। একুশের গানসহ বিভিন্ন ধরনের গান পরিবেশন করেন ভারতের সারেগামার বাংলাদেশের শিল্পী মাঈনুল আহসান নোবেল, পৌষালী ব্যানাজীসহ ভারত বাংলাদেশের শিল্পীরা।
 
ভাষা শহীদদের স্মরনে দু’বাংলার মানুষের সম্প্রতি আর ভালোবাসার বাধনকে আরো সুদৃঢ় করার প্রত্যয় নিয়ে শেষ হয় ভাষা প্রেমিদের মিলন মেলা। সমগ্র অনুষ্ঠানে নেয়া হয় নজিরবিহীন নিরাপত্তা। কড়াকড়ি আরোপ করা হয় দুই সীমান্তে। বেনাপোল পেট্রাপোল চেকপোস্টে যাতে কেউ প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য বিজিবি ও বিএসএফ অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে দুই সীমান্তে। সীমান্ত টপকে যাতে কেউ অবৈধভাবে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য বিজিবি ও বিএসএফ বাঁশের বেস্টনি দিয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলে। ২০০২ সাল থেকে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল চেকপোস্টের জিরো পয়েন্টে মাতৃভাষা দিবস পালন করে আসছে দু‘বাংলার মানুষ। এছাড়া আয়োজনস্থলে বর্ণমালা গ্যালারি, বইমেলা ও বাংলাদেশের একশ’ স্বেচ্চাসেবী স্বেচ্ছায় রক্ত দান করেন। যা ভাষা উৎসবকে প্রাণবন্ত এবং দুই বাংলার মানুষকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত করে।

নওগাঁয় রেড ক্রিসেন্ট মৌলিক ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষন সমাপনী ও সনদপত্র বিতরন
রেড ক্রিসেন্ট মৌলিক ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষন সমাপনী ও সনদপত্র বিতরন
নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁয় রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির উদ্যোগে ৩দিন ব্যাপী রেড ক্রিসেন্ট মৌলিক ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষন সমাপনী ও সনদপত্র বিতরন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কমিটির সভাপতি এ্যঠ:ি এ,কে,এম ফজলে রাব্বী বকু। বুধবার দুপুরে জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি মিলনায়তনে সমাপনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে জেলা কমিটির সহ-সভাপতি ও সাবেক এমপি শাহীন মনোয়ারা হক, সাধারন সম্পাদক ও পৌরসভার কাউন্সিলর এ,কে,এম নাজমুল হক মন্টু, কমিটির সদস্য দেওয়ান আলী আকবর, বিভাষ মজুমদার গোপাল, আকলিমা খাতুন, জাহাঙ্গীর আলম, ও ইউনিট অফিসার নাজমুল আলম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। পরে প্রধান অতিথি ৫টি কলেজের ২৫ জন ছাত্র-ছাত্রীকে সনদপত্র বিতরন করেন।

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

আজকের দেশ সংবাদ . Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget