Latest Post
92 অন্যান্য 51 অর্থনীতি 24 আইন ও আদালত 76 আন্তর্জাতিক 613 এক ঝলক 3 কক্সবাজার 1 কবিতা 22 কিশোরগঞ্জ 4 কুড়িগ্রাম 6 কুমিল্লা 1 কুষ্টিয়া 3 কৃষি 107 কৃষি ও প্রকৃতি 10 ক্রিকেট 1 খাগড়াছড়ি 73 খেলাধুলা 49 গণমাধ্যম 12 গাইবান্ধা 1 গাজীপুর 17 চট্টগ্রাম 5 চাঁদপুর 5 চাঁপাইনবাবগঞ্জ 2 চুয়াডাঙ্গা 14 জয়পুরহাট 1 জাতীয় 3 জামালপুর 1 জোকস 6 ঝনিাইদহ 246 ঝালকাঠি 12 ঝিনাইদহ 4 টাঙ্গাইল 44 ঠাকুরগাঁও 39 ঢাকা 1 থী 4 দিনাজপুর 4807 দেশজুড়ে 42 ধর্ম 3437 নওগাঁ 14 নাটোর 2 নারায়ণগঞ্জ 1 নিহত ২ 1 নীলফামারীর 2 নেত্রকোনা 1 নোয়াখালী 3 পঞ্চগড় 4 পিরোজপু 2 প্রকৃতি 2807 প্রথম পাতা 23 প্রবাস 1 ফরিদপুর 17 ফিচার 8 ফুটবল 1 ফেনী 94 বগুড়া 2 বলিউড 58 বাগমারা 84 বিএমএসএফ 31 বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি 53 বিনোদন 51 বেনাপোল 2 ব্রাক্ষণবাড়িয়া 1 ব্রাহ্মণবাড়িয়া 51 ভিডিও 18 ভোলা 8 ভ্রমণ 59 ময়মুনসিংহ 1 মাগুরা 1 মাদারীপু 2 মাদারীপুর 1 মানিকগঞ্জ 1 মেহেরপুর 495 যশোর 5 রংপুর 103 রাজনীতি 3 রাজবাড়ী 95 রাজশাহী 3 লক্ষ্মীপুর 24 লাইফস্টাইল 2 লালমনিরহা 41 শিক্ষা 1 শ্রীপুর 891 সকল জেলা 2 সাতক্ষীরা 9 সিরাজগঞ্জ 3 সিলেট 63 সুনামগঞ্জ 31 স্বাস্থ্য 4 হবিগঞ্জ 1 হলিউড 10 bmsf

নওগাঁয় গ্রামজুড়ে গ্যাসের সন্ধান
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দা উপজেলার বনকুড়া গ্রামজুড়ে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। এক সপ্তাহ আগে গ্রামের ময়েজ উদ্দিনের বাড়িতে স্থাপনকৃত নলকূপ মেরামত করতে গিয়ে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়। পর্যায়ক্রমে গ্রামের মোজাম্মেল হকের বাড়ি, আব্দুল জব্বারের বাড়িসহ অনেকের নলকূপে গ্যাসের অস্তিত্ব মিলেছে। গ্রামের অন্য নলকূপগুলোতেও পানির পরিবর্তে বের হচ্ছে গ্যাস। গ্যাস বের হওয়ায় কৃষি জমিতে সেচ দেয়ার জন্য স্থাপিত একটি গভীর নলকূপ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয়রা।
 
স্থানীয়দের দাবি, এক সপ্তাহ আগে বনকুড়া গ্রামের ময়েজ উদ্দিনের বাড়ির নলকূপের পাইপে গ্যাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। তাতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। গ্যাসের সেই আগুনে রান্নার কাজও করে দেখেছেন তারা। আগুনের লেলিহান শিখা ও উত্তাপ দেখে তারা হতবাক। সংবাদটি ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের এলাকাসহ সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। দৃশ্যটি এক নজর দেখতে প্রতিদিন সববয়সী নারী-পুরুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন উপজেলার বনকুড়া গ্রামের ময়েজ উদ্দিনের বাড়িসহ আশপাশের বাড়িগুলোতে। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার খন্দকার মুশফিকুর রহমান ও এসিল্যান্ড এসএম হাবিবুল হাসান।
 
বাড়ির মালিক ময়েজ উদ্দিন প্রামানিক জানান, বাড়ির ভেতরে স্থাপনকৃত নলকূপে কয়েকদিন ধরে পানি উঠছিল না। নলকূপটি মেরামতের জন্য মেকানিক নিয়ে আসি। নলকূপের পাইপ তুলে জোড়া খোলার জন্য আগুন ধরিয়ে দিয়ে পাইপের মুখে আগুন ধরে যায়। পরে সেই আগুনে স্থানীয়রা পরীক্ষামুলকভাবে রান্নার কাজ করে দেখেছেন।
 
গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জব্বার জানান, ২০১৩ সালে নভেম্বর মাসে গ্রাম থেকে ২শ ফুট উত্তরে একটি কৃষি জমিতে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়। সে সময় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বাপেক্স কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যান। এরপর তাদের আর কোনো পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। তিনি আরও বলেন, প্রায় ৬ বছর পর গ্রামের নলকুপগুলোতে আবারও গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেল। গ্রামের মোজাম্মেল হক, ইয়াকুব আলী, তয়েজ উদ্দিনসহ আরও অনেকে জানান, গ্রামের ময়েজ উদ্দিনের বাড়ির পর একে একে অনেকের বাড়ির নলকূপে গ্যাস বের হতে শুরু করেছে। পরীক্ষার মাধ্যমে অবিলম্বে বিষয়টি নিয়ে গ্রামবাসিদের আস্বস্ত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান তারা।
 
এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দাকার মুশফিকুর রহমান জানান, গতকাল রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দুর্ঘটনা এড়াতে নলকূপের পাইপের গ্যাসে আগুন না জ্বালানো জন্য গ্রামের লোকজনকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি ভূ-তাত্বিক জরিপ অধিদপ্তর ও বাপেক্স কর্তৃপক্ষকে লিখিত আকারে জানানো হবে।
 
নওগাঁ সরকারি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, বিভিন্ন কারণে ভূ-অভ্যন্তরের অগভীরে কয়লা ও মিথেন গ্যাসের অস্তিত্ব থাকতে পারে। সঠিক পরীক্ষার মাধ্যমে মান্দার বনকুড়া গ্রামের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

অর্জুনকে দই এনে দেন ছোট ভাই অসীম
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় দই খেয়ে বিষক্রিয়ায় একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দইয়ের মধ্যে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট মিশিয়ে খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে বিষক্রিয়ায় নিহত অর্জুন সরকারের ছোট ভাই অসীমের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে অসীম পলাতক রয়েছেন। নিহতরা হলেন- অর্জুন সরকার, তার স্ত্রী তিথী রানী এবং তাদের আড়াই বছরের মেয়ে অনন্যা সরকার। গত শুক্রবার রাতে উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের জোতহরী গ্রামে এ ঘটনা ঘটলেও শনিবার ভোরে তারা মারা যান। অভিযুক্ত অসীম কুমার ওই গ্রামের অজিত কুমারের ছেলে।
অর্জুনকে দই এনে দেন ছোট ভাই অসীম

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অসীম কুমার বাজার থেকে দই কিনে এনে বড় ভাইকে খেতে দেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে দই খাওয়ার পর অর্জুন সরকার, তার স্ত্রী ও মেয়ে বমি করা শুরু করে। ক্রমেই তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে রাতেই এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে প্রথমে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় অর্জুনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং স্ত্রী তিথি রানী ও শিশু সন্তান অনন্যাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রাজশাহীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১টার দিকে অর্জুন এবং ভোরে নওগাঁ সদর হাসপাতালে তার স্ত্রী ও মেয়ে মারা যান।
 
অর্জুনের শাশুরি যমুনা রাণী অভিযোগ করে বলেন, অর্জুনের সঙ্গে তার ছোট ভাই অসীমের বহুদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে শুক্রবার রাতে অর্জুনের অজান্তে অসীম তাদের দইয়ের মধ্যে ‘গ্যাস বড়ি’ মিশিয়ে খাওয়ায়। দই খাওয়ার পর রাতেই আমার মেয়ে (তিথী) আমাকে ফোন করে জানায়- তাদের সবার পেট ব্যথা করছে। আমি তখন জানতে পারি- তাদের এই দই খাইয়েছেন অসীম।
 
মহাদেবপুর থানা ওসি সাজ্জাদ হোসেন বলেন, রাতে দই খাওয়ার পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় অর্জুনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং স্ত্রী তিথি রানী ও মেয়ে অনন্যাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আক্তারুজ্জামান বলেন, রোগীদের শরীরে কীটনাশকের (বিষের ট্যাবলেট) জীবানু পাওয়া গেছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়া তাদের রামেক ও নওগাঁ সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

 নওগাঁর হাটশাওলী সীমান্ত এলাকা থেকে নীলগাই উদ্ধার
বাবুল আকতার, সাপাহার নওগাাঁ: নওগাঁর পত্নীতলা সীমান্ত থেকে একটি নীলগাই (পুরুষ) উদ্ধার করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। সোমবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার নির্মল ইউনিয়নের হাট-শাওলি কানুপাড়া গ্রামের একটি আম বাগান থেকে নীলগাইটি উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে সেটি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের হেফাজতে আছে।

পত্নীতলা উপজেলার নির্মল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, সীমান্তবর্তি এলাকায় একটি আম বাগানে নীলগাই (পুরুষ) টি ঘুরাফেরা করছিল। স্থানীয় কিছু যুবক বিরল এ প্রাণীটিকে আটক করে আমায় সংবাদ দেয়। এরপর সকাল ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে যায়। পাশে পত্নীতলা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি-১৪) সদস্যরা সংবাদ পেয়ে নীলগাইটা তারা নেয়ার জন্য আসে। কিন্তু আমি তাদের বললাম যেহেতু আমার এলাকার মধ্যে গাইটি উদ্ধার করা হয়েছে পরিষদে নেয়ার পর সুরহা হওয়ার পর যেখান নিয়ে যায় যাবে। তাতে আমার কোন সমস্যা নাই। এসময় তারা গাড়ির চাবি খুলে নেয়। এতে তাদের সাথে বাকবিতন্ডা এবং হালকা ধস্তাধস্তিও হয়।
 নওগাঁর হাটশাওলী সীমান্ত এলাকা থেকে নীলগাই উদ্ধার

তিনি আরো বলেন, এরপর বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবগত করা হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহী বন কর্মকতা আমাকে ফোন দিয়েছিলেন নীল গাইটি আমার হেফাজতে রাখার জন্য। তারা নিয়ে যাবেন বলেও জানান।

ইউপি সদস্য ইয়াসিন আলি জানান নীল গাইটি ভারত থেকে চোরাই পথে নিয়ে আসা হয়েছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয়রা অনেক রাত থেকেই পাহারা দিয়ে ছিল। অনেকের ধারনা এটি ভুল করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

এ ব্যাপারে পতœীতরা বিজিবি-১৪ সিও লে. কর্নেল জাহিদ হাসান বলেন, চেয়ারম্যানের সাথে এ ধরনের কোন ঘটনা আমার জানানেই। তবে নীলগাইটি আমাদের বিজিবির টহল সদস্যরা দেখেছেন। যেহেতু ফাঁকা মাঠের মধ্যদিয়ে আসার সময় আমাদের সদস্যরাই দেখেছেন। তখন হয়ত তাকে ধরতে পারেনি। পরে স্থানীয় এলাকাবাসী নীলগাইটি আটক করেছে। যেহেতু প্রাণীটি অবৈধ। আর আইনগত ভাবে চেয়ার‌্যমান এটি নিয়ে যেতে পারেন না। প্রাণীটি উদ্ধার করে বন বিভাগগের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

উল্লেখ্য, গত ২২ জানুয়ারি জেলার মান্দা উপজেলার নুরুল্যাবাদ ইউনিয়নের জোত বাজার এলাকা থেকে একটি নীলগাই উদ্ধার করে এলাকাবাসী। পরে বন বিভাগের মাধ্যমে নীলগাইটি রাজশাহী বন্যপ্রাণী ও পরিচর্যা কেন্দ্রে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেটি দিনাজপুর রামসাগরে জাতীয় উদ্যানে রয়েছে।

নওগাঁর সাপাহারে ভিজিডির চাউল বিতরণ
নয়ন বাবু, সাপাহার প্রতিনিধি: নওগাঁর সাপাহার উপজেলার সদর ইউনিয়নে ৫৩৫ জন ভিজিডি কার্ডধারীদের মাঝে ৩০ কেজি করে বিনামূল্যে চাউল বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার সকাল ভিজিডি চাউল বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন সদর ইউপি চেয়ারম্যান আকবর আলী।
 
এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য মিজানুর চৌধুরী, সচিব মহিদুল হক লিপু সহ সদর ইউপির সকল সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

নওগাঁর পত্নীতলায় বিরল প্রজাতির ভারতীয় নীল গাই উদ্ধার
নয়ন বাবু, সাপাহার প্রতিনিধি: নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নিরমইল ইউনিয়নের কানুপাড়া গ্রামের একটি আম বাগান থেকে বিরল প্রজাতির ভারতীয় নীল গাই (গরু) উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার ভোরে নীল গাই টি উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে, ভারতীয় নীল গাইটি কানুপাড়া গ্রামের একটি আম বাগানে ছিল। ভোরে স্থানীয়রা নীল গাইটি দেখতে পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ কে সংবাদ দেয়। সংবাদ পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ও ইউপি সদস্যদের নিয়ে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় আমবাগান থেকে নীল গাইটি উদ্বার করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসে। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে সেখানে ধীরে ধীরে উৎসুক জনতার ভিড় বাড়তে থাকে এক পলক নীল গাইটি দেখার জন্য।
 নওগাঁর হাটশাওলী সীমান্ত এলাকা থেকে নীলগাই উদ্ধার

নিরমইল ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, বিষয়টি পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে জানানো হয়েছে। তিনি রাজশাহী বিভাগীয় ফরেষ্ট ও বন্যাপ্রাণী কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। এটিকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে বলেও চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান।

রাণীনগরে আবাদপুকুর দাখিল মাদ্রাসায় ঝুঁকিপূর্ন কক্ষে পাঠদান
আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ: নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার বর্তমান সময়ে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত পূর্বা অঞ্চল আবাদপুকুর । এক সময় এই অঞ্চলটি ছিলো দুর্গম ও চরম অবহেলিত। এই অঞ্চলের গরীব ও ঝড়েপড়া সন্তানদের ইসলামী শিক্ষায় দীক্ষিত করার লক্ষ্যে ২০০৪সালে ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করা হয় আবাদপুকুর দাখিল মাদ্রাসা। এরপর মাদ্রাসাটি ২০১১সালে শুধুমাত্র একাডেমিক স্বীকৃতি পায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত মাদ্রাসাটিতে অবকাঠামোগত উন্নয়সহ কোন কিছুরই ছোঁয়া লাগেনি।
ইসলাম শিক্ষার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে শিক্ষার্থীরা

প্রতিষ্ঠার একদশকের বেশি সময় পার হলেও এখনো মাদ্রাসাটিতে আধুনিকতার কোন ছোঁয়াই স্পর্শ করেনি। সরকার যেখানে অবহেলিত (মাদ্রাসা শিক্ষা) ইসলামী শিক্ষার প্রসার ঘটানো ও ইসলাম শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করার লক্ষ্যে দেশের ইসলামী প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসাগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে শুরু করে সার্বিক উন্নয়নের জন্য নানামুখি পদক্ষেপ গ্রহণ ও তা বাস্তাবায়ন করে যাচ্ছেন অথচ মফস্বল এলাকার এই ইসলামী বিদ্যাপিঠটি এখনো অবহেলিত ও অনেক পিছিয়ে রয়েছে। মাদ্রাসাটিতে কক্ষ সংকটের কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত একাধিক ঝুঁকিপূর্ন কক্ষে গাদাগাদি করে পাঠগ্রহণ করছে শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও কোন নিরাপত্তা প্রাচীর না থাকায় মাদ্রাসার সব কিছুই থাকে নিরাপত্তাহীনতায়। একাধিকবার চুরি হয়ে গেছে পানি তোলার মেশিন। গাছের নীচে ইটের পুরাতন কক্ষের প্রাচীর কোথাও ভেঙ্গে গেছে আবার টিনের ছাউনির কোথাও টিন উড়ে ফাঁকা হয়ে গেছে আর দীর্ঘদিনের পুরাতন টিনগুলোতে রয়েছে অসংখ্য ফুটো। যার কারণে বর্ষা মৌসুমে টিনের ছাউনির কক্ষগুলোতে পাঠদান করানো সম্ভব হয়ে ওঠে না। টিনের ফুটো দিয়ে কক্ষগুলোতে বৃষ্টির পানি পড়ে জমা হয় হাটু পানি। বর্ষা মৌসুমের অধিকাংশ সময় ঝুঁকিপূর্ণ বারান্দায় কিংবা গাছের নিচে অথবা মাদ্রাসাটি ছুটি দিতে বাধ্য হন কর্তৃপক্ষ।

পরিত্যক্ত এই ভবনগুলো যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল। পর্যাপ্ত শ্রেণি কক্ষ না থাকার কারণে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পরিত্যক্ত কক্ষেই পাঠদান করাতে বাধ্য হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বার বার অবগত করেও কোন কাজ হয়নি বলে জানান শিক্ষক ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি।

মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মো: আব্দুল বারী জানান, সরকারের নীতিমালা অনুসারে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ইসলামী শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠান থাকার কথা রয়েছে ১৮টি করে অথচ আমাদের উপজেলায় রয়েছে মাত্র ৬টি দাখিল মাদ্রাসা। তারপরও আমাদের এই ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো মিলেনি সরকারি ভাবে কোন উন্নয়নের ছোঁয়া। বেহাল দশায় পড়ে আছে এই ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। কারো নজর নেই মাদ্রাসাটির দিকে। আমাদের ভাগ্যে মিলেনি আধুনিক মানের কোন সরকারি ভবন ও সুযোগ-সুবিধার। এই মাদ্রাসার বর্তমান যা রয়েছে তা সবই দাতা ব্যক্তি ও আমাদের দ্বারা সৃষ্টি। মাদ্রাসাটি স্থাপনের সময় দাতা ব্যক্তি ও শিক্ষকদের ব্যক্তিগত অর্থায়নে টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি করা হয় ৮টি কক্ষ ও দুই বছর আগে সেকায়েপ থেকে প্রদানকৃত অর্থ দিয়ে তৈরি করা হয় আরোও ২টি কক্ষ। কিন্তু ৮টি কক্ষের টিনগুলো দীর্ঘদিনের পুরাতন হওয়ায় কালবৈশাখী ঝড়ে একাধিকবার উড়ে যাওয়ায় ও মরিচা ধরে ফুটো হওয়ার কারণে বর্ষা মৌসুমে কক্ষের ভিতরে পাঠদান করানো সম্ভব হয় না। মাদ্রাসায় আমরা ইসলামী বিভাগের ১ম শ্রেণি হতে দাখিল (এসএসসি) পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছি। মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে এলাকার অসহায়, গরীব ও খেটে-খাওয়া পরিবারের প্রায় ৩শতাধিক ছেলে-মেয়েরা ইসলাম শিক্ষা গ্রহণ করছে। মাদ্রাসাটি অনেকটা স্বেচ্ছাশ্রম ভিত্তিক ইসলাম শিক্ষা ছড়িয়ে দিয়ে আসছে এই অঞ্চলের সন্তানদের মাঝে। মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত ফলাফলে শতভাগ পাশ এবং মেধাবী শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পেয়ে আসছে।

তিনি আরো বলেন অবহেলিত এই অঞ্চলে অনেক বছর যাবত ইসলাম শিক্ষার জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিয়ে আসলেও এখনোও এই ইসলামী বিদ্যাপিঠটিতে আধুনিকতার কোন ছোঁয়া লাগেনি। বর্তমানে এই বিদ্যাপিঠ নানা সমস্যায় জর্জড়িত। সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাড়িয়েছে কক্ষ সংকট। কক্ষ সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে পরিত্যক্ত কক্ষে ও কক্ষের বারান্দায় গাদাগাদি করে পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক ও সাধারন শিক্ষকদের জন্য নেই আলাদা কক্ষ। প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাদ্রাসার ঝুঁকিপূর্ন কক্ষে পাঠগ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে। এছাড়াও ঝড়ের মৌসুমে আমরা থাকি চরম নিরাপত্তাহীনতায়। কারণ কখন ঝড় এসে কক্ষের টিনের ছাউনি উড়ে নিয়ে যাবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। ঝড়ে কক্ষের টিনগুলো উড়ে যাওয়ায় বার বার বিপাকে পড়তে হয়। মাদ্রাসার এহেন অবস্থা দেখে অনেক পরিবারই তার সন্তানকে মাদ্রাসায় আসতে দেয় না। আমরা শিক্ষকরা রয়েছি চরম বিপাকে। 

মাদ্রাসার শিক্ষার্থী খাদেমুল ইসলাম, নাজমিন আক্তারসহ অনেকেই জানায়, আমরা এই মাদ্রাসার অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা গরীব, অসহায় ও খেটেখাওয়া পরিবারের সন্তান। অনেক টাকা খরচ করে নামীদামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ানোর মতো সামর্থ আমাদের পরিবারের নেই। তাই আমরা এই মাদ্রাসায় ইসলামী শিক্ষা গ্রহণ করছি। আমরা কক্ষের অভাবে পরিত্যক্ত ঝুঁকিপূর্ন কক্ষেই গাদাগাদি করে পাঠ গ্রহণ করছি। এছাড়াও মাদ্রাসার নিরাপত্তা প্রাচীর নেই, মেয়েদের জন্য নেই কমন ও ওয়াশ রুম, আধুনিক মানসম্মত বহুতল ভবন, নেই শেখ রাসেল কম্পিউটার ল্যাব ও গ্রন্থাগার। যার কারণে আমরা গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়তই যুগোপযুগি ইসলামী শিক্ষার অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আমরা সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে পাঠ গ্রহণ করতে পারছি না।

মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও দাতাসদস্য রুহুল আমীন বলেন, আমার মায়ের ইচ্ছে পূরণের লক্ষ্যেই প্রায় ৯৮শতাংশ জমির উপর এই অঞ্চলের ঝড়েপড়া গরীব, অসহায়, খেটেখাওয়া পরিবারের  সন্তানদের মাঝে ইসলাম শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যই মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেছি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে শুরু করে আধুনিকতার কোন ছোঁয়াই এখন পর্যন্ত মাদ্রাসাটিতে লাগেনি। অনেকবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর বিভিন্ন সমস্যার কথা লিখিত ভাবে জানিয়েছি কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন ফল পাওয়া যায়নি। যদি এই ঝুঁকিপূর্ন ভবনগুলো ভেঙ্গে সম্প্রসারণ করে আধুনিক মানের ভবন নির্মাণ করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সকল সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয় তাহলে একটি সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে শিক্ষার্থীরা ইসলাম শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। ফলে এই প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকার মানুষের মাঝে সন্তানদের মাদ্রাসায় পাঠানোর প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং ঝড়ে পড়া অনেক কমে যাবে। এছাড়াও মাদ্রাসাটিতে যাবার একমাত্র মাটির রাস্তাটিতে বর্ষা মৌসুমে হাটু কাঁদার সৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসায় যেতে চায় না। অনেক অফিসের দুয়ারে ধর্না দিয়েও রাস্তাটিতে এখনো ইট বিছাতে পারিনি।

মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল জলিল বলেন বর্তমানে ওই মাদ্রাসাটির খুবই করুন অবস্থা। আমি মাদ্রাসাটি সম্পর্কে সবকিছুই জানি। উপজেলা প্রশাসন ইচ্ছে করলে মাদ্রাসাটিতে যে কোন উপায়ে সহায়তা করতে পারেন। আমি উর্দ্ধতন সকল বিভাগকে মাদ্রাসাটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবগত করেছি তাদের মর্জি অনুযায়ী ছোঁয়া লাগবে বিদ্যাপিঠটিতে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আল মামুন বলেন, ওই মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে পালাম।  সমস্যা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানাবো। আশা রাখি এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন কিছু করার সুযোগ থাকলে তা আলোচনা করে প্রদান করার চেষ্টা করবো।

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

আজকের দেশ সংবাদ . Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget