Latest Post
92 অন্যান্য 51 অর্থনীতি 24 আইন ও আদালত 76 আন্তর্জাতিক 613 এক ঝলক 3 কক্সবাজার 1 কবিতা 22 কিশোরগঞ্জ 4 কুড়িগ্রাম 6 কুমিল্লা 1 কুষ্টিয়া 3 কৃষি 107 কৃষি ও প্রকৃতি 10 ক্রিকেট 1 খাগড়াছড়ি 73 খেলাধুলা 49 গণমাধ্যম 12 গাইবান্ধা 1 গাজীপুর 17 চট্টগ্রাম 5 চাঁদপুর 5 চাঁপাইনবাবগঞ্জ 2 চুয়াডাঙ্গা 14 জয়পুরহাট 1 জাতীয় 3 জামালপুর 1 জোকস 6 ঝনিাইদহ 246 ঝালকাঠি 12 ঝিনাইদহ 4 টাঙ্গাইল 44 ঠাকুরগাঁও 39 ঢাকা 1 থী 4 দিনাজপুর 4807 দেশজুড়ে 42 ধর্ম 3437 নওগাঁ 14 নাটোর 2 নারায়ণগঞ্জ 1 নিহত ২ 1 নীলফামারীর 2 নেত্রকোনা 1 নোয়াখালী 3 পঞ্চগড় 4 পিরোজপু 2 প্রকৃতি 2807 প্রথম পাতা 23 প্রবাস 1 ফরিদপুর 17 ফিচার 8 ফুটবল 1 ফেনী 94 বগুড়া 2 বলিউড 58 বাগমারা 84 বিএমএসএফ 31 বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি 53 বিনোদন 51 বেনাপোল 2 ব্রাক্ষণবাড়িয়া 1 ব্রাহ্মণবাড়িয়া 51 ভিডিও 18 ভোলা 8 ভ্রমণ 59 ময়মুনসিংহ 1 মাগুরা 1 মাদারীপু 2 মাদারীপুর 1 মানিকগঞ্জ 1 মেহেরপুর 495 যশোর 5 রংপুর 103 রাজনীতি 3 রাজবাড়ী 95 রাজশাহী 3 লক্ষ্মীপুর 24 লাইফস্টাইল 2 লালমনিরহা 41 শিক্ষা 1 শ্রীপুর 891 সকল জেলা 2 সাতক্ষীরা 9 সিরাজগঞ্জ 3 সিলেট 63 সুনামগঞ্জ 31 স্বাস্থ্য 4 হবিগঞ্জ 1 হলিউড 10 bmsf

নওগাঁয় প্রতিবন্ধী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে হুইল চেয়ার ও শিক্ষা উপকরন বিতরন
নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর পোরশা উপজেলার সেই আলোচিত মোবারক হোসেন প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে হুইল চেয়ার ও শিক্ষা উপকরন বিতরন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যালয় মাঠে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরন ও হুইল চেয়ার বিতরন করা হয়।
 
এসময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মওদুদ হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা সমাজ সেবার উপ-পরিচালক তৌহিদুর ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, পোরশা উপজেলার নির্বাহী অফিসার এ.কে.এম আব্দুল্লা বিন রশিদ, পোরশা উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার শফিকুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শাহজাহান আলী, দাতা সদস্য শরিফুল ইসলামসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
 
এসময় উপজেলা প্রশাসনের উদ্দ্যোগে ১০জন প্রতিবন্ধীর মাঝে হুইল চেয়ার ও রাজশাহী বিভাগীয় দূর্নীতি দমন কমিশনের উদ্দ্যোগে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে খাতা, স্কেলসহ শিক্ষা উপকরন বিতরন করা হয়।

নওগাঁর আত্রাইয়ে গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক
নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ): নওগাঁর আত্রাইয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শামিম মোল্লা (২৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত শামিম মোল্লা পার্শ্ববর্তী সিংড়া উপজেলার তেমুক নওগাঁ গ্রামের মহিদুল মোল্লার ছেলে।

এব্যাপারে আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোবারক হোসেন জানান, গত সোমবার সন্ধ্যায় একটি চায়ের দোকানে এক মাদক ব্যবসায়ী অবস্থান করছে এমন সংবাদের ভিতিত্তে এসআই প্রদীপ ও এএসআই ছাইফুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ উপজেলার সুদরানা বাজার এলাকা থেকে ১০ পুড়িয়া গাঁজাসহ শামিম মোল্লা নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে।

পরে তাঁর বিরুদ্ধে গতকাল মঙ্গলবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে নওগাঁ জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

নওগাঁর মান্দায় পরিত্যক্ত পলিথিন পুড়িয়ে জ্বালানি তেল আবিস্কার: সরকারি সহযোগীতা কামনা
মাহমুদুন নবী বেলাল, নওগাঁ: মানুষের যান্ত্রিক জীবনে জায়গা দখল করেছে পলিথিন এবং প্লাস্টিক। পলিথিনের স্থায়ীত্ব বেশি। সহজে পচন এবং পুড়িয়ে ফেলা সম্ভব হয়না। অল্ড বাজার করলেই সহজেই পলিথিনে বহন করা সম্ভব। কাজ শেষে পলিথিনকে ছুড়ে ফেলে দেয়া হয়। এরপর তার স্থান হয় ডাস্টবিনে এবং ময়লা আবর্জনার ফেলার স্থানে। তবে পরিত্যক্ত পলিথিনকে কাজে লাগিয়েছেন নওগাঁর মান্দা উপজেলার ৫৫ বছর বয়সি ইদ্রিস আলী নামে এক ব্যক্তি। আর পলিথিনকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় কাজে লাগিয়ে তা থেকে তৈরী করেছেন জ্বালানি তেল পেট্রোল, ডিজেল, গ্যাস এবং ফটোকপি মেশিনের কালি। ইদ্রিস আলীর বাড়ি উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে। ১৯৮৫ সালে ৮ম শ্রেনী পাশ করেছেন তিনি। তবে দারিদ্রতার কারণে পড়াশুনার পাঠটি সেখানেই চুকিয়ে ফেলেছেন। এরপর জীবন সংগ্রামে নেমেছেন। নিজের জায়গা জমি বলতে কিছুই নাই। শ্বশুরের দেয়া সামান্য জমিতে মাটির বাড়ি। সংসারে পাঁচ ছেলেমেয়ে। তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেরা কৃষিসহ অন্যান্য কাজ করেন। আর স্ত্রী নূর জাহান বিবি একজন গৃহিনী। তিনি জীবিকা নির্বাহে কখনো ভ্যান চালিয়েছেন আবার কখনো কৃষিকাজ করেছেন। এছাড়া ইলেকট্রনিক মিস্ত্রি, সাইকেল মেরামতের মিস্ত্রির কাজও করেছেন। সর্বশেষ ভটভটি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেছেন।  অল্প শিক্ষিত এ মানুষটি তার প্রতিভাবে কাজে লাগিয়ে তৈরী করেছেন জ্বালানি তেল এবং বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াই ওয়েল্ডিং মেশিন বা ঝালাই মেশিন। তার এ প্রতিভাবে এক নজর দেখতে তার বাড়িতে ভীড় করছেন এলাকাবাসী। এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সরকারি পৃষ্টপোষকতা পেলে তার এ প্রতিভাবে বিকশিত করা সম্ভব বলে মনে করছেন সচেতন এলাকাবাসী। পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল তৈরী করা হলে বাহির থেকে যেমন তেলের আমদানি কমবে। অপরদিকে ক্রেতারা সাশ্রয়ি মূল্যে তেল পাবেন। সেই সাথে চাহিদাও বৃদ্ধি পাবে। পলিথিন থেকে শুধু জ্বালানি তেলই নয়, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ি ওয়েল্ডিং মেশিনও (ঝালাই মেশিন) তৈরী করছেন তিনি। ১২ ভোল্টের তিনটি ড্রাইসেল (শুষ্ক) ব্যাটারী দিয়ে তৈরী এ মেশিন দিয়ে প্রায় ৫০টি স্টিক ঝালাই করা সম্ভব। নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরী এ মেশিনটির খরচ পড়েছে প্রায় ৪২ হাজার টাকা। প্রতিভাবান ইদ্রিস আলী বলেন, পরিত্যক্ত ও নোংরা পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল তৈরী করা হচ্ছে এমন একটি ভিডিও তিনি ইউটিউব চ্যানেলে দেখেছেন। আর এ বিষয়টি তাকে গত তিন মাস থেকে ভাবাচ্ছে। এরপর ভাবনার বিষয়টি তিনি বাস্তবে রুপদান করেন। মাত্র পাঁচ হাজার টাকা খরচ করে বাজার থেকে একটি টিনের তেলের বড় ড্রাম (ব্যারেল), একটি মাঝারি প্লাস্টিকের ড্রাম, ছোট দুইটি কন্টিনার, প্রায় ১৫ ফুট স্টিলের চিকন পাইপ, কয়েক হাত প্লাস্টিকের ফিতা কিনেন। এরপর গত ২১ ফেব্রুয়ারী (বৃহস্পতিবার) থেকে জ্বালানি তেল তৈরী শুরু করেন। তিনি বলেন, নোংরা ও পরিত্যাক্ত পলিথিন ১০ টাকা কেজি করে টুকাইদের কাছ থেকে কিনে নেন। এরপর বিশেষ প্রক্রিয়া পলিথিনগুলো টিনের ড্রামে ভরে প্রায় আধাঘন্টা ড্রামের নিচে খড়ি দিয়ে জ্বাল দেন। এরপর ড্রাম থেকে র্নিগত গ্যাস স্টিলের পাইপ দিয়ে এসে প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে রাখা পানিতে ঠান্ডা হয়ে প্রেট্রোল এবং ডিজেল ছোট কন্টিনারে এসে জমা হচ্ছে। সাত কেজি পলিথিন থেকে প্রায় ৫ লিটার পেট্রোল জাতীয় পদার্থ, আধা লিটার ডিজেল বের করতে সক্ষম হয়েছি। তবে গ্যাস ধরে রাখার কোন ব্যবস্থা না থাকায় পুনরায় টিনের ড্রামের জ্বালানির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর এ পেট্রোল দিয়ে ইতোমধ্যে মোটরসাইকেলে জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সবকিছু খরচ বাদ দিয়ে ৬০ টাকা লিটার হিসেবে বাজারজাত করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। তবে দারিদ্রতার কারণে আধুনিক যন্ত্র কেনা সম্ভব হচ্ছেনা বলে মনে করেন। এজন্য সরকারের সহযোগীতা কামনা করেছেন। স্থানীয় ফাইজুর হোসেন, নাজমুল হুদা ও চৌবাড়িয়া বাজারের হাবিবুর রহমান, রুবেল বাপ্পি সহ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আমরা জানতাম পলিথিন পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু এ পলিথিন থেকে যে জ্বালানি তেল তৈরী করা হয় তা জানতাম না। পরিত্যক্ত পলিথিন থেকে যে জ্বালানি তেল বের করা হচ্ছে তা স্ব-চোখে না দেখলে বিশ্বাসই করতাম না। তবে আর্থিক দৈন্যতার কারণে তার এ পদ্ধতিকে প্রসার ঘটাতে পারছেন না। তার এ প্রতিভাবে বিকশিত করতে এবং উদ্ভাবনটির প্রসার ঘটাতে সরকারিভাবে সহোযোগীতা প্রয়োজন। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব। সেই সাথে এলাকায় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, ইদ্রিস আলী নামে ওই ব্যক্তির উদ্ভাবনটির কথা শুনেছি। তবে এর কার্যকারিতা কতটুকু ও পরিবেশ সম্মতকিনা তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের নির্নয়ের মাধ্যমে পরবর্তি ব্যবস্থা সম্পর্কে জানা যাবে। তার উদ্ভাবনি নমুনা আমরা কর্তৃপক্ষক বরাবর পাঠাবো। তবে আমরা স্থানীয় প্রশাসন তাকে স্বাগত জানাই। সেই সাথে তাকে পৃষ্ঠপোষকতার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। নওগাঁ সরকারি কলেজ রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হেলালুর রহমান বলেন, পলিথিন এবং পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন তেল, মবিল ও গ্যাসের মধ্যে একই উপাদান হাইড্রো কার্বন বিদ্যমান। পলিথিন হচ্ছে ইথিলিনের পলিমার। ছোট ছোট অনুকে একত্রে করে বড় করা হয়েছে। কার্বনের সংখ্যা যত কম হবে সেটা তত হালকা হবে এবং কার্বন সংখ্যা বেশি হলে যৌগ তত ভারী হবে। তবে পলিথিন পুড়িয়ে যে জ্বালানি বের করা হচ্ছে তা উচ্চতর পরীক্ষার প্রয়োজন।

শুদ্ধ সুরে জাতীয় সংগীত প্রতিযোগীতায় জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ট সাপাহার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়
নয়ন বাবু, সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি: জেলা পর্যায়ে শুদ্ধ সুরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন প্রতিযোগীতায় মাধ্যমিক পর্যায়ে সাপাহার ঐতিহ্যবাহী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রথম হয়েছে। গত রবিবার বেলা ১১ টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যেগে জেলা শিল্পকলা পরিষদ মিলনায়তনে এ প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগীদের মধ্যে উপজেলা মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
 
প্রতিযোগীতা শেষে নওগাঁ জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এ সময় সেখানে উপ-সচিব ডিডিএলজি গোলাম মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ সহ জেলা পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
 
বিজয়ী সাপাহার ঐতিহ্যবাহী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এরপর বিভাগীয় পর্যায়ে শুদ্ধ সুরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন প্রতিযোগীতায় অংশ নেবে।

নওগাাঁ রাণীনগরে অর্থাভাবে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি মাফিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা চালানো নিয়ে আতংকিত পরিবার
আব্দুর রউফ রিপন, রাণীনগর (নওগাঁ) : আমাদের সমাজে কত মেধাবী মানুষ আছে ক’জনার কথা আমরা জানতে পারি। যারা উদ্যোমী ও পরিশ্রমী কোন বাধা-বিপত্তিই তাদের দমিয়ে রাখতে পারে না। তারই এক অনন্য দৃষ্টান্তর প্রতিবন্ধি মেয়ে মাফিয়া। প্রথমত সে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি, দ্বিতীয়ত নারী। আরেকটি বড় সমস্যা তার জন্ম হত দরিদ্র এক ভ্যান চালকের পরিবারে।
 
মাফিয়ার জন্ম নওগাঁর জেলার রাণীনগর উপজেলার খট্টেশ্বর গ্রামে এক হতদরিদ্র ভ্যান চালক আমজাদ হোসেনের পরিবারে। মাফিয়ার পরিবারে দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে মাফিয়াই বড়। লেখাপড়া শেষ করে চাকুরী করে নিজে স্বালম্বি হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের সেবা করতে চায় মাফিয়া। অপরদিকে তার পরিবারের স্বপ্ন তার মেয়ে উচ্চ পড়ালেখা শেষ করে একটি বড় চাকরী করবে। আদৌ কি ভ্যান চালক পরিবারের এই স্বপ্ন পূরন হবে? প্রতিবন্ধী মাফিয়া কি তার বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখা শেষ করে সমাজে মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারবে?
কিন্তু এতো সব প্রতিবন্ধকতার পরও সে পড়ালেখায় সফল হয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্তর স্থাপন করেছে সমাজে। পড়া লেখায় ভাল ফলাফল করে এবার সে ভর্তি হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু অর্থের অভাবে আগামীতে পড়াশুনা চালাতে পারবে কিনা তাই নিয়ে আতংকিত মাফিয়া ও তার ভ্যান চালক পরিবার। উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে জীবনে বড় হওয়ার স্বপ্ন কি মাফিয়ার পূরণ হবে না ? সে আর দশজন মানুষের মতো সমাজে মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারবে না? আর মাফিয়ার এই স্বপ্ন পূরন হওয়ার জন্য প্রয়োজন সমাজের বিত্তবান থেকে শুরু করে সকলে সার্বিক সহযোগিতা। অদম্য মেধাবী মাফিয়া খাতুনের এই সাফল্যের গল্প এখন সবার মুখে মুখে।
পারিবারিক সূত্রে জানা, ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে জন্ম থেকেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধি অদম্য মেধাবী মাফিয়া। তাই অন্যের সাহায্য নিয়ে চলতে হয় তাকে। কিন্তু শিশুকাল থেকেই শিক্ষা জীবনে কখনও হার মানেনি মাফিয়া। মা আর বাবার প্রেরণায় ও অক্লান্ত সহযোগিতায় শত বাধা আর বিপত্তিকে পেছনে ফেলে সে এখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যায়ে আইন বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। এর ওর কাছ থেকে পাওয়া অর্থ, নিজের প্রতিবিন্ধ ভাতা আর ভ্যান চালক বাবার ঘাম ঝড়ানো অর্থ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারলেও বর্তমানে সেখানে থেকে পড়ালেখা চালানো নিয়ে সঙ্কায় রয়েছে মাফিয়া ও তার গরীব পরিবার। জন্ম থেকেই আর্থিক অনটন আজোও মাফিয়ার পিছু ছাড়েনি। তবুও মাফিয়া আরো সামনে এগিয়ে যেতে চায় আর এর জন্য প্রয়োজন সবার সার্বিক সহযোগিতা।
 
প্রতিবন্ধী মাফিয়া খাতুন বলেন সীমাহীন দু:খ আর কষ্ট আমাকে আলাদা করতে পারেনি শিক্ষা জীবন থেকে। প্রাথমিক থেকে সিঁড়ি বেয়ে এবার পা রেখেছি উচ্চ শিক্ষার গন্ডিতে। অর্নাসে ভর্তি হয়েছি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। কিন্তু আমি জানি না আগামী দিনগুলো আমার কিভাবে যাবে? পরিবারে রয়েছে আরো ক’জন ভাই-বোন। ভ্যান চালক বাবা তাদের চালাবে না আমাকে পড়ালেখার খরচ দিবে। মা আর কত দিন আমার জন্য মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করবে। তাই আমি সমাজের বিত্তবান মানুষদের সহযোগিতা কামনা করছি আমাকে হাত ধরে আরো সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

প্রতিবেশি আবুল কালাম বলেন, মাফিয়া অত্যন্ত মেধাবী ও দুর্গম মনের মেয়ে। সহজে সে ভেঙ্গে পড়ে না। তা আমরা দেখে আসছি। অনেক যুদ্ধ করে মাফিয়ার বাবা-মা তাকে পড়ালেখা করিয়ে আসছে। আমরাও যতটুকু পারি মাফিয়াকে সহযোগিতা করে আসছি। তবে দেশে বিত্তবানদেন এধরনের মানুষের জন্য বড় ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত।
 
মাফিয়ার মা সামেনা বিবি বলেন, আমার এই প্রতিবন্ধি মেয়ের পড়ালেখার জন্য কত জায়গায় গিয়েছি। কেউ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে আবার কেউ ফিরিয়ে নিয়েছে। আমি আমার মেয়ের পড়ালেখার জন্য, তার স্বপ্ন পূরণ করার জন্য মানুষের বাড়িতে ও জমিতে কাজ করেছি। এতদিন অনেক কষ্ট করে মেয়েকে চালিয়ে নিয়েছি কিন্তু এখন আর পারছি না। আমি আমার মেয়ের স্বপ্ন পূরণের জন্য সমাজের সবার সহযোগিতা চাই। মাফিয়ার বাবা রিকশা ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান। মেয়ের পড়া লেখার খরচ দিতে হিমসীম খাচ্ছেন মাফিয়ার বাবা।
 
নওগাঁ জেলা প্রশাসক মো: মিজানুর রহমান বলেন মাফিয়ার ভর্তির সময় আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা করেছি। কিন্তু আমাদের সবকিছুতেই সীমাবদ্ধা রয়েছে। তবে আগামীতে তার পড়া লেখার খরচ চালানোর জন্য দেশের বিত্তবানদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়ানোর আহবান জানিয়েছেন তিনি। মাফিয়ার মা সামেনা বিবির মোবাইল নম্বর: ০১৭৭০৬৩৭৬৪৫

নওগাঁয় ভ্যানে ফেরি করে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে দিচ্ছে আলোর ফেরিওয়ালারা
আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ: নওগাঁয় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে আলোর ফেরিওয়ালা কার্যক্রম। এক সময় এই জনপদের মানুষের কাছে বিদ্যুৎ মানে সোনার হরিণ হিসেবে গণ্য হতো। কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে প্রত্যন্ত গ্রামের ঘরে ঘরে গিয়ে ভ্যানে ফেরি করে বিদ্যুৎ পৌছে দিচ্ছে আলোর ফেরিওয়ালারা। এই আলোর ফেরিওয়ালাদের কাছে আবেদন করার ৫-১০ মিনিটের মধ্যে মিটার সংযোগ দিয়ে আলো জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সূত্রে জানা “শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ” এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে চলতি বছরের জানুয়ারী মাস থেকে সারা দেশে শুরু হয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ দুয়ার মিটারিং কার্যক্রম আলোর ফেরিওয়ালারা। বর্তমান সরকারের অঙ্গিকার ২০১৯ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে দেওয়া হবে। গ্রাম থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোন মানুষকে যেন আর অন্ধকারে থাকতে না হয় সেই লক্ষ বাস্তবায়ন করার জন্য দেশব্যাপী শুরু হয়েছে এই আলোর ফেরিওয়ালা কার্যক্রম। এই কার্যক্রমের আওতায় নওগাঁ জেলার ৪টি জোনাল অফিস থেকে ফেরি করে বিদ্যুৎ পৌছে দেওয়া হচ্ছে বিদ্যুৎ বিহীন ঘরের মানুষের কাছে। এখন আর কাউকে দালালদের মাধ্যমে এসে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর বিদ্যুতের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এই ফেরিওয়ালাদের কাছে এসে জামানত ও মিটারের খরচ দিলেই মুহুর্তের মধ্যে বাড়িতে পৌছে যাচ্ছে বিজলীর আলো বিদ্যুৎ। এতে করে অর্থের অপচয় ও দালালের হয়রানীর হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে গ্রামাঞ্চলের মানুষেরা।

উপজেলার খাঁনপুকুর বাজারের চা বিক্রেতা মোছা. রহিমা বেগম বলেন, আমার এই চায়ের দোকানে আগে টাকার অভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে পারিনি। যার কারণে রাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে চা বিক্রি করতাম। আর বিদ্যুৎ না থাকলে সন্ধ্যার পর তেমন কাস্টমাররা আসতো না। আমি আলোর ফেরিওয়ালার কাছ থেকে বিদ্যুৎ নিয়েছি। এরপর থেকে এখন অনেক টাকার চা বিক্রয় হয়। আমি আলোর ফেরিওয়ালার মাধ্যমে বিদ্যুৎ পেয়ে অনেক উপকৃত হয়েছি।

করজগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো. জাহাঙ্গির আলম বলেন কিছুদিন আগেও গ্রামের মানুষরা একটি বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার জন্য দালালদের হাতে হাজার হাজার টাকা তুলে দিয়েছে। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। ভ্যানে ফেরি করে বিদ্যুৎ পৌছে দেওয়ার এই কার্যক্রমের জন্য আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ এখন আর মানুষকে দালাল কিংবা অফিসে গিয়ে হয়রানী হতে হচ্ছে না। নিমিষের মধ্যেই পেয়ে যাচ্ছে বিদ্যুৎ। এতে করে আমরা অনেক উপকৃত হচ্ছি।

নওগাঁ পবিস-১ রাণীনগর জোনাল অফিসের এজিএম (ও এন্ড এম) সাইদী সবুজ খাঁন বলেন চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে আমাদের এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে রাণীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভ্যান গাড়ি নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমরা প্রায় ৪শত বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করেছি। সরকারের লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

আজকের দেশ সংবাদ . Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget