সালমান ফার্সী (সজল) নওগাঁ : নওগাঁয় যমুনা ব্যাংকের অর্থায়নে করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়া পরিবারের মধ্যে আর্থিক প্রনোদনা বিতরন করা হয়েছে। নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শনিবার (২২ মে) বেলা ১২টায় সদর উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলার বিভিন্ন পেশাজীবি ১০০ পরিবারের মধ্যে এই প্রনোদনা বিতরন করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহবানে সাড়া দিয়ে যমুনা ব্যাংকের উদ্যোগে দেশব্যপী প্রনোদনা বিতরনের অংশ হিসেবে নওগাঁয় এই প্রনোদনা বিতরন করা হয়। নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর্জা ইমাম উদ্দিন। জেলা প্রশাসক মোঃ হারুন-অর-রশীদ এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যমুনা বাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান পরিচালক বেলকন কোম্পানী লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ বেলাল হোসেন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নওগাঁ জেলা ইউনিট কমান্ডার মোঃ হারুন-অল-রশিদ এবং নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি বিশ্বজিৎ সরকার মণি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। করেনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া পরিবহন শ্রমিক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, মুক্তিযোদ্ধা, নাপিত, শিল্পীসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার একশ পরিবারের মধ্যে এই প্রনোদনা বিতরন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রত্যেক পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ৫ লক্ষ নগদ টাকা বিতরন করা হয়।
জানা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের ইস্যুকৃত পাসপোর্টের প্রথম পৃষ্ঠায় লেখা ছিল ‘দিস পাসপোর্ট ইজ ভ্যালিড ফর অল কান্ট্রিজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড এক্সসেপ্ট ইসরাইল’ (বিশ্বের যেকোনো দেশের জন্য এই পাসপোর্ট কার্যকর থাকবে, শুধু ইসরাইল ছাড়া)। অর্থাৎ বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী কোনো ব্যক্তি শুধু ইসরাইল ব্যতিরেকে বিশ্বের যেকোনো দেশ ভ্রমণ করতে পারবেন।
যদিও বর্তমানে নতুন ইস্যু করা ও মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট নবায়নের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়ার বিষয়টি দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি এমন বেশকিছু অভিযোগ এসেছে শেয়ার বিজের কাছে। পাসপোর্ট গ্রহণকারীরা জানান, গত ঈদুল ফিতরের পর থেকে ইস্যু করা নতুন ই-পাসপোর্টে লেখা রয়েছে ‘দিস পাসপোর্ট ইজ ভ্যালিড ফর অল কান্ট্রিজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড’। এখানে ‘এক্সসেপ্ট ইসরাইল’ শব্দ দুটি নেই। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
নতুন পাসপোর্ট পাওয়া আরিফ হাসান (ছদ্মনাম) শেয়ার বিজকে জানান, সম্প্রতি তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তিনজনের
ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ঈদুল ফিতরের আগে সে নিজের পাসপোর্ট পান। আর ঈদের পরে তার মা ও ছোট ভাই পাসপোর্ট পেয়েছেন। তার পাসপোর্ট আগের মতোই থাকলেও ঈদের পরে পাওয়া পাসপোর্ট দুটিতে ‘এক্সসেপ্ট ইসরাইল’ শব্দ দুটি লেখা নেই। তিনি এ বিষয়ে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গেও কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পাসপোর্টে ‘এক্সসেপ্ট ইসরাইল’ না থাকলেও কোনো সমস্যা হবে না।
পাসপোর্ট থেকে ইসরাইল ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি তুলে নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি গতকাল শেয়ার বিজকে বলেন, ‘ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক আগে যেরকম ছিল এখনও তা-ই থাকবে। তবে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে আমরা পাসপোর্টে এক্সসেপ্ট ইসরাইল শব্দ দুটি তুলে দিচ্ছি।’
জানা গেছে, মুসলিম বিশ্বের দেশ হওয়ায় বাংলাদেশ অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) সদস্য রাষ্ট্র। আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইসরাইল ও ফিলিস্তিন ইস্যুটি এখনও অমীমাংসিত রয়েছে। তাই স্বাধীনতার পর থেকেই ফিলিস্তিনের পক্ষ নেয় বাংলাদেশ। এজন্য ইসরাইলের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। এতে ইসরাইলের সঙ্গে কোনো প্রকার বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কও নেই। দেশটির সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যও করতে পারেন না বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা।
যদিও ফিলিস্তিনে সাম্প্রতিক ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি ফিলিস্তিনের পক্ষে বাংলাদেশ তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে।
জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশ যেহেতু ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়নি, তাই পাসপোর্টে এ কথাটি লেখা হয়। তবে পাসপোর্ট ইস্যু করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয়। কাজেই এক্সসেপ্ট ইসরাইল শব্দ দুটি কেন তুলে দেয়া হলো এ বিষয়ে তারাই ভালো বলতে পারবে।’ তবে বাংলাদেশ এখনও ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়নি বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
প্রসঙ্গত, ইসরাইলের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় ঢাকায় তাদের দূতাবাসও নেই। কিন্তু ফিলিস্তিনের পক্ষে থাকায় ঢাকায় ফিলিস্তিনের দূতাবাস স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে ঢাকার ফিলিস্তিন দূতাবাসের হেড অব দ্য মিশন হচ্ছেন ইউসুফ সালেহ রমাদান।
ফিলিস্তিনের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ইসরাইলের হামলায় আহত ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় বাংলাদেশ চিকিৎসকদের একটি দল পাঠায় ১৯৭৩ সালে। সেই থেকে ফিলিস্তিনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের যাত্রা শুরু হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৪ সালে ওআইসির অধিবেশনের এক ফাঁকে বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের পক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ফিলিস্তিনের পক্ষে ইয়াসির আরাফাত নেতৃত্ব দেন। ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দানকারী বিশ্বের ১৩৭টি রাষ্ট্রের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম |
তৌফিক আহম্মেদ (তাপস)
লেখক, কলামিষ্ট
![]() |
| ফাইল ছবি |
পেশাগত দায়িত্বপালনের ক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহ কখনো চুরি হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া।
তিনি বলেছেন, ‘সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা, পাঁচ ঘণ্টা আটক রেখে নির্যাতন, গ্রেফতার এবং মামলার ঘটনায় রাষ্ট্রের ভয়ঙ্কর চিত্র প্রকাশিত হয়েছে। এ ধরনের নির্যাতন সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণে সরকারের অপকৌশল। এমন পরিস্থিতিতে দুর্নীতিবাজ আমলাদের বিরুদ্ধে হুঙ্কারের জন্য সংগ্রামী নেতা শফিউল আলম প্রধানের মতো সাহসী নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা জাতি উপলব্ধি করছে।’
শুক্রবার (২১ মে) নয়াপল্টনের যাদু মিয়া মিলনায়তনে প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ শফিউল আলম প্রধানের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি ও নাগরিক স্মরণ মঞ্চ আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ন্যাপ মহাসচিব বলেন, ‘সচিবালয়ে লুটপাট ও দুর্নীতির চিত্র প্রকাশ করার জন্য রোজিনা ইসলামকে নির্যাতন করা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং গণমাধ্যমকে সরকারের কুক্ষিগত করার অপপ্রয়াস। অবিলম্বে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে মুক্তি দিতে হবে। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘করোনাকালে মাস্ক, পিপিই, হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ক্রয়ে যে দুর্নীতি হয়েছে তা অনুসন্ধানী প্রতিদেকরাই জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। আবার করোনা টিকা আমদানি করে একটি কোম্পানি ইতোমধ্যেই পঞ্চাশ কোটি টাকা লোপাট করেছে। বর্তমানে টিকা আমদানিতে কী হচ্ছে দেশবাসী তা জানে না। রোজিনা ইসলাম তার পেশার স্বার্থেই তথ্য সংগ্রহ করেছেন। জাতিকে জানাতে এবং দেশের স্বার্থেই তিনি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তথ্য সংগ্রহ কখনো চুরি হতে পারে না।’
জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসার সভাপতিত্বে আলোচনায় আরও অংশগ্রহণ করেন- বাংলাদেশ লেবার পার্টি চেয়ারম্যান হামদুল্লাহ আল মেহেদী, গণতান্ত্রিক ঐক্যের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, জাতীয় কৃষক-শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন সমন্বয়কারী কৃষক মো. মহসীন ভুঁইয়া, তৃণমূল নাগরিক আন্দোলন সভাপতি মুহম্মদ মফিজুর রহমান লিটন, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির ব্যাপারী, যুব শক্তির আহ্বায়ক হানিফ বাংলাদেশি, সাংবাদিক মারুফ সরকার প্রমুখ।
source: https://www.jagonews24.com