Latest Post
92 অন্যান্য 51 অর্থনীতি 24 আইন ও আদালত 76 আন্তর্জাতিক 613 এক ঝলক 3 কক্সবাজার 1 কবিতা 22 কিশোরগঞ্জ 4 কুড়িগ্রাম 6 কুমিল্লা 1 কুষ্টিয়া 3 কৃষি 107 কৃষি ও প্রকৃতি 10 ক্রিকেট 1 খাগড়াছড়ি 73 খেলাধুলা 49 গণমাধ্যম 12 গাইবান্ধা 1 গাজীপুর 17 চট্টগ্রাম 5 চাঁদপুর 5 চাঁপাইনবাবগঞ্জ 2 চুয়াডাঙ্গা 14 জয়পুরহাট 1 জাতীয় 3 জামালপুর 1 জোকস 6 ঝনিাইদহ 246 ঝালকাঠি 12 ঝিনাইদহ 4 টাঙ্গাইল 44 ঠাকুরগাঁও 39 ঢাকা 1 থী 4 দিনাজপুর 4807 দেশজুড়ে 42 ধর্ম 3437 নওগাঁ 14 নাটোর 2 নারায়ণগঞ্জ 1 নিহত ২ 1 নীলফামারীর 2 নেত্রকোনা 1 নোয়াখালী 3 পঞ্চগড় 4 পিরোজপু 2 প্রকৃতি 2807 প্রথম পাতা 23 প্রবাস 1 ফরিদপুর 17 ফিচার 8 ফুটবল 1 ফেনী 94 বগুড়া 2 বলিউড 58 বাগমারা 84 বিএমএসএফ 31 বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি 53 বিনোদন 51 বেনাপোল 2 ব্রাক্ষণবাড়িয়া 1 ব্রাহ্মণবাড়িয়া 51 ভিডিও 18 ভোলা 8 ভ্রমণ 59 ময়মুনসিংহ 1 মাগুরা 1 মাদারীপু 2 মাদারীপুর 1 মানিকগঞ্জ 1 মেহেরপুর 495 যশোর 5 রংপুর 103 রাজনীতি 3 রাজবাড়ী 95 রাজশাহী 3 লক্ষ্মীপুর 24 লাইফস্টাইল 2 লালমনিরহা 41 শিক্ষা 1 শ্রীপুর 891 সকল জেলা 2 সাতক্ষীরা 9 সিরাজগঞ্জ 3 সিলেট 63 সুনামগঞ্জ 31 স্বাস্থ্য 4 হবিগঞ্জ 1 হলিউড 10 bmsf

এক সহকর্মীর যৌন নির্যাতন ধামাচাপা দেয়ার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত অস্ট্রেলিয়ার একজন ক্যাথলিক আর্চবিশপ পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার দেশটির একটি আদালত একজন ধর্মযাজকের যৌন নিপীড়নের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার ঘটনায় দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডের আর্চবিশপ ফিলিপ উইলসন দোষী সাব্যস্ত করেন।


এ ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত উইলসনই বিশ্বের সবচেয়ে সিনিয়র ক্যাথলিক। বুধবার এক বিবৃতিতে উইলসন বলেন, তিনি শুক্রবার তার দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেবেন। তিনি বলেন, আদালতের রায়ের আলোকে এটা সমীচীন যে আমি আর্চবিশপের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াই।


আর্চবিশপ উইলসন ওই বিবৃতিতে আরও বলেছেন, যদি কোনো সময় আর্চবিশপের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর মতো একটা আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন হয়ে পড়ে, তাহলে আমি সেটা করবো।


আদালতের রায়ে এই আর্চবিশপকে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে আর্চবিশপ উইলসন তার রায়ের বিরুদ্ধে নিউক্যাসল লোকাল কোর্টে আবেদন করবেন কিনা সে ব্যাপারে তিনি কোনো ইঙ্গিত দেননি।


মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার একটি আদালত আর্চবিশপ ফিলিপ উইলসনকে ১৯৭০-এর দশকে শিশু যৌন নিগ্রহের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার দায়ে দোষী বলে রায় দিয়েছেন।


উল্লেখ্য, নিউ সাউথ ওয়েলসের ধর্মযাজক জেমস ফ্লেচার ১৯৭০-এর দশকে গির্জার ছেলে শিশুদের যৌন নির্যাতন করতেন। ফিলিপ উইলসন তখন জেমস ফ্লেচারের সহকারী ছিলেন। এ ঘটনা তাকে জানানো হলেও তিনি তা প্রতিকারের কোনো চেষ্টা না করে গির্জার ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য সেটি ধামাচাপা দেন।

শ্বাসরুদ্ধ ম্যাচ, টান টান উত্তেজনা গ্যালারী জুড়ে। জয় সেলিব্রেশনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে সানরাইজার্সের সমর্থকরা। কিন্তু একি! পাশার দান উল্টে সেই সেলিব্রেশন করছে চেন্নাই! কি পাঠক চমকে উঠলেন? চমকানোর কিছু নেই। ঘটেছে এমনই। হায়দরাবাদের সেলিব্রেশনকে একাই টেনে নিজেদের উল্লাসের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছেন ফাফ ডুপ্লেসি।


ম্যাচের এক পর্যায়ে বল ও রানের পার্থক্য ছিল ৩০। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পাঁচ বল ও দুই উইকেট হাতে রেখেই ফাইনালে পৌছে যায় দুই বছর নিষিদ্ধ থাকা চেন্নাই। এমন ম্যাচে হারের জন্য পুরো দায়ভার নিতে হবে কার্লোস ব্র্যাথওয়েটকে। তার এক ওভারে ২০ রানেই ম্যাচে ফেরে চেন্নাই। ১৮তম ওভারে বোলিংয়ে আসার আগে চেন্নাইয়ের প্রয়োজন ছিল ১৮ বলে ৪৩ রানের। সেখানে ওভার শেষে রান চলে আসে ১২ বলে ২৩ রান।


মঙ্গলবার প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় চেন্নাই। যদিও ওয়াংখেড়েকে বলা হয় রান প্রসবিনী। কিন্তু চেন্নাইয়ের বোলারদের তোপে ১৩৯ রান করতে সক্ষম হয় হায়দরাবাদ।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই শিখর ধাওয়াকে হারিয়ে হায়দ্রাবাদের বিপর্যয় শুরু। ৬৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে দলটি। তবে সাত নম্বরে নেমে ব্র্যাথওয়েট ২৯ বলে ৪ ছক্কা ও ১ চারে অপরাজিত ৪৩ রান করেন। এছাড়া ইউসুফ পাঠান ও কেন উইলিয়ামসনের ব্যাট থেকে আসে ২৪ রান করে।


চেন্নাইয়ের পক্ষে ডোয়াইন ব্রাভো ২টি, চাহার, লুঙ্গি, ঠাকুর ও জাদেজা প্রত্যেকে ১টি করে উইকেট লাভ করেন।
এদিন সাবিক আল হাসান ব্যাট এবং বল দুই বিভাগেই ব্যর্থ। পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১০ বলে ২ চারে ১২ রান করেন। বল করে ২ ওভারে ২০ রান দিয়েছেন।


জয়ের জন্য ১৪০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে এক সময় পরাজয়ের শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিল চেন্নাই। শেন ওয়াটসন ফিরে যান কোনো রান না করেই। সুরেশ রায়না ২২ রান করে বিদায় নিলে বিপদে পড়ে যায় চেন্নাই। সেই বিপদকে আরও বাড়িয়ে তোলেন আম্বাতি রাইডু (০), মহেন্দ্র সিং ধোনি (৯), ডোয়াইন ব্র্যাভো (৭) ও রবীন্দ্র জাদজারা (৩)।


যদিও একপ্রান্ত আঁকড়ে ধরে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন ফাফ ডু প্লেসি। দীপক চাহার ১০ রান করে ডু প্লেসিকে কিছুটা সঙ্গ দেন। এরপর হরভজন সিংও আউট হয়ে যান ২ রান করে। সর্বশেষ শার্দুল ঠাকুর প্রতিরোধ গড়ে দাঁড়ান। ৫ বলে তিনি খেলেন ১৫ রানের ইনিংস। অন্যদিকে ফাফ ডু প্লেসি ৪২ বলে অপরাজিত থাকেন ৬৭ রানে। ৫টি বাউন্ডারির সঙ্গে ৪টি ছক্কার মার মারেন তিনি।


সন্দ্বীপ শর্মা, সিদ্ধার্থ কাউল এবং রশিদ খান নেন ২টি করে উইকেট। ভুবনেশ্বর কুমার ১টি, সন্দ্বীপ শর্মা ২টি, সিদ্ধার্থ কাউল ২টি করে উইকেট নেন।


আসরটা মোটেও ভালো যাচ্ছিল না ডু প্লেসির। একাদশেও ছিলেন না নিয়মিত। এর আগে মাত্র চার ম্যাচে সুযোগ পেয়েছিলেন। রান করেছিলেন ৮৫। কিন্তু ৩৩ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান কোয়ালিফাইয়ার ম্যাচকেই আসল মঞ্চ বানালেন।


২০১০ ও ২০১১ টানা দুই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল চেন্নাই। তবে শেষ দুই আসরে নিষেধাজ্ঞার কারণে ছিল না ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। নির্বাসন কাটিয়ে ফিরেই ফাইনালে জায়গা করে নিল অন্যতম ফেভারিটরা। এনিয়ে ৭ বারের মতো আইপিএলের ফাইনালে উঠলো চেন্নাই।

দিন কয়েক আগে কথাটি বলেছিলেন হার্নান ক্রেসপো—লিওনেল মেসির বন্ধু তালিকায় নেই বলে মাউরো ইকার্দি সুযোগ পান না আর্জেন্টিনা দলে। কিন্তু যখন সুযোগ পেয়েছেন, তখন সেটি আবার কাজেও লাগাতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড। জাতীয় দলের চার ম্যাচে তাঁর কোনো গোল নেই। এই চার ম্যাচের শেষ তিনটি আবার হোর্হে সাম্পাওলির অধীনে।


সাবেক ফরোয়ার্ড ক্রেসপোর অনুমান কিংবা সাম্পাওলির অধীনের ব্যর্থতা—কারণ যা-ই হোক, শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের চূড়ান্ত ২৩-এ জায়গা করে নিতে পারেননি ইকার্দি। ইতালিয়ান সিরি ‘এ’-র সদ্য সমাপ্ত মৌসুমের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে ছাড়াই বিশ্বকাপে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। যেখানে তাদের পুরোপুরি নাম্বার নাইন শুধু দুজন। ফিটনেস শঙ্কায় থাকা সের্হিয়ো আগুয়েরো এবং ফর্ম নিয়ে সংশয়ে থাকা গনসালো হিগুয়াইন। ইকার্দিকে বাদ দিয়ে যে বড় জুয়া খেলেছেন কোচ সাম্পাওলি, তা আর বলতে!


নিজেও সেটি স্বীকার করেছেন আর্জেন্টিনার কোচ, যদিও ইন্টার মিলানের ফরোয়ার্ডকে নিয়ে আলাদা কিছু বলেননি, ‘দলের খেলার সংস্কৃতি নিয়ে আমরা জুয়া ধরেছি। যেন বিশ্বকাপ চ্যালেঞ্জে ভয় ছাড়া খেলতে পারি। যেকোনো রক্ষণ দেয়াল ধ্বংস করতে চাই আমরা। সে জন্য যেসব ফুটবলারকে স্কোয়াডে ডেকেছি, তাদের সামর্থ্যের সুবিধা নিতে হবে।’ দলের ডরভয়হীন খেলার তাগিদও তাঁর কণ্ঠে, ‘বিশ্বকাপ হচ্ছে এমন চ্যালেঞ্জ, যেখানে সব কিছু ঠিকঠাক করতে না পারলে সমস্যায় পড়তে হবে। ভয়হীন থেকে তাই ওই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।’ আর ৩৫ জন থেকে ২৩ জনে নামিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পর্কেও বলেছেন সাম্পাওলি, ‘৩৫ জনের তালিকা থেকে আমরা অনেক বিশ্লেষণ করেছি। দল নিয়ে, প্রক্রিয়া নিয়ে, ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মাঠের প্রতিটি অঞ্চল নিয়ে পর্যালোচনার পর ফুটবলারদের মূল্যায়ন শেষে বেছে নিয়েছি এই ২৩ জনকে।’


এই ২৩ জনের মধ্যে পুরো আর্জেন্টিনার ভরসার কেন্দ্রে লিওনেল মেসি। কোচ সাম্পাওলি বেশি উত্ফুল্ল দলের সেরা তারকার শারীরিক অবস্থার কারণে, ‘বিশ্বকাপ নিয়ে মেসি খুব রোমাঞ্চিত এবং আশাবাদী। শারীরিকভাবে ও খুব ভালো অবস্থায় রয়েছে, বার্সেলোনার হয়ে আগেভাগে লিগ জয় নিশ্চিত হওয়াটা এর বড় কারণ। এর পরও প্রস্তুতি ম্যাচগুলোয় মেসির খেলা নিয়ে আমরা তেমন একটা ভাবছি না। তবে ও খুব ভালো অবস্থায় পৌঁছবে বিশ্বকাপে।’ তবে মেসির সঙ্গে অন্য ১০ জন কারা হবেন, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে, ‘আমাদের একটি ধারণা রয়েছে, তবে প্রথম ম্যাচের একাদশ ঠিক করা থেকে এখনো অনেক দূরে। প্রতিদিনের অনুশীলনে অনেক কিছুই পাল্টাতে থাকবে নিশ্চিতভাবে।’


সর্বশেষ দুটি প্রীতি ম্যাচের মধ্যে ইতালিকে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা; কিন্তু স্পেনের কাছে আবার হেরে গেছে ১-৬ গোলে। তবে এ দুটো ম্যাচ থেকে বিশ্বকাপ স্কোয়াড তৈরির ধারণা পেয়েছেন বলে দাবি সাম্পাওলির, ‘স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের পর স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছি, আমাদের কী প্রয়োজন। এর প্রতিফলন বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কেয়াডে রয়েছে। স্পেন ও ইতালির বিপক্ষে ম্যাচের পর আমাদের ধারণা পরিষ্কার হয়েছে। অভিজ্ঞ ফুটবলাররা নিরুদ্বেগ আবহ তৈরি করবে তরুণদের জন্য, যে তরুণরা অত্যন্ত প্রতিভাবান।’ আর ইনজুরিতে থাকা সের্হিয়ো আগুয়েরো, গাব্রিয়েল মেরকাদো ও লুকাস বিলিয়াকে নিয়েও খুব উদ্বেগ নেই তাঁর, ‘যে ফুটবলারদের আমি নিয়েছি, তাদের দায়িত্বও আমি নিচ্ছি। নিজেদের সেরাতে যারা নেই, তাদের দলে নেওয়া কখনো আদর্শ নয়। তবে আগুয়েরো এখন ট্রেনিং করছে স্বাচ্ছন্দ্যে। মেরকাদো অনুশীলন করবে বুধবার থেকে। আর বিলিয়ার অবস্থা আমরা দেখব। তবে আমি যতটুকু বুঝি, ও খুব একটা আনফিট না।’

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর নকশা করা টুপি যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে। দেশে আসছে বৈদেশিক মুদ্রা। আর এসব টুপি তৈরি করছেন গ্রামীণ নারীরা। টুপি তৈরির আয় থেকে অভাবের সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরেছে। এসেছে সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্য। ঈদকে সামনে রেখে নওগাঁ সদর, রানীনগর, মান্দা ও মহাদেবপুরে গ্রামীণ নারীদের টুপি তৈরির ব্যস্ত। বিশেষ কায়দায় সেলাই ও ভাঁজ করে এই কাপড় দিয়ে বানানো হচ্ছে টুপি। সবার হাতে সুঁই-সুতা ও কাপড়। সুঁইয়ের ফোঁড়ে নান্দনিক নকশা ফুটে উঠছে একেকটা কাপড়ে।নওগাঁর নকশা করা টুপি যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে। দেশে আসছে বৈদেশিক মুদ্রা। আর এসব টুপি তৈরি করছেন গ্রামীণ নারীরা। টুপি তৈরির আয় থেকে অভাবের সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরেছে। এসেছে সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্য। ঈদকে সামনে রেখে নওগাঁ সদর, রানীনগর, মান্দা ও মহাদেবপুরে গ্রামীণ নারীদের টুপি তৈরির ব্যস্ত। বিশেষ কায়দায় সেলাই ও ভাঁজ করে এই কাপড় দিয়ে বানানো হচ্ছে টুপি। সবার হাতে সুঁই-সুতা ও কাপড়। সুঁইয়ের ফোঁড়ে নান্দনিক নকশা ফুটে উঠছে একেকটা কাপড়ে।


জানা যায়, জেলার তিনটি উপজেলার ৭০টি গ্রামের বিভিন্ন বয়সী প্রায় ৫০ হাজার নারী কারিগর এই বিশেষ ধরণের টুপি তৈরির কাজের সঙ্গে জড়িত। তবে মহাদেবপুরে উপজেলার খোসালপুর, কুঞ্জবন, খাজুর, রনাইল ও ভালাইন, সুলতানপুর, শিবগঞ্জ, তাতারপুর, মধুবন, হরমনগর, উত্তরগ্রামসহ কয়েকটি গ্রামের টুপি তৈরির কারিগর বেশি। আর ঈদকে সামনে রেখে তাদের বেড়েছে ব্যস্ততা। কেউ বাড়ির উঠানে আবার কেউ দলবদ্ধভাবে টুপি তৈরি করছেন।


এসব কারিগরের কাছে নওগাঁ ও মহাদেবপুরের খুচরা ব্যবসায়ীরা বিদেশি ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন নকশার ছাপ দেয়া সাদা রংয়ের টুপির কাপড় ও সুতা কারিগরদের কাছে পৌঁছে দেন। এসব কাপড়ে সুঁই-সুতা দিয়ে সুন্দর সুন্দর নকশা ফুটিয়ে তুলেন নারী কারিগরেরা। টুপিতে নকশা তৈরিতে সময় এবং শ্রমের ওপর ভিত্তি করে কারিগরদের পারিশ্রমিক দেয়া হয়। কোনো টুপিতে নকশা তুলতে ২০-২৫ টাকা আবার কোনো টুপিতে নকশা করতে ৬০০-৭০০ টাকা পর্যন্ত দেয়া হয়। টুপিতে নকশা তৈরির কাজ একজন নারী কারিগরের মাসে ৩০০০-৪০০০ টাকা আয় হয়।


বেশির ভাগ বোতাম সেলাই ও চেইন সেলাই টুপি তৈরি করা হয়। নিপুন হাতে প্রতিটি টুপি তৈরি করতে প্রকার ভেদে ৭-১৫ দিন সময় লাগে। এ কাজে স্বাবলম্বী হলেও সময়ের ন্যায্য মজুরি পান না তারা। আর এসব নকশা করা টুপি যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের পাকিস্তান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কুয়েত, কাতার, বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। দেশে আসছে বৈদেশিক মুদ্রা।


মহাদেবপুর উপজেলার মধুবন গ্রামের গৃহবধূ সাজেদা খাতুন। টুপির প্রাথমিক কাজটি করেন তিনি। তিনি বলেন, এক থান কাপড় থেকে প্রকারভেদে ৯০-১০০ টি টুপি তৈরি হয়। পলিথিনের কাগজে সুঁই দিয়ে বিভিন্ন ফুলের ডিজাইন করা হয়। এরপর সাইজ করা টুপির কাপড়ে ডিজাইন পলিথিন রেখে তেল ও ব্লু (নীল রং) দিয়ে ছাপ দেয়া হয়। ছাপ দেয়া ফুলের উপর সিঙ্গার মেশিন দিয়ে সেলাই করা হয়। এ কাজটি করতে ১-২ দিন সময় লাগে। যার মজুরি পান ৭০০ টাকা। এরপর এ টুপিটি বিভিন্ন কারিগরদের কাছে হাতের কাজ করতে দেয়া হয়।


খোসালপুর গ্রামের রাবেয়া খাতুন বলেন, অভাবের সংসারে কোনো দিন খাই তো কোনো দিন খাই না। তাই এক প্রতিবেশীর উৎসাহে টুপিতে নকশা তোলার কাজ শুরু করি। স্বামী ও নিজের আয় দিয়ে এখন সংসার চলছে স্বাচ্ছন্দ্যে। নিজেদের উপার্জিত টাকা দিয়ে তিন শতক জমি কিনে তাতে ইটের বাড়িও তুলেছি।


রনাইল গ্রামের কলেজ ছাত্রী আরিফা খাতুন বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি টুপি তৈরর কাজ করে মাসে দুই থেকে তিন হাজার টাকা আয় হয়। এতে কলেজে যাওয়া-আসার খরচসহ আনুষঙ্গিক কাজে ব্যয় করা হয় এবং পরিবারেও দেয়া হয়। তবে পরিশ্রমের তুলনায় পারিশ্রমিকটা কম পাওয়া যায়।


মহাদেবপুরের খুচরা টুপি ব্যবসায়ী মাজহারুল ইসলাম জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে এই এলাকায় বিদেশি টুপি তৈরির কাজ শুরু হয়। আগে শুধু ‘কুপিয়া’ টুপি তৈরি হতো। এটি ওমানের জাতীয় টুপি। এখন পাকিস্তান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কুয়েত, কাতার, বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচের বিভিন্ন দেশে এখানকার তৈরি টুপি যাচ্ছে।


তিনি জানান, এসব টুপি ঢাকার চকবাজার, বাইতুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেটে পাঠানো হয়। সেখানকার ব্যবসায়ীরা আবার মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এসব টুপি রফতানি করেন। কাপড় ও নকশা ভেদে এসব টুপি ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হয়। সারা বছরই আমরা কারিগরদের টুপির অর্ডার দিয়ে থাকে। তবে রমজান ও ঈদ উপলক্ষে টুপির চাহিদা বেড়ে যায়।

রাজশাহী: ব্যানার সরিয়ে ফেলায় রাস্তায় বসে ক্ষোভ জানিয়েছেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। সাহেববাজার এলাকায় ফুটওভার ব্রিজে টানানো তার ব্যানার সরিয়ে নগর আওয়ামী লীগের একটি ব্যানার টানিয়ে দেয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার নগরীর প্রাণকেন্দ্র সাহেববাজার এলাকায় আরডিএ মার্কেটের সামনের সড়কে বুলবুল এই কর্মসূচি পালন করেন। কিন্তু এ সময় মেয়রের সামনে পয়সা ছুড়ে এক ব্যক্তি প্রতিবাদের কটাক্ষ করলেও তাকে চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ।পয়সা ছুড়ে কটাক্ষ, রাস্তায় বসলেন মেয়র


জানা যায়, সোমবার রাতে মেয়রের ওই ব্যানারটি সরিয়ে ফেলা হয়। এরপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের ব্যানার টানিয়ে দেন। নগর বিএনপির সভাপতি ও সিটি মেয়র বুলবুল তার ব্যানারে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে নগরবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। আহ্বান জানিয়েছিলেন নগর পরিচ্ছন্ন রাখার। আর মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যানারে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের পক্ষ থেকে নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। ব্যানারে আসছে সিটি নির্বাচনে লিটনকে মেয়র নির্বাচিত করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।


রাতে ব্যানার সরিয়ে ফেলার খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। এ সময় মুখোমুখি অবস্থান নেন বিএনপি-ছাত্রদল ও আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সেখানে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনও উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ গেলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তারা সবাই চলে যান।


তবে যাওয়ার সময় আওয়ামী লীগের ব্যানার সরিয়ে নিতে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেধে দিয়ে আল্টিমেটাম দেন মেয়র বুলবুল। বলেন এই সময়ের মধ্যে ব্যানার অপসারণ করা না হলে তিনি রাস্তায় বসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। কথামতো মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় তিনি রাসিকের একজন নারী কাউন্সিলর ও দলের কয়েকজন নেতাকর্মীকে নিয়ে ওই ফুটওভার ব্রিজের সামনে গিয়ে রাস্তায় বসে পড়েন।


এ সময় পুলিশ গিয়ে তাদের চারপাশ থেকে ঘিরে থাকে। দুপুর ১২টা ২৪ মিনিটের দিকে কেউ একজন মেয়রের সামনে এক টাকার একটি কয়েনও ছুড়ে মারেন। কয়েনটি মেয়রের সামনে গিয়ে পড়ে। এ সময় পুলিশের একজন কর্মকর্তা পয়সা ছুড়ে ফেলা ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন। তবে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে তাকে শনাক্ত করা যায়নি। পরে ওই পুলিশ কর্মকর্তার নির্দেশে পুলিশের একজন সদস্য মেয়রের সামনে থেকে কয়েনটি সরিয়ে নেন।


এর কয়েক মিনিট পরই নগর ছাত্রলীগের সভাপতি রকি কুমার ঘোষের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী একটি মিছিল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। তারা মেয়র বুলবুলের কাছ থেকে মাত্র কয়েকহাত দূরে অবস্থান নিয়ে মেয়রকে কটূক্তি করে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় উত্তেজনা দেখা দেয় ও নগরীর প্রাণকেন্দ্রের এই রাস্তায় সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। ১২টা ৫৪ মিনিটে মেয়র বুলবুল রাস্তা থেকে উঠে চলে যান। পুলিশ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদেরও সরিয়ে দেয়।


এর আগে কর্মসূচি চলাকালে অবস্থান কতক্ষণ চলবে জানতে চাইলে মেয়র বুলবুল বলেন, ‘দেখা যাক, এটা প্রতিবাদ। মানুষকে তো রাস্তায় থাকতে হবে। সব জায়গায় আওয়ামী লীগের দখলদারি চলছে। আমার ব্যানার সরিয়ে ফেলে তারা নিজেদের ব্যানার টানিয়ে হীনমন্যতার পরিচয় দিয়েছে।’


বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘ওভারব্রিজে আগে থেকে আওয়ামী লীগেরই ব্যানার টানানো ছিল। মেয়র বুলবুল তা অপসারণ করে নিজেরটা টানিয়েছিলেন। তাই দলের কর্মীরা তার ব্যানার সরিয়ে আবার আওয়ামী লীগেরটা টানিয়েছেন। ব্যানার সরিয়ে নেয়ার কোনো সিদ্ধান্ত নেননি বলেই জানান লিটন।’

রাজশাহী: রাজশাহীর তানোরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন নিছার আলী (৩৫) নামের এক ব্যক্তি। সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার চাঁন্দুড়িয়া ইউনিয়নের জোয়ানপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সকালে অসুস্থ নিছার আলীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয় পুলিশ। তিনি ওই গ্রামের মৃত সৈয়দ আলীর ছেলে।


নিহত গৃহবধূ হলেন- উপজেলার রাতৈল গ্রামের শুকুর আলীর মেয়ে সুম্মাতুন খাতুন (৩০)। এ দম্পতির এক মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে।


এ তথ্য নিশ্চিত করে তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় নিহত ওই গৃহবধূর বাবা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে ওই গৃহবধূর স্বামী নিছার আলীকে। পুলিশ হেফাজতে তাকে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সুস্থ হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


ওসি আরও বলেন, নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।


ওই গৃহবধূর পরিবারের অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে সোমবার নিজ বাড়িতে স্ত্রীকে হত্যা করেন নিছার। এরপর তিনিও বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। টের পেয়ে সকালে থানায় খবর দেন প্রতিবেশীরা। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। মুমূর্ষু অবস্থায় নিছার আলীকেও হাসপাতালে নেয় পুলিশ।

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

আজকের দেশ সংবাদ . Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget