Latest Post
92 অন্যান্য 51 অর্থনীতি 24 আইন ও আদালত 76 আন্তর্জাতিক 613 এক ঝলক 3 কক্সবাজার 1 কবিতা 22 কিশোরগঞ্জ 4 কুড়িগ্রাম 6 কুমিল্লা 1 কুষ্টিয়া 3 কৃষি 107 কৃষি ও প্রকৃতি 10 ক্রিকেট 1 খাগড়াছড়ি 73 খেলাধুলা 49 গণমাধ্যম 12 গাইবান্ধা 1 গাজীপুর 17 চট্টগ্রাম 5 চাঁদপুর 5 চাঁপাইনবাবগঞ্জ 2 চুয়াডাঙ্গা 14 জয়পুরহাট 1 জাতীয় 3 জামালপুর 1 জোকস 6 ঝনিাইদহ 246 ঝালকাঠি 12 ঝিনাইদহ 4 টাঙ্গাইল 44 ঠাকুরগাঁও 39 ঢাকা 1 থী 4 দিনাজপুর 4807 দেশজুড়ে 42 ধর্ম 3437 নওগাঁ 14 নাটোর 2 নারায়ণগঞ্জ 1 নিহত ২ 1 নীলফামারীর 2 নেত্রকোনা 1 নোয়াখালী 3 পঞ্চগড় 4 পিরোজপু 2 প্রকৃতি 2807 প্রথম পাতা 23 প্রবাস 1 ফরিদপুর 17 ফিচার 8 ফুটবল 1 ফেনী 94 বগুড়া 2 বলিউড 58 বাগমারা 84 বিএমএসএফ 31 বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি 53 বিনোদন 51 বেনাপোল 2 ব্রাক্ষণবাড়িয়া 1 ব্রাহ্মণবাড়িয়া 51 ভিডিও 18 ভোলা 8 ভ্রমণ 59 ময়মুনসিংহ 1 মাগুরা 1 মাদারীপু 2 মাদারীপুর 1 মানিকগঞ্জ 1 মেহেরপুর 495 যশোর 5 রংপুর 103 রাজনীতি 3 রাজবাড়ী 95 রাজশাহী 3 লক্ষ্মীপুর 24 লাইফস্টাইল 2 লালমনিরহা 41 শিক্ষা 1 শ্রীপুর 891 সকল জেলা 2 সাতক্ষীরা 9 সিরাজগঞ্জ 3 সিলেট 63 সুনামগঞ্জ 31 স্বাস্থ্য 4 হবিগঞ্জ 1 হলিউড 10 bmsf

এফ এম আবু ইউসুফ রাণীনগর (নওগাঁ): নওগাঁর রাণীনগরে ট্রাক্টর শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি আদায়ের দাবিতে অনিদিষ্টকালের জন্য শ্রমিকরা ধর্মঘট করেছে। ট্রাক্টর মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ তাদের দাবি না মানায়  মঙ্গলবার সকাল থেকে অনিদিষ্টকালের জন্য শ্রমিকরা ধর্মঘট পালন করছে। এতে বন্ধ হয়ে গেছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ইটসহ বিভিন্ন মালামাল বহন বিশেষ করে চরম বিপাকে পড়েছে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমের ধান ব্যবসায়ীসহ চাতাল ও অটো রাইস মিল মালিকরা।
জানা গেছে, নওগাঁ জেলা ট্রাক্টর, হিউম্যান হলার, ম্যাক্সি, রাইডার ও চ্যাম্পিয়ন শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি: নং-৯১৬) এর রাণীনগর/আত্রাই উপজেলার ট্রাক্টর শ্রমিকদের নায্য মজুরী বৃদ্ধির জন্য রাণীনগর/আত্রাই ট্রাক্টর মালিক সমিতির নেত্রীবৃন্দের সাথে বহুবার আলোচনায় বসা হয় এবং চিঠি প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি হওয়ার পরও মালিকপক্ষ মজুরী বৃদ্ধি না করার কারণে গত ১ মে ২০১৮ইং তারিখে ওই দুই উপজেলার ৯০% ট্রাক্টর শ্রমিকগণ ধর্মঘট করার জন্য তাদের এক আলোচনা সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মঙ্গলবার সকাল থেকে রাণীনগরের প্রায় ১ হাজার ট্রাক্টর শ্রমিক অনিদিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট পালন করছে। এতে বন্ধ হয়ে গেছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ইটসহ বিভিন্ন মালামাল বহন বিশেষ করে চরম বিপাকে পড়েছে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমের ধান ব্যবসায়ীসহ চাতাল ও অটো রাইস মিল মালিকরা।
এব্যাপারে রাণীনগর/আত্রাই উপজেলা ট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মেহের চাঁদ জানান, আমরা মালিক পক্ষের সাথে দফায় দফায় আমাদের নিয়ে বসেছি কিন্তু তারা আমাদের দাবি মানছেন না। মঙ্গলবার থেকে আমরা অনিদিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট পালন করছি। দাবি না মানা পর্যন্ত আমাদের ধর্মঘট চলবে।
ট্রাক্টর মালিক সমিতির সভাপতি মো: আনোয়ার হোসেন হেলাল জানান, শ্রমিকরা আমাদের কাছে তাদের দাবিগুলো উল্লেখ করে একটি চিঠি দিয়েছে। তাদের সাথে কোন বৈঠক হয়নি তবে শীঘ্রই তাদের সাথে বৈঠক করে বিষয়গুলো সমাধান করা হবে।

মাহমুদুন নবী বেলাল, নওগাঁ: নওগাঁয় “পেশাভিত্তিক পরিবেশবান্ধব সমাজ উন্নয়ন সংগঠন” জেলা নার্সারী মালিক সমিতির মোস্তাক আহম্মেদ সভাপতি ও নাজমুল হক রনীকে সাধারণ সম্পাদক করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। শহরের বালুডাঙ্গা বাসষ্টান রেজি নং ৮৭৩/০৭ এর অস্থায়ী কার্যলয়ে মঙ্গলবার দুপুরে এক সাধারণ সভায় নার্সারী মালিক সমিতির এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন দিপক কুমার সহ-সভাপতি, ফজলুর রহমান সহ-সাধারণ সম্পাদক, আনোয়ার হোসেন অর্থ সম্পাদক, মোনায়েম চৌধুরী প্রচার সম্পাদক, আজমীর আলী, আব্দুল করিম ও ইউনুছ আলীকে সদস্য করে ২ বছর মেয়াদের জন্য ৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।

ইউসুফ আলী সুমন, মহাদেবপুর (নওগাঁ): চলতি মৌসুমে ধান কাটার কাজে পুরুষ শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় আদিবাসী নারী কৃষি শ্রমিকদের কদর বেড়েছে। তবে কদর বাড়লেও দূর হয়নি মজুরী বৈষম্য। কৃষি ক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি এসব নারী শ্রমিক সমান কাজ করলেও মজুরী পাচ্ছেন প্রায় অর্ধেক। জাতীয় আদিবাসী পরিষদ ও আদিবাসী উন্নয়ন কেন্দ্রের হিসাব মতে মহাদেবপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে উড়াও, সাঁওতাল, মুরমু, মালী, মহালী, পাহানসহ বিভিন্ন স¤প্রদায়ের প্রায় ২০হাজার আদিবাসী বাস করে। এসব আদিবাসী পরিবারের প্রায় ৫-৭ হাজার নারী শ্রমিক কৃষি কাজের সাথে জড়িত রয়েছে। এ এলকায় বসবাসকারী আদিবাসীদের প্রায় সবাই হতদরিদ্র। হতদরিদ্র এসব পরিবারে মূলত নারী শ্রমিকরা কৃষি ক্ষেতে কাজ করে পরিবারের সদস্যদের জীবন যাপনের খরচ যোগায়। এদের নিজের জমি না থাকায় অন্যের জমিতে শ্রম বিক্রি করেন। এই শ্রম বিক্রি করতে গিয়ে তারা চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। একজন পুরুষ শ্রমিকে একদিন ধান কাটা কাজের জন্য ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা মজুরী পেলেও আদিবাসী নারী শ্রমিককে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ নারীর প্রতি সকল বৈষম্য বিলুপ্তির ঘোষনা দিলেও নারী শ্রমিকদের মজুরী দেওয়ার ক্ষেত্রে এ ঘোষনা মানা হচ্ছে না। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার কারণে যুগ যুগ ধরেই নায্য মজুরী প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে আদিবাসী নারী শ্রমিকরা। দওপাড়ার আদিবাসী নারী শ্রমিক শিখা পাহান জানান, তারা মাঠে পুরুষের পাশাপশি সমান ধান কাটা কাজ করেও মাজুরী পাচ্ছেন প্রায় অর্ধেক। ধর্মপুরের শবিতা পাহান জানান, শুধু মজুরী নয় নারী বলে একজন শ্রমিকের পাপ্য অন্যান্য সুবিধা থেকেও তাদেরকে বঞ্চিত করা হয়। পুরুষ শ্রমিকদের তিনবেলা খাবার দিলেও তাদেরকে দেওয়া হয় মাত্র এক বেলার জল খাবার। আদিবাসী উন্নয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক দিপংকর লাকড়া জানান, এ অঞ্চলে বসবাসকারী আদিবাসীদের মূলত নারী শ্রমিকদের রোজগারেই পরিবার চলে। আর নারী শ্রমিকরা নায্য মজুরী না পাওয়ায় অভাব তাদের পিছু ছাড়েনা।

মহাদেবপুর (নওগাঁ): নওগাঁর মহাদেবপুরে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধা কোঠা অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে গত ৫ এপ্রিল উপজেলার ২৭টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৭ জন দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগ করা হলেও এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা কোঠা অনুসরণ না করায় নিয়োগ বঞ্চিত হয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানরা। চলতি বছরের ২৭ মার্চ ২৮ মার্চ ও ৪ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাকক্ষে প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং গত ৫ এপ্রিল ২৭টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৭ জন দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে মুক্তিযোদ্ধ পরিবারের কেউই নিয়োগ পাননি। মুক্তিযোদ্ধা কোঠা অনুসরণ না করায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানরা নিয়োগ বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। এদিকে সকল চাকুরীতে মুক্তিযোদ্ধ কোঠা অনুসরণের দাবীতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে স্থানীয় বাসষ্ট্যান্ডে মানববন্ধন করেছেন মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানরা। এ ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মাযহারুল ইসলাম বলেন, নিয়োগ নীতি মালায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের বয়সের ব্যাপারে নির্দেশনা থাকলেও কোঠা সংরক্ষনের কোন নির্দেশনা না থাকায় কোঠা সংরক্ষন করা হয়নি।

কৃষকের মুখের হাসি ম্লান


এম এম হারুন আল রশীদ হীরা, মান্দা (নওগাঁ): নওগাঁর মান্দায় এবারো কৃষকরা পড়েছেন চরম দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে। চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ধানের ভাল ফলন হলেও দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারনে এবং হাট-বাজারে ধাএনর দাম কম থাকায় ন্যায্য দামে বিক্রি করতে না পেরে লোকসানের মূখে পড়েছেন এখানকার বর্গাচাষী ও সাধারণ কৃষকরা। ফলে লোকসানের বোঝা কাঁধে পড়ায় মুখে সুখের হাসি ¤øান হয়ে চরম হতাশায় পড়েছেন তারা।
জানা গেছে,গত আমন মৌসুমে মান্দা উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ১১টি ইউনিয়নেই ভয়াবহ বন্যায় প্রায় সাড়ে ১০ হাজার হেক্টর জমির আমন ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। এতে ব্যাপক ক্ষতির মূখে পড়েন কৃষকরা। ওই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এলাকার কৃষকরা কোমড় বেঁধে মাঠে নামেন ইরি-বোরো ধান চাষে। কেউ গোয়ালের গরু,কেউ হাঁস-মূরগী আবার কেউ বা বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে, আবার কেউবা বিভিন্ন সমিতি থেকে সুদের উপর টাকা নিয়ে ধান রোপন করেছিলেন। প্রথম দিকে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবং তেমন রোগ বালায় না থাকায় জমিতে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছিল। তবে ধান পাকার সময় শেষের দিকে বøাষ্ট এবং নেক বøাষ্ট রোগের প্রকোপের কারনে কিছু কিছু এলাকায় ধানের ফলন কমে গিয়ে ক্ষতির মধ্যে পড়েন কৃষকরা। ঠিক যে সময় কৃষকরা আনন্দ করে ধান কেটে ঘড়ে তুলবে সে স্বপ্ন দেখছে, দূর্যোগ পূর্ণ আবহাওয়া যেন কেমন করে সেই সময়েই হানা দেয়। এতে মাঝে-মধ্যেই ভারী বৃষ্টি, দমকা হাওয়ার সাথে পরতে থাকে ছোট ছোট শিলাও। এতে কৃষকরা চরম আতংক আর হতাশার মধ্য দিয়ে আধাপাকা ও পাকা ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এসময় ঝড়ো হাওয়া আর বৃষ্টির কারনে অধিকাংশ জমির ধান মাটিতে নেতিয়ে পড়ে। এছাড়া বৃষ্টির পানির ঢলে কোন কোন এলাকার অর্ধশতাধিক হেক্টর জমির পাকা ধান পানির নিচে নিমজ্জিত হয়ে যায়। এতে কৃষকরা চরম বেকায়দায় পড়ে যায়। তবে ধান ঘরে নয়,উঠান পর্যন্ত তুলতে পারলেও স্যাঁত সেঁতে অবস্থা থাকার কারনে বাজারে এর দাম কমে যাচ্ছে। কৃষকরা ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করতে পারছেননা। অনেক কৃষকরা জানান, তাদের মারাই করা ধানে গাছ উঠে গেছে। চলতি মৌসুমে সরকারীভাবে ধান ক্রয়ের মূল্য প্রতিমন এক হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ থাকলেও গত ক’দিন ধরে ধানের মোকাম হিসেবে খ্যাত চৌবাড়িয়া হাট, সতিহাট, দেলুয়াবাড়িহাট, প্রসাদপুর হাট, পাঁজর ভাঙ্গাহাট, গোটগাড়ীহাট, জোতবজারে ৭ শত ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ধানের জাত ও রকম অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৯ শত টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে। এদের মধ্যে ইরাটন ৭শত ৫০ টাকা, হাইব্রীড-১২০৩ সাড়ে ৮শত, ব্রি-ধান-২৮, ৮শত৭০ টাকা, এবং জিরাশাইল ৯শত টাকা। অনেক স্থানে ধানে শিকড় গজিয়ে উঠায় এবং অতিরিক্ত ভিজে থাকায় অনেক ধান অবিক্রিত অবস্থায় পরে আছে কৃষকের উঠানে।
কৃষকরা জানান,চলতি মৌসুমে এক বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে ধান উৎপাদন করতে অঞ্চল ভেদে জমির জমি চাষ, বীজ, ধান রোপন, সার, পরিচর্যা ও কাটাই-মাইয়ের পরে ঘরে তোলা পর্যন্ত কৃষক ও মালিকদের খরচ হয়েছে ৮ হাজার থেকে প্রায় ৯ হাজার টাকার মতো। তবে বর্গাচষীদের ক্ষেত্রে জমির বর্গাংশসহ খরচ পরেছে প্রায় ১৫ থেকে ১৭ হাজার টাকা। এক বিঘা জমিতে বর্তমানে ধানের ফলন হচ্ছে ২২ থেকে ২৬ মন পর্যন্ত, গড়ে প্রায় ২৫মণ। এতে ধান বিক্রি করে জমির মালিকরা কিছু লাভবান হলেও লোকসানের মূখে পড়েছেন বর্গাচাষীরা। ফলে বর্গাচাষী ও কৃষকরা ঋণের বোঝা নিয়ে এবং গত আমন মৌসুমে অকাল বন্যায় ক্ষতি এবং উঠতি বোরো ধানের বিক্রিতে ক্ষতিতে পড়ায়, ভবিষ্যতে এর দায় কিভাবে কাটিয়ে উঠবেন তা নিয়ে চরম হতাশা ও দিশেহারা হয়ে পরেছেন।
উপজেলার পারএনায়েতপুর গ্রামের হবিবর রহমান দেড় বিঘা, সাদেক আলী মৃধা এক বিঘা জমি চাষ করে ৩-৪হাজার টাকা লোকসান দিয়েছেন। দ্বারিয়াপুর মোল্বলাপাড়া গ্রামের বর্গাচাষী কৃষক হারুন অর রশিদ জানান, তিনি কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ তুলে সাড়ে ৬ বিঘা জমি, নুরুল্যাবাদ গ্রামের আবদুল জব্বার ৪বিঘা বোরো আবাদ করেছেন। কিন্তু দূর্যোগ পূর্ণ আবহাওয়ার কারনে ন্যায্য মূল্যে ধান বিক্রি করতে না পারায় প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় আড়াই থেকে চার হাজার টাকা লোকসান গুণছেন। প্রসাদপুর গ্রামের কৃষক জানবক্স পাইকসহ অনেক এলাকার অন্যান্য বর্গাচাষী কৃষকরা জানান,ধানের ফলন ভাল হলেও আবহাওয়ার কারনে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। আগামিতে কিভাবে এ লোকসান কাটিয়ে উঠবেন তা নিয়ে চরম হতাশায় ভূগছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম প্রামানিক জানান, চলতি মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ উপজেলায় ২১ হাজার ৬শত ৫০ হেক্টর জমিতে ব্রি-ধান (বোরো ধান) ধান রোপণ করা হয়েছিল। এতে ধানের উৎপাদন লক্ষ মাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে প্রায় এক লক্ষ সতের হাজার একশত পাঁচ মেট্রিকটন। তবে কৃষকরা ভাল দাম পেলে অনেক লাভবান হবেন।

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই, নওগাঁ: আমাদের দেশ বাংলাদেশ। প্রিয় মাতৃভ’মি আর এ দেশের বাংলা সন প্রবর্তনের পর থেকে সর্বজনীন উৎসব হিসেবে হালখাতার প্রচলন শুরু হয়। এখন পয়লা বৈশাখ জাঁকজমকের সঙ্গে পালন করা হলেও আধুনিকতার ছোঁয়া ও কালের বিবর্তনে অনেকটাই বিলুপ্তির পথে এক সময়ের জনপ্রিয় ও প্রাণের উৎসব হালখাতা। তবে এখনও নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ব্যবসায়ীরা হালখাতার প্রচলন অনেকটা ধরে রেখেছেন।আজও ‘হালখাতা’র সংস্কৃতি ধরে রেখেছে


রীতি অনুযায়ী উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের দোকানগুলোতে হালখাতার আয়োজন করা কথা ছিলো পহেলা বৈশাখে কিন্তু কৃষকেরা তাদের কষ্টের ফসল ধান ঘরে তোলার সাথে সাথে জ্যৈষ্ঠের প্রথম দিন থেকেই শুরু হয়েছে ব্যবসায়ীদের প্রাণের উৎসব শুভ হালখাতা। তবে বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা বলছেন, দোকানগুলোতে হালখাতার উপকরণ তৈরির কাজ সপ্তাহখানেক আগেই শুরু হয়েছে। এজন্য হালখাতার আমেজটাও শুরু হয়েছে সপ্তাখানেক আগেই।


হালখাতার উৎসব উপলক্ষে উপজেলার মির্জাপুর-ভবানীপুর, উপজেলা সদও, বজ্রপুর-সিংসাড়া, নওদুলী, কাশিয়াবাড়ি, শাহাগোলা, বান্ধাইখাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ দোকানেই চলছে ধোয়া-মোছা ও হিসাব-নিকাশের কাজ। আবার কেউ নতুন বছর উপলক্ষে পুরো দোকানেই নতুনত্ব আনার জন্য পুরোনো জিনিসপত্র রং করার কাজে ব্যস্ত।


দোকানগুলো সাজানো হয়েছে হালখাতা উদযাপনের নানা উপকরণ দিয়ে। দূরের ক্রেতারদের কার্ড বা ফোনের মাধ্যমে দাওয়াত দেয়া হয়েছে। এখন চলছে আশপাশের ক্রেতাদের দাওয়াতের কাজ। যেসব দোকানে হালখাতা আয়োজন করা হচ্ছে তাদের আয়োজন প্রায় শেষের দিকে।


এক সময় হালখাতায় ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের গরম মিষ্টি, জিলেপি ও অন্যান্য খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করতেন। সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে খাবারের আয়োজনেও পরিবর্তন এসেছে। বেশিরভাগ ব্যবসায়ী হোটেল বুকিং করে রেখেছেন এবং টোকেনের ব্যবস্থা করেছেন। ক্রেতারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দেনা মিটিয়ে একটি টোকেন দেখিয়ে হোটেলগুলো থেকে খাবার নেবেন। এদিকে, হালখাতা উপলক্ষে টালি খাতা কেনার ধুম পড়েছে দোকানগুলোতে। পুরাতন খাতার হিসাব-নিকাশ নতুন খাতায় তুলতে হবে। তাই টালি খাতার কেনার জন্য ব্যবসায়ীরা টালি খাতার দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন। আবার অনেকে টালি খাতা ফেরি করে বিক্রি করছে। অনেক দোকানি নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসেই কিনছেন নতুন টালি খাতা।


এব্যাপারে উপজেলার ভবানীপুর বাজারের সওদা ফ্যাশন এন্ড ক্লথ ষ্টোরের মালিক আলহাজ্ব মো: আব্দুর রশিদ বলেন, ‘আমার পূর্বপুরুষরাও হালখাতা করেছেন। ঐতিহ্য হিসেবে তাই আমরাও এই উৎসবটি আনন্দের সঙ্গে পালন করে থাকি। পাশাপাশি অনেক পাওনা টাকাও আদায় হয় এই উৎসব উপলক্ষে।’


খাবারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দোকানের মধ্যে খাবার-দাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। তবে দোকানের পাশেই করা হয়েছে খাবারের ব্যবস্থা এবং সেখানেই খাবারের পর্বটা সারা হবে।’


এ বিষয়ে ভাই ভাই বস্ত্রালয় এন্ড গার্মেন্টস এর মালিক মো: বাবর আলী শেখ বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ আগ থেকে হালখাতার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যেমন, দোকান পরিষ্কার করা, দোকান মেরামত, দাওয়াত কার্ড ছাপানো ও ক্রেতাদের দাওয়াত কার্ডপৌঁছানো ইত্যাদি। আর এ সব তো একদিনের কাজ নয় অনেক সময়ের ব্যাপার তাই আমরা এ সপ্তাহ আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

আজকের দেশ সংবাদ . Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget