আজকের দেশ সংবাদ ডেস্ক: আওয়ামীলীগ কখনো চোরাপথ বা অন্ধকার পথ দিয়ে ক্ষমতায় আসেনা বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন।
আজ রোববার দুপুরে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আওয়ামীলীগ একটি গণতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশের মানুষকে সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে এই দলের জন্ম। আজকে তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দেশের উন্নয়ন করে যাচ্ছেন তখন একটি দল হিংসায় পুরে যাচ্ছে। তারা যে কোন একটু ইস্যু তৈরি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তাই এদেরকে মোকাবেলা করতে সবাইকে ঐক্যবন্ধ থাকার আহবান জানান তিনি।
একই অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, আমরা সবাই একেক জন বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। এদেশে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়। আজকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতেৃত্বে দেশ উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। তাই এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সকল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সম্মলনের উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক। প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। মহাদেবপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দিন তরফদারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবদুল আওয়াল, শহীদুজ্জামান সরকার এমপিসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। পরে পুনরায় সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দিন তরফদারকে সভাপতি ও আহসান হাবিব ভোদনকে সাধারন সম্পাদক ঘোষনা করে আংশিক কমিটি ঘোষনা করা হয়।
রিপোর্ট : তৌফিক আহম্মেদ
নওগাঁ ।
আজকের দেশ সংবাদ ডেস্ক : ঝালকাঠি মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের মাদক বিরোধী অভিযানে স্কুলশিক্ষক সাইফুলের কাছ থেকে বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে ঐ শিক্ষককে আটক করে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর। পরে তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করা হলে ভ্রাম্যমান আদালতে তাকে ১বছরের কারাদন্ড সহ ৫০ হাজার টাকার জরিমানা করা হয়।
এ বিষয় ঝালকাঠি জেলা মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের পরিচালক মোঃ আব্দুল কাদের বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি শহরের ব্রাক মোড়স্থ তুষা -তকি প্লাজার নিচতলায় নেছারাবাদ ফার্মা থেকে দীর্ঘদিন ধরে ভায়াগ্রা, প্যাথেডিন সহ নেশাজাতীয় বিভিন্ন সিরাপ বিক্রি করে আসছিলো। তারই সূত্র ধরে আজ বুধবার বিকেল আনুমানিক চারটায় ঝালকাঠির মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দোকানের মালিক দক্ষিণ পিপলিতা জোড়া পোল এলাকার বাসিন্দা মৃত নুর মহম্মদ এর পুত্র সাইফুল ( ৪২)কে আটক করে। পরে দক্ষিণ পিপলিতা গ্রামে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান ভায়াগ্রা ,প্যাথেডিন সহ নেশাজাতীয় বিভিন্ন সিরাপ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। আটককৃত মাদক ব্যবসায়ীর নিজবাড়ী কীর্তিপাশা বেশাইন খান গ্রামে। যার আনুমানিক পাইকারি বাজার মূল্য ৬০ হাজার টাকা। আটককৃত সাইফুল দীর্ঘদিন ধরে ঝালকাঠিতে পাইকারি ও খুচরা এইসব মাদক দ্রব্য বিক্রি করে আসছিলেন।
আটককৃত মাদক ব্যবসায়ী ঔষধ ব্যবসার নামে ঝালকাঠি ব্র্যাক মোড়ে নেছারাবাদ ফার্মা নামের একটি ঔষধের দোকান রয়েছে। সেই দোকানেও বৈধ কোন কাগজ ছিল না। আটককৃত সাইফুল স্বরূপকাঠি আতা নিম্ন মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক বলেও জানা যায়। পরে আটককৃত মাদক ব্যবসায়ীকে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অং ছিং মারমা এর ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ করা হলে উদ্ধারকৃত মাদক জব্দ পূর্বক ভ্রাম্যমান আদালতের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং এক বছরের কারাদন্ড প্রদান করেন এবং আটককৃত মাদক ব্যবসায়ীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে আটককৃত মাদক ব্যবসায়ীর স্ত্রী আদালতে নগদ ৫০হাজার টাকা বুজিয়ে দিয়েছেন।
রিপোর্ট : ইমাম বিমান
সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার ৮ই মার্চ আউচপাড়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের রক্ষিতপাড়া গ্রামে স্কুল মোড়ে গভীর রাতে চায়ের দোকানের চুলার আগুন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে দুটি চায়ের দোকান ও তিনটি ইলেকট্রনিক দোকানসহ ৫টি দোকান ঘর পুড়ে ভূষ্মিভূত হয়।
হঠাৎ করে এমন আগুনের তীব্রতায় এলাকাবাসী চরম হতভম্ব। আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ার কারণে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করলো ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এব্যাপারে স্থানীয় এলাকাবাসীসহ দোকান মালিকের সাথে কথা বলে জানা যায়, হঠাৎ করে গভীর রাতে এমন আগুনের সূত্রপাতের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে সব কয়েকটি দোকান ঘর পুড়ে প্রায় আনুমানিক ১০/১৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এই ক্ষতি সাধিত হওয়ার ফলে দোকান মালিকেরা অসহায় পড়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ডিএম সাফিকুল ইসলাম সাফির কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, গভীর রাতে হঠাৎ করে এমন অগ্নিপাতের কারণে স্থানীয় দোকানদারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে যা অপূরণীয়। তিনি আরও বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাড়াঁনোর জন্য আমার পক্ষ থেকে সকল প্রকার সাহায্য সহযোগিতা থাকবে।
আজকের দেশ সংবাদ ডেস্ক : নওগাঁর সাপাহারে গরু চুরি করে পালানোর সময় পুলিশের অভিযানে আন্তঃবিভাগীয় ডাকাত দলের দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলো সাপাহার উপজেলার ধবলডাঙ্গা গ্রামের মৃত নুরমোহাম্মাদের ছেলে ও আন্তঃবিভাগীয় কুখ্যাত ডাকাত আলম (৪৫) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার মশরীভোজা গ্রামের বোধন মন্ডলের ছেলে পালাশ (৪০)।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারেকুর রহমান সরকার জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ওই দুই ডাকাত সদস্যদের আটক করা হয়। ওই দিন রাত ১২টার সময় উপজেলার পালপাড়া গ্রামের অনিল চন্দ্র পালের ছেলে ও অনিক ড্রাগ হাউজের মালিক অনিক পাল তার দোকান বন্ধ করে নিজ বাসায় ফিরছিলো। অনিক তার বাড়ী নিকট পৌঁছলে একদল ডাকাত তার পথ রোধ করে দাঁড়ায়। এসময় ডাকাতদের হাতে থাকা হাসুয়া দিয়ে অনিকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। আঘাত পেয়ে অনিক চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন বেরিয়ে আসে। লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা পালিয়ে যায়। এসময় স্থানীয়রা অনিককে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। বিষয়টি সাপাহার থানা পুলিশকে জানান স্থানীয়রা।
সংবাদ পেয়ে ওসি তারেকুর রহমান ও তদন্ত ওসি আলমাহমুদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গোপনে অভিযান পরিচালনা করেন। এমতাবস্থায় রাত্রি ৩টার দিকে ডাকাত দলের সদস্যরা উপজেলার উঁচাডাঙ্গা গ্রাম হতে একটি গরু ও একটি বাইসাইকেল ডাকাতি করে ভুটভুটিতে উঠিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি জানতে পেরে টহলরত পুলিশ পিক-আপ ভ্যান দিয়ে তাদের ভুটভুটির পথ রোধ করে। ডাকাত সদস্যরা পুলিশ ভ্যানকে ধাক্কা দিয়ে পালাবার চেষ্টা করলে ভুটভুটি উল্টে যায়। ভুটভুটিতে থাকা ডাকাত দলের সদস্যরা দিক বিদিক ছুটে পালাতে চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের পিছু ধাওয়া করে। ভুটভুটির আঘাতে আহত ডাকাত পলাশকে ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্র ১টি হাসুয়া ১টি শাবল ও ১টি সুচালো লোহার রড সহ তাকে আটক করে। অপর কুখ্যাত ডাকাত আলম পায়ে আঘাত পেয়েও দৌড়ে গিয়ে তাজপুর গ্রামের একটি পুকুরে ঝাপ দেয়। এসময় পুলিশের দল পানি হতে তাকে তুলতে ব্যর্থ হলে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দে তাজপুর গ্রামের জনগন জেগে যায়। পরে সাধারণ লোকজন ও পুলিশ সদস্যারা সারা পুকুরটিকে ঘিরে ফেলে ডাকাত আলমকে পুকুর থেকে তোলার চেষ্টা করে। পুলিশ ও জনগনের সকল চেষ্টা ব্যার্থ হলে পুলিশের দুইজন কনষ্টবল পুকুরে নেমে আলমকে ধরে উপরে তোলেন। তাদেরকে আহত অবস্থায় সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়। আটক আলম ও পলাশের দেয়া তথ্য মতে আরও দুইজন সদস্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এবিষয়ে সাপাহার থানায় একটি মামলা দায়ের প্রস্ততি চলছে বলেও জানান অফিসার ইনচার্জ তারেকুর রহমান সরকার।