Latest Post
92 অন্যান্য 51 অর্থনীতি 24 আইন ও আদালত 76 আন্তর্জাতিক 613 এক ঝলক 3 কক্সবাজার 1 কবিতা 22 কিশোরগঞ্জ 4 কুড়িগ্রাম 6 কুমিল্লা 1 কুষ্টিয়া 3 কৃষি 107 কৃষি ও প্রকৃতি 10 ক্রিকেট 1 খাগড়াছড়ি 73 খেলাধুলা 49 গণমাধ্যম 12 গাইবান্ধা 1 গাজীপুর 17 চট্টগ্রাম 5 চাঁদপুর 5 চাঁপাইনবাবগঞ্জ 2 চুয়াডাঙ্গা 14 জয়পুরহাট 1 জাতীয় 3 জামালপুর 1 জোকস 6 ঝনিাইদহ 246 ঝালকাঠি 12 ঝিনাইদহ 4 টাঙ্গাইল 44 ঠাকুরগাঁও 39 ঢাকা 1 থী 4 দিনাজপুর 4807 দেশজুড়ে 42 ধর্ম 3437 নওগাঁ 14 নাটোর 2 নারায়ণগঞ্জ 1 নিহত ২ 1 নীলফামারীর 2 নেত্রকোনা 1 নোয়াখালী 3 পঞ্চগড় 4 পিরোজপু 2 প্রকৃতি 2807 প্রথম পাতা 23 প্রবাস 1 ফরিদপুর 17 ফিচার 8 ফুটবল 1 ফেনী 94 বগুড়া 2 বলিউড 58 বাগমারা 84 বিএমএসএফ 31 বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি 53 বিনোদন 51 বেনাপোল 2 ব্রাক্ষণবাড়িয়া 1 ব্রাহ্মণবাড়িয়া 51 ভিডিও 18 ভোলা 8 ভ্রমণ 59 ময়মুনসিংহ 1 মাগুরা 1 মাদারীপু 2 মাদারীপুর 1 মানিকগঞ্জ 1 মেহেরপুর 495 যশোর 5 রংপুর 103 রাজনীতি 3 রাজবাড়ী 95 রাজশাহী 3 লক্ষ্মীপুর 24 লাইফস্টাইল 2 লালমনিরহা 41 শিক্ষা 1 শ্রীপুর 891 সকল জেলা 2 সাতক্ষীরা 9 সিরাজগঞ্জ 3 সিলেট 63 সুনামগঞ্জ 31 স্বাস্থ্য 4 হবিগঞ্জ 1 হলিউড 10 bmsf

 

প্রকৌশলীর ওপর হামলাকারী ঠিকাদারকে কালো তালিকাভুক্ত করার দা


ফেরদৌস সিদ্দিকী, রাজশাহী : রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী দেলওয়ার হোসেনের (২৮) ওপর হামলাকারী ঠিকাদারকে কালো তালিকাভুক্ত করার দাবি উঠেছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজশাহী গণপূর্ত অধিদফতরের অফিস চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়।

পিডব্লিউডি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অনৈতিক সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব নাকচ করে প্রকৌশলীরা যখনই নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ করেন তখনই প্রভাবশালী ঠিকাদাররা তাদের ওপর চড়াও হন। অনেক রকম ঘটনা ঘটে। লোকলজ্জায় প্রকৌশলীরা সেসব ঘটনা চেপে যান। কিন্তু এ রকম অবস্থা চলতে পারে না। এখন থেকে যে ঠিকাদারই প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করবেন তার লাইসেন্স বাতিলসহ তাকে কালো তালিকাভুক্ত করতে হবে।

সমাবেশ থেকে প্রকৌশলী দেলওয়ার হোসেনের ওপর হামলাকারী ঠিকাদার শাহাবুল মঞ্জু লিটনের ‘সাফির ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড বিল্ডার্সের’ লাইসেন্স বাতিলসহ প্রতিষ্ঠানটির চলমান সব কাজের কার্যাদেশ বাতিল করার দাবি জানান বক্তারা।

পিডব্লিউডি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি মো. ছাইদুজ্জামানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন গণপূর্ত অধিদফতর শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের জেলা শাখার সভাপতি বাবর আলী, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর স্বপন, ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইডিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আবদুল নোমান, জেলা সহ-সভাপতি মেরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মেরাজুল আলম, কাউন্সিলর মোখলেসুর রহমান প্রমুখ। মানববন্ধন পরিচালনা করেন পিডব্লিউডি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি রাজশাহী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আয়াতুল্লাহ।

প্রসঙ্গত, রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ-২ এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী দেলওয়ার হোসেনের অফিস কক্ষেই সোমবার (১৭ আগস্ট) তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। শাহাবুল মঞ্জু লিটন ও আতিকুর রহমান আতিক নামে দুই ব্যক্তি এই প্রকৌশলীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হামলাকারী শাহাবুল মঞ্জু লিটন ও আতিকুর রহমান আতিক নগরীর সাহেববাজার এলাকার আবুল হোসেন নামে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। ঠিকাদারি এই প্রতিষ্ঠানটি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা ভূমি অফিস নির্মাণের কাজ করছে। শিডিউল অনুযায়ী কাজ না করা এবং নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণে আগের দিন সোমবার প্রকৌশলী দেলওয়ার হোসেন কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ কারণে অফিসে গিয়ে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ তাদের আটক করে। এ নিয়ে রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ-২ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইফতেখায়ের আলম একটি মামলাও করেছেন।


শাক তুলতে ডোবায় নেমে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মা ও মেয়ের মৃত্যু



 আবু আজাদ, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নে ডোবা থেকে কলমি শাক তুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে আধুনগর এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের পেছনের ডোবা থেকে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।

নিহতরা হলেন-স্থানীয় বাসিন্দা মা রাশেদা আকতার (৩৮) ও তার মেয়ে ময়না (১২)।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আরিফ জাগো নিউজকে বলেন, ‘গতকাল থেকে তারা নিখোঁজ ছিলেন। আজ সকালে এলাকাবাসী মা-মেয়ের মরদেহ ডোবায় পড়ে থাকতে দেখে।

লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘খবর পেয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।’


মাইক্রোবাস পুকুরে পড়ে এক পরিবারের ৮ জন নিহত


প্রতিনিধি ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহের ফুলপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাস পুকুরে পড়ে শিশুসহ আটজন নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট)সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ময়মনসিংহ-শেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে ফুলপুরের ছনধরা ইউনিয়নের বাশাটি গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রিপা খাতুন (৩০), শামছুল হক (৬৫), রেজিনা খাতুন (৫৩), পাগলা থানার পারুল আক্তার (৫০), ভালুকা উপজেলার বেগম (৩০), মিলুয়ারা বেগম (৫৫), বুলবুলি আক্তার (৭) এবং তারাকান্দা উপজেলার নবী হোসেন (৩০)।

জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হন ভালুকার শাহজাহান (৪০), শারফুল (৩৬), মিজান (২৮), রাজু (২৭),পাগলার হাবীব ৫৫) ও গফরগাঁওয়ের রতন (৫৫)।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, নিহত শারফুলের খালাত ভাই শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে মারা যান। আর তাই ভালুকা, তারাকান্দা, গফরগাঁও ও পাগলার আত্মীয় নিয়ে মাইক্রোবাসযোগে রওনা হন তারা। ফুলপুর পর্যন্ত আসতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাসটি পুকুরে পড়ে যায়। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এসে একে একে ৮ জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। আর জীবিত উদ্ধার করা হয় আরও ৬ জনকে।

ফুলপুর থানার ওসি ইমারত হোসেন গাজী জানান, নিহতদের মধ্যে একজন শিশু, ৫ জন নারী ও ২ জন পুরুষ রয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মরদেহ উদ্ধার করে। গাড়ির চালক এখনও পলাতক। তাকে গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পাট ক্রয়ের সিদ্ধান্ত এখনো নেয় নি সরকার



এবার সরকার পাট কিনবে কি কিনবে না সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কেউ কিছু বলতে পারছে না। বাজারে নতুন পাট বেচাকেনা শুরু হলেও পাট কেনার বিষয়ে সরকারের কোনো নির্দেশনা পায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) ও ঊধ্র্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, পাটকলগুলো বন্ধ থাকার কারণে পাট ক্রয়ের কোনো সিদ্ধান্ত নেই।

গত জুলাই মাসে সরকারি সব পাটকল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই পাটকল বেসরকারি মালিকানায় দেয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে।

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৫ আগস্ট বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের নীতি-নির্ধারণী কমিটির দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি সিদ্ধান্তে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি’র) নিয়ন্ত্রণাধীন ২৫টি পাটকল পুনরায় চালুকরণসহ অন্যান্য সম্পত্তি যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে আগ্রহী উদ্যোক্তা বা বিনিয়োগকারীরা মিলগুলো এখন থেকে সরেজমিনে পরিদর্শন করতে পারবেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মিলগুলোতে বিনিয়োগের বিষয়টি অনেক লম্বা প্রসেস। এমনকি এক বছরেও শেষ না হতে পারে এই প্রক্রিয়া।

জানা গেছে, সরকারি মিলগুলোর জন্য সরকার প্রতি বছর ১৩ লাখ বেল পাট কেনে। এখানে ১৫০ কেজিতে এক বেল গণনা করা হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য হলো, গত বছর দেশে ৬৮ লাখ বেল পাট উৎপন্ন হয়েছে। চলতি মৌসুমে ৮২ লাখ বেল পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। মোট তিন লাখ ১৬ হাজার ৪৯৪ হেক্টর জমিতে এবার পাটের আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় অর্ধেক পাট কাটা হয়েছে। এবার ২৬ হাজার ৯৬ হেক্টর জমির পাট বানের পানিতে ডুবে গেছে। তারপরও গত বছরের তুলনায় পাটের উৎপাদন এবার ভালো। এখন পর্যন্ত কৃষক পাটের ভালো দাম পাচ্ছে।

কৃষি তথ্যসেবা সূত্রে জানা গেছে, ৪০ লাখ চাষি পাট চাষ করেন। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চার কোটি মানুষের জীবিকা পাটকে কেন্দ্র করে। প্রতি বছর মৌসুমে গড়ে তিন হাজার কোটি টাকা পান কৃষক। দেশের প্রায় সব জেলাতেই পাট উৎপন্ন হয়। তবে বেশি উৎপন্ন হয় ফরিদপুর, যশোর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, টাঙ্গাইল ও জামালপুর জেলায়।

‘সরকার এবার পাট কিনবে কি-না’-এমন প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো নির্দেশনা আসেনি। আর এ বিষয়ে মহাব্যবস্থাপককে (পাট) জিজ্ঞাসা করুন।’ তবে অন্য একটি পত্রিকাকে তিনি বলেছেন, এবার পাট কিনবে না সরকার। এই বাবদ বরাদ্দও রাখা হয়নি; বরং হাতে মজুত পাট বিক্রি করতে হবে। বন্ধ মিলগুলোতে কী পরিমাণ পাট মজুত আছে, এখন সেই হিসাব করছেন তারা।

বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) মহাব্যবস্থাপক (পাট) মো. আশরাফ হোসেন চৌধুরী এ বিষয়ে জাগো নিউজকে বলেন, ‘পাট ক্রয়ের বিষয়ে কোনো সরকারি নির্দেশনা এখনো আসেনি। তাছাড়া পাটের মিলগুলোতো বন্ধ। এখন আমরা পাট কিনে কী করব?’

তিনি বলেন, পাট দিয়ে ব্যাগ, চট, বস্তাসহ বিভিন্ন দ্রব্য তৈরি হয়। উৎপাদন যেহেতু নেই সেহেতু পাট ক্রয়ের ভাবনাও আপাতত নেই।

তাহিরপুরে বিদেশি মদসহ পর্যটক আটক


রাহাদ হাসান মুন্না,তাহিরপুর(সুনামগঞ্জ) :  রামসার প্রকল্পভুক্ত সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওরে আসা প্রসাদ পাল (২৫) নামে এক পর্যটককে বিদেশি মদসহ আটক করেছেন থানা পুলিশ ।প্রসাদ পাল  নেত্রকোনা জেলা সদরের নাগরা পৌর এলাকার অশ্বিনী পালের ছেলে।

এরপুর্বে প্রসাদ সহ নেত্রকোনার বিভিন্ন এলাকা হতে ৪০ জনের একটি পর্যটক গ্রুপ ধর্মপাশার মধ্যনগর হতে রবিবার দিনভর ট্রলার (ইঞ্জিন চালিত নৌকা) নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রমণ শেষে সন্ধায় টেকেরঘাট ফিরে এসে রাত্রী যাপন করেন। স্থানীয় এলাকাবাসী জানা, প্রসাদকে বিদেশি মদ সহ টেকেরঘাট পুলিশ  ফাঁড়ি হেফাজতে নেয়ার পর তার অন্যান্য সহযোগীরা তাকে ছিনিয়ে নিতে ফাঁড়ির সামনে অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে পুলিশী ধাওয়ার মুখে তার সহযোগীরা ফাঁড়ির সামনে থেকে দ্রুত সটকে পড়েন।

তাহিরপুর  থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান  এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান,আমদানি নিষিদ্ধ বিদেশি মদ বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজ হেফাজতে রাখার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা সহ সংশ্লিস্ট ধারায় আটককৃতর বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়।তিনি আরো জানান, উপজেলার টেকেরঘাট পুরাতন ডাম্পের বাজার সড়কে সোমবার দুপুরে প্রকাশ্যে বিদেশি মদ নিয়ে প্রসাদ পাল ঘেরাফেরার সময় স্থানীয় এলাকাবাসী থানার টেকেরঘাট পুলিশ ফাঁড়কে অবহিত করেন। এরপর ওই ফাঁড়ি পুলিশ বিদেশি মদ সহ তাকে আটক করেন।

নওগাঁয় আদিবাসী নেতা আলফ্রেড সরেন হত্যাকান্ডেরবিচারের দাবীতে কুড়ি বছর,২০তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত


কাজী কামাল হোসেন,নওগাঁ : দিন, সপ্তাহ, মাস এভাবে বছরের পর বছর। এরপর দেড় যুগ পেরিয়ে আদিবাসী নেতা আলফ্রেড সরেন হত্যার বিচারের অপেক্ষায় কেটে গেলো ২০ বছর। আজ (১৮ আগষ্ট) বহুল আলোচিত নওগাঁর আদিবাসী নেতা আলফ্রেড সরেন এর ২০ তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত হয়েছে। ২০ বছর আগে আদবিাসী নেতা আলফ্রেড সরেন ভূমি দস্যুদের হাতে নির্মম ভাবে নিহত হলেও এখনো ওই মামলার কোন সুরাহা হয়নি। ওই মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে আদিবাসীদের রয়েছে সংশয়। তাদের অভিযোগ জামিনে থাকা আসামীরা তাদের অব্যাহত ভাবে হুমকী-ধমকী দেয়ায় ইতোমধ্যে অনেক আদিবাসী পরিবার নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুর আদিবাসী পল্লী ত্যাগ করে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে অন্যত্র। অভিযোগ আছে বর্তমানে যে ক’টি পরিবার এখনো বসবাস করছে তারা ভূমিদস্যুদের ভয়ে জমিতে চাষাবাদ করতেও পারছেনা। ফলে পরিবারগুলো চরম অভাব অনটন ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করছে। পল্লীর ছেড়ে মামলার সাক্ষীরা চলে যওয়ায় মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান আলফ্রেড সরেন হত্যা মামলার বাদী আলফ্রেডের ছোট বোন রেবেকা সরেন।

নিহত আদিবাসী নেতা আলফ্রেড সরেনের ২০তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে আজ (১৮ আগষ্ট) বেলা ১১টায় ১ মিনিট নিরবতা, সমাধী প্রাঙ্গনে আলোচনা সভা ও স্থানীয় কদমতলীর মোড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পাশপাশি ভীমপুরে আলফ্রেড সরেনের সমাধীতে শ্রদ্ধা জানিয়ে পুস্পস্তবক অর্পন করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি পক্ষে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন সিপিপি নওগাঁ জেলা সভাপতি মহাসিন রেজা, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উপদেষ্টা এবং বাসদের জেলা সমন্বয়ক জয়নাল আবেদীন মুকুল, পঞ্চানন বর্মা, সকালই পাহান, সোনামণি সরেন সহরা, রেবেকা সরেনের নেতৃত্বে জাতীয় আদিবাসী ইউনিয়ন, রবীন্দ্রনাথ সরেন এর নেতৃত্বে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক মায়ের শাহরিয়ার রেজা, জেলা কমিটির সেক্রেটারি শামীম আহসানসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ পুস্পমাল্য অর্পণ করেন।

সরজমিন নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুর আদিবাসী পল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, আলফ্রেড হত্যা মামলার জামিনে থাকা আসামীদের অব্যাহত হুমকী ধমকীতে ২৪টি পরিবারের মধ্যে বর্তমানে ৯টি পরিবার সেখানে বসবাস করছে। বাঁকীরা প্রাণ বাঁচাতে অন্যত্র চলে গেছে। তবে অন্য স্থান থেকে এখানে এসে নতুন ৯ টি পরিবার বসবাস শুরু করেছে। নিহত আলফ্রেড সরেনের বৃদ্ধ বাবা গায়না সরেনও মারা গেছেন। আলফ্রেড সরেনের স্ত্রী জোছনা সরেন এই পল্লীতে থাকেন না। আলফ্রেডের রেখে যাওয়া ৪ বছরে মেয়ে ঝর্ণা সরেন বড় হয়েছে। বিয়ে করে থাকছে ঢাকায়। চাকরী করছে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীতে। আলফ্রেড সরেন হত্যাকান্ডের এক বছরের মাথায় তার মা ঠাকুরানী সরেন মৃত্যু বরন করেন।

গত ১৮ আগষ্ট ২০০০ সালের এইদিনে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুর আদিবাসী পল্লীতে হাতেম-গদাই গংদের সন্ত্রাসীদের হামলায় আদিবাসী নেতা আলফ্রেড সরেন নৃসংশভাবে খুন হন। ওই ঘটনায় সন্ত্রাসীরা ব্যাপক তান্ডব চালিয়ে আদিবাসী পল্লীর ১১টি পরিবারের বাড়িঘর ভাংচুর লুটপাটসহ অগ্নিসংযোগ করে। ওই সময় তাদের হামলায় আদিবাসী মহিলা-শিশুসহ প্রায় ৩০ জন মারাত্মক আহত হয়। ওই সন্ত্রাসী ঘটনার পর নিরপত্তার জন্য সেখানে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয় । পরে তা গুটিয়ে নেয়া হয়।

এ মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী এবং নওগাঁ জেলা সিপিবি’র সভাপতি এ্যাড. মহসীন রেজা জানান, আলফ্রেড সরেন হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই কমল সরেন ছোট বোন রেবেকা সরেন বাদী হয়ে হত্যা ও জননিরাপত্তা আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় পুলিশ ৯১জন আসামীর নামে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। এর মধ্যে পুলিশ কয়েক জন আসামীকে গ্রেফতার করে। ওই সময় নওগাঁ দায়রা জজ আদালতে মামলার সাক্ষী গ্রহন শুরু হয় এবং ৪১জন সাক্ষীর মধ্যে সেই সময় ১৩ জনের সাক্ষী গ্রহন সম্পন্ন হয়েছিল। ৪ দলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর জননিরাপত্তা আইন বাতিল করে। ওই সময় পলাতক সীতেষ চন্দ্র ভট্টাচার্য ওরফে গদাই (প্রয়াত) ও হাতেম আলীসহ ৬০ জনের অধিক আসামী জননিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন করলে জননিরাপত্তা আইনের সকল রিট হাইকোর্ট খারিজ করে দেয়। এর ফলে আসামীরা জামিনে বেড়িয়ে আসে। এরপর বাদিগন অ্যাপিলেড ডিভিশনে মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে আলফ্রেড সরেন হত্যা মামলাটি অ্যাপিলেড ডিভিশন শুনানী অন্তে পূর্নাঙ্গ শুনানীর জন্য হাইকোর্ট ডিভিশনে প্রেরন করেছে। তিনি রিটগুলো দ্রুত শুনানী করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবী জানান।

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন মুকুল বলেন, আদিবাসী নেতা আলফ্রেড সরেনকে হত্যার পর অগ্নিসংযোগ করে, নারী ও শিশুদের উপর নির্যাতন করে। হত্যার পর জাতীয় আদিবাসী পরিষদের নেতৃত্বে জাতীয় নেতৃবৃন্দ নিয়ে ১৮/২০ হাজার লোকের সমন্বয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করে পরবর্তীতে সফল লড়াই করেছিলাম। তিনি বলেন, সারা দেশে আদিবাসীদের উপর নির্যাতন হচ্ছে। সরকারের নিকট অবিলম্বে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করন ও পৃথক স্বাধীন ভুমি কমিশন গঠনসহ হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানান।

নিহত আলফ্রেড সরেনের ছোট ভাই মহেশ্বর সরেন বলেন, আসামীরা এখনও আমাদেরকে হত্যার হুমকী দিচ্ছে। ৬৩ বিঘা জমির মধ্যে ৩৩ বিঘা জমি তারা জবরদখল করে নিয়ে নিয়েছে। বাকী ৩০ বিঘা জমিরও ভূমি অফিসের যোগ সাজেসে চেক কেটে নিয়েছে। আমার ভাই হত্যার পর আদিবাসীরা অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করেছে বিচারের দাবীতে। হত্যাকারীদের দৃষ্টান্ত মূুলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।



 

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

আজকের দেশ সংবাদ . Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget