Latest Post
92 অন্যান্য 51 অর্থনীতি 24 আইন ও আদালত 76 আন্তর্জাতিক 613 এক ঝলক 3 কক্সবাজার 1 কবিতা 22 কিশোরগঞ্জ 4 কুড়িগ্রাম 6 কুমিল্লা 1 কুষ্টিয়া 3 কৃষি 107 কৃষি ও প্রকৃতি 10 ক্রিকেট 1 খাগড়াছড়ি 73 খেলাধুলা 49 গণমাধ্যম 12 গাইবান্ধা 1 গাজীপুর 17 চট্টগ্রাম 5 চাঁদপুর 5 চাঁপাইনবাবগঞ্জ 2 চুয়াডাঙ্গা 14 জয়পুরহাট 1 জাতীয় 3 জামালপুর 1 জোকস 6 ঝনিাইদহ 246 ঝালকাঠি 12 ঝিনাইদহ 4 টাঙ্গাইল 44 ঠাকুরগাঁও 39 ঢাকা 1 থী 4 দিনাজপুর 4807 দেশজুড়ে 42 ধর্ম 3437 নওগাঁ 14 নাটোর 2 নারায়ণগঞ্জ 1 নিহত ২ 1 নীলফামারীর 2 নেত্রকোনা 1 নোয়াখালী 3 পঞ্চগড় 4 পিরোজপু 2 প্রকৃতি 2807 প্রথম পাতা 23 প্রবাস 1 ফরিদপুর 17 ফিচার 8 ফুটবল 1 ফেনী 94 বগুড়া 2 বলিউড 58 বাগমারা 84 বিএমএসএফ 31 বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি 53 বিনোদন 51 বেনাপোল 2 ব্রাক্ষণবাড়িয়া 1 ব্রাহ্মণবাড়িয়া 51 ভিডিও 18 ভোলা 8 ভ্রমণ 59 ময়মুনসিংহ 1 মাগুরা 1 মাদারীপু 2 মাদারীপুর 1 মানিকগঞ্জ 1 মেহেরপুর 495 যশোর 5 রংপুর 103 রাজনীতি 3 রাজবাড়ী 95 রাজশাহী 3 লক্ষ্মীপুর 24 লাইফস্টাইল 2 লালমনিরহা 41 শিক্ষা 1 শ্রীপুর 891 সকল জেলা 2 সাতক্ষীরা 9 সিরাজগঞ্জ 3 সিলেট 63 সুনামগঞ্জ 31 স্বাস্থ্য 4 হবিগঞ্জ 1 হলিউড 10 bmsf

 

নওগাঁর চুন্ডিপুর গঙ্গাকান্দী জিন্দাপীর তলা ব্রীজ এখন মরণ ফাঁদ

নিউজ ডেস্ক :  নওগাঁর চুন্ডিপুর দুদুর মোড় থেকে ত্রীমোহনী যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটিতে গঙ্গাকান্দী জিন্দাপীর তলা বিধ্বস্ত এই ব্রিজটির একদম বিকলাবস্থা না থাকায় চলাচলের যেকোন সময়ে ঘটতে পারে প্রাণহানির মতো দুর্ঘটনা। 


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজের উপরের সিমেন্টের তৈরি পাটা ধসে যাওয়ায় এ রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন রিকশা ভ্যান, নসিমন-করিমন পিকাপভ্যানসহ অন্যান্য গাড়ি গুলো অনেক সময় ঝুঁকি নিয়েই পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন চালকরা।

ব্রিজটির বেহাল দশা প্রায় এক বছর যাবত। ব্রিজের উপরের পাটা ধসে পড়ায় স্থানীয় সরকার বিভাগ তেমন কোনো তৎপরতা না থাকায় নওগাঁ সদর চুন্ডিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেদারুল ইসলাম মুকুল নিজ অর্থায়নে সিমেন্ট বালু দিয়ে সাময়িকভাবে মেরামত করে দেন। কিন্তু যোগাযোগের তাগিদে প্রতিনিয়ত ব্রিজ দিয়ে যানবাহন চলাচলের কারণে এখন ভাঙনের পরিমান আরও বেড়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বেলাল হোসেন বলেন, অনেক দিন আগে নির্মিত এই সেতুটি ভালোই ছিলো কিন্তু এক বছর হয়েছে ব্রিজ মাঝস্তর কিছু অংশ ধসে পরেছে, ব্রিজটি মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরের কোনো মাথা ব্যাথাই নেই। মেরামত হবে কিনা তাও জানা নেই।

এই বিষয়ে চুন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেদারুল ইসলাম মুকুল বলেন, আমি নিজ উদ্যগে স্থানীয় লোকজন নিয়ে কিছু অংশ মেরামত করেছি ভারী ভারী যানবাহন চলাচল করার কারণে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ব্রীজ বিষয়ে উপজেলা সমন্বয় মিটিংয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ব্রিজটির বিষয়ে দ্রুত একটা উদ্যোগ নেওয়র অনুরোধ জানিয়েছি। 

এই ব্যাপারে নওগাঁ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা প্রকশৌলী ইমতিয়াজ জাহিরুল হক বলেন, ব্রীজ টি অনেক পুরাতন  ১৯৬২সালের তৈরী এই কারণে ব্রীজটি ভেঙ্গে নতুন করে ব্রীজ তৈরীর বিষয়ে ক্ষুদ্র আকার পানি ব্যাবস্থপনা সম্পদ বিভাগে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যে কোন সময়ে অনুমোদন হলে নতুন করে সুইচ গেট সহ ব্রীজ তৈরী করা হবে।

নওগাঁয় সাংবাদিক রোজিনার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

 

পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় প্রথম আলোর জ্যৈষ্ঠ প্রতিবেদক (সাংবাদিক) রোজিনা ইসলামকে শারীরিক ভাবে নির্যাতনকারী স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী জেবুন্নেসা বেগম এবং স্বাস্থ্য খাতে লুটপাটকারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং নিঃশর্তে রোজিনার মুক্তির দাবিতে নওগাঁয় সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৯ মে) সকাল ১০ টায় মুক্তির মোড়ে নওগাঁ জেলা টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের উদ্যোগে এই কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। টলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি সাদেকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এম আর রকি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন নবী বেলাল, বাসদের নওগাঁ সমন্বয়ক জয়নাল আবেদিন মুকুল, অর্থ সম্পাদক তন্ময় ভৌমিক। সকাল ১১ টায় মুক্তির মোড়ে সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক এর উদ্যোগে এই কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক এর সভাপতি মো: মোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন নবী বেলাল ও অদিবাসী জননেতা জয়নাল আবেদিন। এবং দুপুরে নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাব কার্যালয়ের সামনে জেলা প্রেস ক্লাবের আয়োজনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি বিশ্বজিৎ সরকার মনি। কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মীর মোশাররফ হোসেন, সিনিয়র সাংবাদিক নবির উদ্দিন, কায়েস উদ্দিন প্রমূখ।

ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা যাবে না রাজস্ব আদায়ে
নিউজ ডেস্ক : রাজস্ব আদায়ে ব্যবসায়ীদের কোনো প্রকার হয়রানি করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের নবনির্বাচিত সভাপতি জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‌‘করোনা মহামারির মধ্যে দেশের ব্যবসায়ীসমাজ কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে আসছে বাজেটে কর নিয়ে এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া যাবে না, যা ব্যবসায়ীদের কাছে হয়রানিমূলক মনে হয়।’

বুধবার (১৯ মে) রাতে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে গুলশানে বেঙ্গল কর্মাশিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু সহ-সভাপতি এম এ মোমেন, হাবিব উল্লাহ ডন, আমিন হেলালী ও আমিনুল হক শামিম, সংগঠনটির সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সাবেক সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিনসহ নবনির্বাচিত পরিচালকরা।

 

প্রতিটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করেছে করোনাভাইরাস

নিজস্ব ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘করোনা মহামারি বিশ্বের প্রতিটি দেশের আর্থসামাজিক ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করেছে। এ বিপর্যয় থেকে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশসহ সকল দেশই সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই, আপনারা মেট্রোলজি সংস্থাগুলোতে বিনিয়োগ করুন, নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে সেবার মানোন্নয়ন ঘটান। আমাদের সরকার বর্তমান সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মান সংস্থাগুলোর কর্মপরিধি ও সেবার মনোন্নয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’

বৃহস্পতিবার (২০ মে ) ‘বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস’ ২০২১ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) উদ্যোগে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও এ বছর বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস উদযাপিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। ওজন ও পরিমাপ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা- BIPM (International Bureau of Weights and Measures) এবং BIML (International Bureau of Legal Metrology) এ বছর বিশ্ব মেট্রোলজি দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে- ‘Measurement for Health’ অর্থাৎ ‘সুস্বাস্থ্যের জন্য পরিমাপ’। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের পরিমাপগুলোর গুরুত্ব সম্পর্কে এবং সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়াসে প্রতিপাদ্যটি অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে।

সাংবাদিক রোজিনার ভার্চুয়াল আদালতে জামিন শুনানি আজ

 নিউজ ডেস্ক : চুরি ও অফিসিয়াল সিক্রেটস আইনে করা মামলায় মঙ্গলবার (১৮ মে) থেকে কারাগারে বন্দি রয়েছেন দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলাম। আজ বৃহস্পতিবার (২০ মে) সকালে ঢাকা মহানগর হাকিম বাকী বিল্লার ভার্চুয়াল আদালতে তার জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এদিন তিনি জামিন পাবেন বলে আশা করছেন তার আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার।

রোজিনার আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সঠিক তথ্য প্রকাশে বাধা নেই। তথ্য প্রকাশ সুরক্ষা আইন-২০১১-এর ৪ ধারায় জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সঠিক তথ্য যে কেউ প্রকাশ করতে পারবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি নিয়ে ইতোপূর্বে যে প্রতিবেদন করেছেন তা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট। রোজিনা ইসলাম একজন পেশাদার নারী সাংবাদিক। তার বিরুদ্ধে যে ধারায় মামলা করা হয়েছে তা অনাকাঙ্ক্ষিত। রোজিনা ইসলামের একটি শিশু সন্তান রয়েছে, তা ছাড়া তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। সবদিক বিবেচনা করে আমরা আশা করছি, বৃহস্পতিবার রোজিনা ইসলাম আইনগতভাবে জামিন পাবেন।’

এর আগে মঙ্গলবার (১৮ মে) রোজিনা ইসলামের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে তার জামিন শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার (২০ মে) দিন ধার্য করেন আদালত।

এদিন সকালে তাকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুর রহমান সরদার। অপরদিকে তার আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকর্তার তার জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তার রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তার জামিন শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন আদালত।

এরপর রোজিনার আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার তার চিকিৎসার জন্য আবেদন করেন। আদালত কারাবিধি অনুযায়ী তার চিকিৎসার জন্য নির্দেশ দেন। এরপর প্রিজনভ্যানে তাকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই রয়েছেন।

রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে সোমবার (১৭ মে) রাতে শাহবাগ থানায় মামলা করা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি করেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব ডা. মো. শিব্বির আহমেদ উসমানী।

সচিবালয়ে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার পর সোমবার রাত ৯টার দিকে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে শাহবাগ থানায় আনা হয়। তার বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া মোবাইল ফোনে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথির ছবি তোলা এবং আরও কিছু নথি লুকিয়ে রাখার অভিযোগ এনেছে মন্ত্রণালয়।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের নেপথ্যে কি আছে !
ইজরায়েলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ কোনটি? এই প্রশ্নের উত্তর মোটামুটি সবারই জানা- যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের ইহুদিবাদী দেশটির সকল বিপদের সঙ্গীও মার্কিনরা।ইজরায়েল সৃষ্টির পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আর্থিক সাহায্য দিয়েছে। পাশাপাশি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ওঠা যেকোনো নিন্দা অথবা শাস্তির প্রস্তাব আটকে দিতেও বরাবরই তৎপর যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র যতবার ভেটো দিয়েছে, তার অর্ধেকই ইজরায়েলের জন্য!

কিন্তু কেন? যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কী কারণে ইজরায়েলকে অন্য সব দেশের চেয়ে আলাদা নজরে দেখে? এসব প্রশ্নের উত্তর জানার আগে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েল কখন কীভাবে একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠল- সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টান : আমেরিকার ইসরাইলের প্রতি সমর্থনের মূল কারণ খুব সম্ভবত এর ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টান সম্প্রদায়। ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টান সম্প্রদায় হলো আমেরিকার সবচেয়ে বড় একক ধর্মীয় গোষ্ঠী যারা আমেরিকার মোট জনসংখ্যার ২৬ শতাংশ এবং মূলত দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে বাস করে।

ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টানদের ইজরাইলের কট্টর সমর্থক হওয়ার কারণ তারা মনে করে ইহুদিরা জেরুজালেমে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত পৃথিবীতে যিশুখ্রিস্টের পুনরাগমন হবে না। মুসলিমদের মত এরাও যিশুখ্রিস্টের পুনরুত্থানে বিশ্বাসী। যীশু খ্রীষ্ট নাকি পুনরায় পৃথিবীতে এসে আরমাগেডনের যুদ্ধে শয়তানকে পরাজিত করবে এবং ইহুদিরা খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করবে। এরপর এক হাজার বছর পৃথিবীতে শান্তি বিরাজ করবে। এই বিশ্বাসের কারণে ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টানেরা সবসময়ই ইসরাইলে ইহুদি বসতি স্থাপনের কট্টর সমর্থক এবং লবিং এর মাধ্যমে আমেরিকার রাজনীতিবিদদের উপর চাপ সৃষ্টি করে ইজরায়েলকে সমর্থন যোগানোর।

ইজরায়েল পন্থী লবিং : ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টানদের পাশাপাশি বিভিন্ন ইজরাইলপন্থী ইহুদি লবিং গ্রুপও সক্রিয় রয়েছে আমেরিকার ইসরাইলপন্থী নীতি গ্রহণের জন্য। ইজরাইল পন্থী লবিং গ্রুপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল American_Israel_Public...  বা সংক্ষেপে


যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের নেপথ্যে কি আছে !
আইপ্যাক যারা মূলত সিনেটর প্রার্থীদের রাজনৈতিক ক্যাম্পেইনে অর্থের যোগানের মাধ্যমে তাদের ইসরাইলকে সমর্থন জোগাতে বাধ্য করে। আইপ্যাক সরাসরি সিনেটরদের টাকা দেয় না তারা বরং ইসরাইলপন্থী ধনাঢ্য ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটির মাধ্যমে কংগ্রেসের সদস্য হতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের টাকা দেয় এই শর্তে যে তাদের ইসরাইলপন্থী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ব্যাপারটা আরেকটু খোলাসা করে বলা যাক, প্রতিবছর আইপ্যাকের বার্ষিক নীতিমালা নির্ধারণী কনফারেন্স যে হল রুমে বসে তার পাশের রুম গুলোতেই ধনাঢ্য দাতা এবং আইপ্যাক সমর্থিত নির্বাচনী প্রার্থীদের ডেকে আনা হয় কথা বলার জন্য। পাশের রুম গুলোর কার্যকলাপ সরাসরি আইপ্যাকের নামে পরিচালিত হয় না, সুতরাং এভাবে ইসরাইলপন্থী কংগ্রেস প্রার্থীদের অর্থের যোগান দেওয়াতে আইপ্যাকের ঘাড়ে দোষ পরে না।


আইপ্যাকের কংগ্রেসের উপর এতটাই প্রভাব যে এই ওপেন সিক্রেট নিয়ে কথা বলাও এক রকমের অপরাধ। এই বছরের শুরুর দিকে সোমালিয়ান বংশোদ্ভূত মার্কিন রিপ্রেজেন্টিভ ওমর ইলহান আইপ্যাকের লবিং নিয়ে কথা বললে তাকে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হতে হয়। তাকে ঢালাওভাবে "ইহুদি বিদ্বেষী" তকমা দেওয়া হয় এবং কংগ্রেসে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। যেভাবে ডেমোক্রেট এবং রিপাবলিকান উভয় পক্ষের কংগ্রেসম্যানেরাই তার পিছনে উঠে পড়ে লেগেছিল তাতেই প্রমাণিত আমেরিকার সিনেটে ইসরাইলি লবিং এর প্রভাব কতটা বেশি।


ইন্টেলিজেন্স শেয়ারিং: ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এবং ইসরাইলের সাইবার নিরাপত্তা প্রদানকারী সংস্থা ইউনিট ৮২০০ হল বিশ্বসেরা যাদের সাথে কাজ করে আমেরিকা উপকৃত হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে আমেরিকায় সক্রিয় থাকা এক হিজবুল্লাহ সদস্যকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য মোসাদের আমেরিকার সিআইএ' সাথে ইন্টেলিজেন্স শেয়ারিং। এমনকি টুইন টাওয়ারে হামলার পূর্বাভাসও নাকি মোসাদ দিতে সক্ষম হয়েছিল। আর  Operation_Diamond এর কথা তো না বললেই নয় যেখানে ইজরাইলের মোসাদ ইরাকি বিমান বাহিনী হতে একটি মিগ-২১ চুরি করে এনে আমেরিকার হাতে তুলে দেয়। ইসরাইল এবং আমেরিকা এই প্লেনের খুঁটিনাটি জেনে নেয়। কৃতজ্ঞতা স্বরূপ আমেরিকা ইসরাইলকে নিজের তৈরি এফ আর ফ্যান্টম যুদ্ধবিমান ব্যবহার করার সুযোগ দেয়।


সাইবার ইন্টেলিজেন্স নিয়ে কথা বললে বলা যায় আমেরিকার সাইবার ইন্টেলিজেন্স নিয়ে কাজ করা এনএসএ এবং ইজরাইলের ইউনিট ৮২০০ মিলে Stuxnet নামে একটি ম্যালওয়ার তৈরি করে ইরানের নিউক্লিয়ার প্রোগ্রামের গতি শ্লথ করে দিতে। ইউনিট ৮২০০ তে কাজ করা অনেক যুবকই পরে সিলিকন ভ্যালিতে বিভিন্ন নামিদামি আইটি কোম্পানি খুলেছে (এমনকি আপনার ভাইবারও তাদের তৈরি) এটাও আমেরিকার ইজরায়েলের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার একটি বড় কারণ।


আমেরিকার অস্ত্র পরীক্ষাগার : ইজরাইল আমেরিকার তৈরি অস্ত্রগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে কতটা পারফর্ম করবে তা পরীক্ষা করে দেওয়ার সুযোগ করে দেয় বিশেষ করে রাশিয়ার তৈরি অস্ত্রের বিরুদ্ধে। স্নায়ুযুদ্ধের সময় ইসরাইল ছিল মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মিত্র। মিশর, লেবানন, সিরিয়ার সাথে ইজরাইলের সামরিক সংঘাত লেগেই থাকত যারা সোভিয়েত ইউনিয়নের তৈরি অস্ত্র ব্যবহার করতো। মধ্যপ্রাচ্যে সোভিয়েত ইউনিয়নের মিত্রদের ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি আমেরিকায় প্রস্তুতকৃত অস্ত্র সোভিয়েত ইউনিয়নের অস্ত্রকে কতটা কাউন্টার দিতে পারবে তা পরীক্ষা করার বড় সুযোগ ইজরাইল এনে দিয়েছিল।


ইসরাইলি প্রযুক্তি : আমেরিকা তার উন্নয়নের জন্য ইসরাইলি টেকনোলজির উপর নির্ভর করে। মাইক্রোসফট, আইবিএম, ইন্টেলের প্রধান প্রধান অনেক রিসার্চ এবং ডেভেলপমেন্ট সেন্টার ইজরাইলে রয়েছে। ইন্টেলের মাইক্রোপ্রসেসর উন্নয়নে ইজরায়েলি বিজ্ঞানীদের অসাধারণ অবদান রয়েছে। একটি মরুভূমি প্রধান দেশ হিসেবে ইজরাইল যেভাবে ড্রিপ সেচ, পানিকে আর্সেনিক এবং লবণমুক্ত করা সহ আরো বিভিন্ন টেকনোলজি আবিষ্কার করেছে তা আমেরিকা তার টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়ার মত মরু প্রধান উত্তপ্ত অঞ্চলগুলোতে কাজে লাগায়। ব্রাইটসোর্স ইন্ডাস্ট্রিস নামে একটি আমেরিকান কোম্পানি ইসরাইলি টেকনোলজি ব্যবহার করে সোলার প্যানেল তৈরি করছে যা আমেরিকার সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন দ্বিগুণ করে দিবে।


গণতন্ত্র : শুধু ইসরাইলপন্থী আমেরিকানদের নয় অন্যান্য গণতান্ত্রিক পাশ্চাত্য দেশের নাগরিকদেরও বলতে শুনেছি ইসরাইল হল আরব দেশের শরিয়া আইন দ্বারা বেষ্টিত (যা তাদের দৃষ্টিতে খারাপ), সন্ত্রাসী কবলিত অঞ্চলে একমাত্র গণতন্ত্র এবং শান্তির দিশারী। ইসরাইল ঠিক আমেরিকার মতোই জুডিও-ক্রিশ্চিয়ান মূল্যবোধের উপর গড়ে উঠেছে। একই সাথে এটি একটি গণতান্ত্রিক দেশও বটে যখন মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলো হয় স্বৈরতন্ত্র, রাজতন্ত্র বা অর্ধ গণতান্ত্রিক দেশ। ইজরায়েল পন্থী আমেরিকানদের অনেককেই ইসরাইলকে সমর্থন করার কারণ হিসেবে এই ব্যাপারটি উল্লেখ করতে দেখেছি তবে আমেরিকার রাষ্ট্র নীতিতে এর প্রভাব কতটা আমার জানা নেই কারণ আমেরিকা বছরের পর বছর ধরে নিজ স্বার্থে অনেক রাজতন্ত্র, স্বৈরশাসকদের পৃষ্ঠপোষকতা করে এসেছে।


আমেরিকান ইহুদি গোষ্ঠী : এটা কারোরই অজানা নয় যে ইহুদীরা সংখ্যায় খুব কম হওয়া সত্বেও অত্যন্ত ধনী এবং মেধাবী। বিশ্ব জনসংখ্যার দশমিক শতাংশ হওয়া সত্বেও নোবেল পুরস্কারের ২০ শতাংশই পেয়েছে ইহুদিরা। আমেরিকার ৪০০ বিলিয়নিয়ারের ৩৫% বিলিনিয়রই ইহুদি যদিও তারা সংখ্যায় আমেরিকার জনসংখ্যার দুই শতাংশেরও কম। অবশ্য বর্তমানের মার্কিনী ইহুদিরা ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক রক্ষায় আমেরিকার ওপর খুব চাপ প্রয়োগ করছে কিনা তা নিয়ে আমি নিশ্চিত নই। আমেরিকার ইহুদিদের সিংহভাগই ডেমোক্রেটকে ভোট দেয় যারা রিপাবলিকানদের তুলনায় তুলনামূলক কম ইসরাইলপন্থী। পিউ রিসার্চ অনুযায়ী আমেরিকান ইহুদিদের ৪০ শতাংশের মত মনে করে ইসরাইল প্যালেস্টাইনে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করছে। নতুন প্রজন্মের ইহুদিদের মধ্যে তীব্র ইজরাইলপ্রেম তুলনামূলক কম দেখা যায়। তবে এটা ধরে নেওয়া রিস্কি কিছু নয় যে আমেরিকার প্রভাবশালী ইহুদি সম্প্রদায় আমেরিকার ইসরাইলকে সমর্থন যোগানোর একটি মূল কারণ।


মুসলিম বিদ্বেষ : এসকল কারণ ছাড়াও আরেকটা ব্যাপার মাথায় আসছে তা হল মার্কিনীদের ইসলাম বিদ্বেষ। শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু বলে তো একটা কথা আছে, বিভিন্ন উগ্রপন্থী ইসলামিক গোষ্ঠী যেমন আইএস, তালেবান, আল-কায়েদার কারণে মুসলিমদের সম্পর্কে আমেরিকায় খুবই নেতিবাচক মনোভাব বিদ্যমান। যেহেতু ইসরাইল মুসলিমদের একটি শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচিত হয় তাই সাধারণভাবেই আমেরিকার জনসাধারণ ইজরায়েলের পক্ষালম্বন করে।



মোদ্দা কথা বলতে গেলে আমেরিকা ইসরাইলের সম্পর্ক এত ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণ সেই অঞ্চলের জিওপলিটিক্স। ইসরাইল প্যালেস্টাইন সংকটের কারণে খুব দ্রুতই ইজরায়েলের আমেরিকার প্রভাব বলয় হতে বেরিয়ে যাবার কোন সম্ভাবনা নেই, আর এই সমস্যার সমাধান হলেও যে দুই দেশের সম্পর্কে খুব একটা পরিবর্তন আসবে তা আমি মনে করি না। কারণ হিসেবে বলবো উভয় দেশের কমন মূল্যবোধ এবং প্রযুক্তি নির্ভরতা যেখানে আরবদেশগুলো রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল এবং আমেরিকার সাথে সম্পর্ক ভালো রাখার ক্ষেত্রে অনেকটাই নিজেদের তৈল সম্পদের উপর নির্ভরশীল যার কোনটাই স্থায়ী নয়। তবে আমেরিকার ইসরাইলকে চির সমর্থন যোগানোর কারণ হিসেবে ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টানেরা এবং আইপ্যাকের লবিংই মূল ভূমিকা পালন করছে।

 

তথ্য সূত্র: ইন্টারনেট

লেখক ,

তৌফিক আহম্মেদ (তাপস)

এম,এস,এস (অর্থনীতি)

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

আজকের দেশ সংবাদ . Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget