Latest Post
92 অন্যান্য 51 অর্থনীতি 24 আইন ও আদালত 76 আন্তর্জাতিক 613 এক ঝলক 3 কক্সবাজার 1 কবিতা 22 কিশোরগঞ্জ 4 কুড়িগ্রাম 6 কুমিল্লা 1 কুষ্টিয়া 3 কৃষি 107 কৃষি ও প্রকৃতি 10 ক্রিকেট 1 খাগড়াছড়ি 73 খেলাধুলা 49 গণমাধ্যম 12 গাইবান্ধা 1 গাজীপুর 17 চট্টগ্রাম 5 চাঁদপুর 5 চাঁপাইনবাবগঞ্জ 2 চুয়াডাঙ্গা 14 জয়পুরহাট 1 জাতীয় 3 জামালপুর 1 জোকস 6 ঝনিাইদহ 246 ঝালকাঠি 12 ঝিনাইদহ 4 টাঙ্গাইল 44 ঠাকুরগাঁও 39 ঢাকা 1 থী 4 দিনাজপুর 4807 দেশজুড়ে 42 ধর্ম 3437 নওগাঁ 14 নাটোর 2 নারায়ণগঞ্জ 1 নিহত ২ 1 নীলফামারীর 2 নেত্রকোনা 1 নোয়াখালী 3 পঞ্চগড় 4 পিরোজপু 2 প্রকৃতি 2807 প্রথম পাতা 23 প্রবাস 1 ফরিদপুর 17 ফিচার 8 ফুটবল 1 ফেনী 94 বগুড়া 2 বলিউড 58 বাগমারা 84 বিএমএসএফ 31 বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি 53 বিনোদন 51 বেনাপোল 2 ব্রাক্ষণবাড়িয়া 1 ব্রাহ্মণবাড়িয়া 51 ভিডিও 18 ভোলা 8 ভ্রমণ 59 ময়মুনসিংহ 1 মাগুরা 1 মাদারীপু 2 মাদারীপুর 1 মানিকগঞ্জ 1 মেহেরপুর 495 যশোর 5 রংপুর 103 রাজনীতি 3 রাজবাড়ী 95 রাজশাহী 3 লক্ষ্মীপুর 24 লাইফস্টাইল 2 লালমনিরহা 41 শিক্ষা 1 শ্রীপুর 891 সকল জেলা 2 সাতক্ষীরা 9 সিরাজগঞ্জ 3 সিলেট 63 সুনামগঞ্জ 31 স্বাস্থ্য 4 হবিগঞ্জ 1 হলিউড 10 bmsf

আবু রায়হান রাসেল, নওগাঁ: নওগাঁয় মেডিকেল কলেজ চালুর ঘোষণায় বুধবার আনন্দ শোভাযাত্রা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টায় নওগাঁ সদর হাসপাতাল চত্বর থেকে ওই শোভাযাত্রা বের হয়। এতে জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের চিকিৎসক-সেবিকা কর্মকর্তা, কর্মচারী ও নার্সি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
শোভাযাত্রাটি সদর হাসপাতাল চত্বর থেকে বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রা নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান। আরও উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক রওশন আরা খানম, জেলার সিভিল সার্জন মোমিনুল হক, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) নওগাঁ শাখার সভাপতি হাবিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল মাহমুদ, নওগাঁ আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মুনীর আলী আকন্দ প্রমুখ।
নওগাঁ সদর হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক রওশন আরা খানম বলেন, ‘নওগাঁর মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল নওগাঁয় একটি মেডিকেল কলেজের। অবশেষে নওগাঁয় মেডিকেল কলেজ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন সরকার। এজন্য আমি নওগাঁর সকল স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীর পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে ধন্যবাদ জানাই।’
জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে ঘোষিত নতুন মেডিকেল কলেজের জন্য একজন অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে বগুড়া মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিকস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল বারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকেই নতুন অনুমোদিত এই মেডিকেল কলেজে পাঠদান শুরু হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ আগস্ট স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম নওগাঁ সহ দেশে আরও চারটি মেডিকেল কলেজ চালুর ঘোষণা দেন।

আবু রায়হান রাসেল, নওগাঁ: বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নওগাঁয় অনশন কর্মসূচি করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। জেলা বিএনপির উদ্যোগে বুধবার শহরের নওযোয়ান মাঠের সামনে প্রধান সড়কের পাশে মাদুর ও চট বিছিয়ে দুই ঘন্টাব্যাপী অনশন কর্মসূচি পালিত হয়।
বেলা ১১টায় এ কর্মসূচি শুরু হয়। খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও মুক্তির দাবি সংবলিত ব্যানার এবং বিএনপির নেত্রীর বড় বড় ছবি নেতাকর্মীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়। দুপুর ১টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলে। এ কর্মসূচি ঘিরে নওযোয়ান মাঠ এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।
কর্মসূচি চলাকালে জেলা বিএনপির সভাপতি নজমুল হকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির কেন্দ্রƒীয় কার্যনির্বাহী সদস্য সাবেক সাংসদ শামসুল আলম প্রামাণিক, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, কেসি বদরুল আলম ও মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, যুগ্ন-সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রহমান, জেলা যুবদলের সভাপতি বায়েজিদ হোসেন প্রমুখ।
সাবেক সাংসদ শামসুল আলম প্রামাণিক বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করছে এই সরকার। কারাগারে তিনি জটিল রোগে ভুগছেন। অথচ তাঁকে সুচিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচন করতে চায় সরকার। কিন্তু তাঁদের সেই ষড়যন্ত্র সফল হবে না।’
জেলা বিএনপির সভাপতি নজমুল হক বলেন, ‘কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে জিয়ার সৈনিকেরা এখন ঐক্যবদ্ধ। দেশের মানুষকে সাথে নিয়ে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই সরকারের পতন ঘটানো হবে।’

নওগাঁ প্রতিনিধি: এসিআই মটরস এর সোনালিকা ট্রাক্টরের উদ্যোগে দিনব্যাপী ট্রাক্টরের ফ্রি সার্ভিস ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার বেলা ১১টায় নওগাঁ শহরের বরুনকান্দি এলাকায় এ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিনিয়র রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার মোঃ শামীম হোসাইন, রিজিওনাল সার্ভিস অফিসার হাসানুজ্জামান, স্থানীয় ডিলার এ,কে ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের স্বত্বাধিকারী এ.কে বাবু, এরিয়া সেলস এক্সিকিউটিভ মোঃ আবদুল্লাহ আল মামুন, মার্কেটিং অফিসার সুকুমার প্রামানিক, সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার খোকন মিয়া, রিকোভারী অফিসার ওলিউর রহমান, অনিক মটরস এর স্বত্বাধিকারী ওয়াজেদ আলী মামুনসহ সেলস ও সার্ভিস টিমের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।


সকাল থেকে শতাধিক সোনালিকা ট্রাক্টরের ফ্রি সার্ভিস, পেয়ার পার্টস এবং ড্রাইভার ও মালিকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রিফাত হোসাইন সবুজ.নওগাঁ: নওগাঁর মান্দা উপজেলার সতিহাটে এক গরু ব্যবসায়ী আতাব উদ্দিনকে মারপিটের অভিযোগে দুই গ্রাম পুলিশকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি থমথমে অবস্থায় বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মান্দা সার্কেল) হাফিজুল ইসলাম পুরিদর্শণ করেছেন। সেই সাথে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।


এঘটনায় দুলাল হোসেন (৩০) নামে এক যুবককে আটক করেছে থানা পুলিশ। দুলাল হোসেন উপজেলার বড়পই মন্ডল পাড়া গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে। সাময়িকভাবে বরখাস্ত দুই গ্রাম পুলিশ হলেন, গনেশপুর ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ খোরশেদ আলম (৩৫) ও আমিনুল ইসলাম (৩০)। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার গনেশপুর ইউনিয়নের সতিহাটে এ ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিন ছিল সতিহাট। হাটের মধ্যে গরু ব্যবসায়ী আতাব উদ্দিন সন্ধ্যার সময় কয়েকজন যুবক ও দুই গ্রাম পুলিশ এসে অন্যায় ভাবে মারপিট করে। ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় জনসাধারন এক হয়ে গ্রাম পুলিশের বিচার দাবী করে। এসময় পরিবেশ পরিস্থিতি থমথমে অবস্থা বিরাজ করে। অন্যায় ভাবে কেন ব্যবসায়ীকে মারপিট করা হয়েছে এর প্রতিকার চেয়ে ¯েøাগান দিতে থাকে। সংবাদ পেয়ে মান্দা সার্কেল এসপি, থানা পুলিশ ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। জনগনের দাবীর প্রেক্ষিতে পরিস্থিতি শান্ত করতে দুই গ্রাম পুলিশকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে দুলাল হোসেন নামে এক যুবকে আটক করা হয়েছে।


মান্দা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম হাবিবুল হাসান বলেন, গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে এক গরু ব্যবসায়ীকে মারপিটের অভিযোগ ছিল। পরে স্থানীয় জনসাধারন এক হয়ে গ্রাম পুলিশের বিচার দাবী করে। এর প্রেক্ষিতে ইউএনও স্যারের সাথে আলোচনা করে স্থানীয়দের বিষয়টি সার্বিক ভাবে বুঝিয়ে শান্ত ও আশ্বস্থ করা হয়। এসময় অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশকে তাৎক্ষনিক ভাবে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে। এছাড়া একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।


মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। আটকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ধামইরহাট-পতœীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর ধামইরহাটে ভূয়া স্যানিটারী কর্মকর্তা আটক করেছে পুলিশ। জানা গেছে, বুধবার দুপুরে উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চাপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পিঠালীতলা গ্রামের মাহবাদ উদ্দিনের ছেলে ভূয়া স্যানিটারী কর্মকর্তা সায়েম আলী (৪০) নিজেকে পল্লী উন্নয়ন বিভাগের স্যানিটারী পায়খানা নিস্কাসন বিভাগের স্যানিটারী কর্মী ও কোথাও কোথাও ইন্সুরেন্স কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ৫০ টাকার বিনিময়ে পায়খানা সামগ্রীসহ স্যানিটারী পায়খানা নির্মানের প্রতিশ্রতি দেয়। সাথে প্রত্যেককে ৫০ টাকার ১টি মুড়ি যা ছাপানো সরকারী রশিদ হিসেবে প্রদান করে। ঘটনা সন্দেহ হলে স্থানীয় গ্রামপুলিশ ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান অবগত করলে তিনি গ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় ধামইরহাট থানায় ভূয়া স্যানিটারী কর্মীকে থানায় সোপর্দ করে। এ বিষয়ে গ্রাম পুলিশ হামিম তানজিল বাদী হয়ে ধামইরহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করে।
ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্স (ওসি) মো. জাকিরুল ইসলাম জানান, ধৃত আসামী ৫০ টাকার সরকারী রশিদ প্রদানের মাধ্যমে টাকা আদায় করছিল, মুলত তার আইডি কার্ডে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার,রেজিষ্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, পল্লী উন্নয়ন বিভাগ, সচিবালয় লিংকরোড-ঢাকা একটি ভূয়া পরিচয়পত্র আছে, সে একজন নিজের জীবিকার তাগিদে এমন প্রতারনার আশ্রয় নিয়েছে বলে স্বীকারোক্তি প্রদান করেন, তাকে বাদীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার সকালে প্রতারককে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।

নয়ন বাবু, সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি: স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৭ বছর পর আবারো ফিরে এলো সেই ভয়াল ১৩ সেপ্টেম্বর। নওগাঁর সাপাহার উপজেলার স্বাধীনতাকামী মানুষদের কাঁদাতে ও ১৯৭১ এর ১৩ সেপ্টম্বরের সেই বিভৎস রুপ স্মরন করে দিতে। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধার একটি সস্ত্র দল জেলার সাপাহারবাসীকে শত্রæ মুক্ত করতে গিয়ে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হন এবং সে যুদ্ধে ২১জন বীর সেনা হাসিমুখে তাদের তাজা প্রান বিসর্জন দিয়েছিলেন, আহত হয়েছিলেন অনেকেই। তাই ১৩ সেপ্টেম্বর সাপাহারবাসীর জন্য ইতিহাসে ভয়াল দিন হিসেবে আজও পরিচিত। প্রতিবছর এই দিনটি স্মরন করে অনেক সন্তান হারা মা, ভাই হারা বোন ও তাদের আত্মীয় স্বজনরা অঝোর ধারায় তাদের চোখের পানি ফেলেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সে দিনের যুদ্ধে অংশগ্রহনকারী ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম জাহিদুল ইসলাম, মনছুর আলী, আঃ রাজ্জাক সহ একাধীক মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকার কিছু প্রবীন ব্যক্তিদের নিকট থেকে অনুসন্ধান করে জানা যায়, দেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার সাথে সাথে পাকহানাদার বাহিনী ও তার দোসররা সাপাহার সদরের পূর্বদিকে একটি পুকুর পাড় ও পাড় সংলগ্ন স্কুলে (বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়) একটি শক্তিশালী ক্যাম্প স্থাপন করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। এখান থেকেই তারা এলাকার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে অসহায় মা-বোনদের সম্ভ্রমহানী নিরহী লোকদের ব্রাশফায়ার ও বাড়ী ঘরে অগ্নি সংযোগ করে থাকত। দেশের এই প্রতিকূল অবস্থায় বর্বর হানাদার বাহিনীর কবল থেকে সাপাহারবাসীকে মুক্ত করার জন্য সাপাহার ও মহাদেবপুর এলাকার ৮০ জন মুক্তিযোদ্ধা দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে তৎকালীন পাকহানাদার বাহিনীর লেঃ শওকত আলীর অধীন সাপাহারের ওই শক্তিশালী ক্যাম্পটিকে উৎখাত করার জন্য ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে আক্রমন চালানের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। সিদ্ধান্ত মোতাবেক ওই দিন রাতে মুক্তিযোদ্ধা মেজর রাজবীর সিং এর আদেশক্রমে ও ইপিআর হাবিলদার আহম্মদ উল্লাহর নেতেৃত্বে ৮০ জন মুক্তিযোদ্ধার সংঘটিত দলটিকে ৩টি উপদলে বিভক্ত করে একটি দলকে সাপাহার-পতœীতলা রাস্তার মধইল ব্রিজে মাইন বসানোর কাজে নিয়োজিত করা হয়, যাতে পতœীতলা হতে শত্রæ সেনারা সাপাহারে প্রবেশ করতে না পারে। অন্য একটি দলকে নিয়োজিত করা হয় সার্বক্ষনিক টহল কাজে। আর মূল দলটি অবস্থান নেয় শত্রæ শিবিরের একেবারে কাছাকাছি একটি ধানক্ষেতে। কিন্তু হাজারো সর্তকতার জাল ভেদ করে মোনাফেক রাজাকার আলবদর মারফত মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমনের খবর পৌঁছে যায় শত্রু শিবিরে। তাৎক্ষনিক ভাবে পাকসেনারও যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে থাকে। চলতে থাকে উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধের নানা পরিকল্পনা। অবশেষে শেষ রাতের দিকে ধানক্ষেতে অবস্থান নেয়া মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র গর্জে ওঠার সাথে সাথে বেজে ওঠে যুদ্ধের দামামা। শুরু হয় উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুুল লড়াই। লড়ায়ের একপর্যায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধার দলটি যখন শত্রæ সেনাদের প্রায় কোন ঠাসা করে ফেলেছিল ঠিক এমনি অবস্থায় ভোরের আভাস পেয়ে ব্রীজে মাইন বসানোর দলটি সেখান থেকে সরে পড়লে তার কিছুক্ষন পরই পতœীতলা হতে অসংখ্য শত্রæ সেনা আরোও ভারী অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সাপাহারে প্রবেশ করে। এর পর শত্রæপক্ষের অত্যাধুনিক ভারী অস্ত্রের মুখে হিমশিম খেয়ে এক সময় বাধ্য হয়ে পিছু হটতে হয় মুক্তিযোদ্ধাদের। এ সময় শত্রæপক্ষের গুলির আঘাতে বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান, আইয়ুব আলী, আব্দুল হামিদসহ ১৫ জন ঘটনাস্থলেই শাহাদাতবরন করেন। আহত হন মনছুর আলী, এসএম জাহিদুল ইসলাম, দলনেতা আহমদ উল্লাহ, সোহরাব আলী, নুরুল ইসলাম সহ অনেকে। এছাড়া শত্রæদের হাতে জীবিত ধরা পড়েন ৮ জন মুক্তিযোদ্ধা। শত্রæরা আটক ৮ জনের মধ্যে ৪ জনকে পতœীতলার মধইল স্কুলের ছাদে তুলে কুপিয়ে হত্য করে লাশগুলি লাথি মেরে নিচে ফেলে দেয়। ২ জন কে ধরে এনে মহাদেবপুরের একটি কূপে ফেলে দিয়ে জীবন্ত কবর দেয় এবং সাপাহারের তিলনা গ্রামের আবু ওয়াহেদ গেটের ও মহাদেবপুর উপজেলার জোয়ানপুর গ্রামের মৃত এসএম আবেদ আলীর পুত্র টকবগে যুবক এসএম জাহিদুল ইসলামকে ধরে এনে নাটোরের রাজবাড়ীতে তৈরীকৃত জেলখানায় বন্দি করে রাখে।
শত্রæ সেনার বন্দিদশা ও সেই ভয়াল ১৩ সেপ্টেম্বর এর বর্ণনা দিতে গিয়ে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া জেল ফেরত যুদ্ধাহত জাহিদুল ইসলাম হাউমাউ করে কেঁদে ফেললেন এবং অশ্রæসিক্ত নয়নে বললেন, মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন আস্থানা গোপন তথ্য ও অস্ত্র ভান্ডারের খবর জানার জন্য প্রতিদিন সকালে তাদের দু’জনকে হানাদার বাহিনীর এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকট উপস্থিত করা হত। তথ্য আদায়ে ব্যার্থ হলে কর্মকর্তার সামনেই ধারালো অস্ত্র (চাকু) দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কেটে লবন মাখিয়ে দেয়া হতো। অসহ্য যন্ত্রনায় অসহায় মুক্তিযোদ্ধারা যখন ছটফট করতো শত্রæবাহিনীর সকলেই তখন আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠত। এমনি হাজারো দুঃখ কষ্টের মাঝে থেকে সুযোগ বুঝে একদিন তারা জেলের প্রাচীর টপকে পালিয়ে এসে প্রানে বাঁচেন।
এ বিষয়ে সাপাহার উপজেলার সদ্য সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলহাজ্ব ওমর আলী জানান, ২১ বীর সেনার স্বরনে আগামীকাল মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে স্বরন সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে।

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

আজকের দেশ সংবাদ . Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget