নওগাঁর রাণীনগরে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত
সুকুমল কুমার প্রামানিক, রাণীনগর (নওগাঁ): নওগাঁর রাণীনগরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) গাজীপুর বোরো ২০১৮ মৌসুমে ব্রি-ধান ৫৮, ৬০, ৬৩ এর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ফলিত গবেষণা বিভাগ ব্রি গাজীপুর এর আয়োজনে ও উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় উপজেলা একডালা ইউনিয়নের পাকুড়িয়া বাজারে এই মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।
ব্রি-ফলিত গবেষণা বিভাগের আওতায় উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের কৃষক মো: সিরাজুল ইসলামের জমিতে উক্ত তিনটি ধানের চাষ হয়। ব্রি-ধান ৫৮ এর ফলন হয়েছে প্রতি বিঘায় ২৮মন, ব্রি-ধান ৬০ এর ফলন হয়েছে প্রতি বিঘায় ২৪মন ও ব্রি-ধান ৬৩ এর ফলন হয়েছে প্রতি বিঘায় ২৬মন। ব্রি-ধান ৫৮ এর জীবনকাল ছিল ১৪৮ দিন, ব্রি-ধান ৬০ এর জীবনকাল ছিল ১৪০ দিন, ব্রি-ধান ৬৩ এর জীবনকাল ছিল ১৪৫ দিন।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এসএম গোলাম সারওয়ার।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, ব্রি-গাজীপুর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা গোলাম সারওয়ার জাহান, উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা নিমাই চন্দ্র, শুসাঙ্ক, মাসুদ, আনোয়রসহ ১৬০জন কৃষক ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন।

চাপা পড়ে মো: কালু (৩৮) নামে ধান কাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত কালু পার্শ্ববর্তী নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার মহেশপুর গ্রামের মো: মোকছেদ আলীর ছেলে।
উৎপাদিত বেকারির খাদ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর। পাড়া, মহল্লা, স্কুল, কলেজের সামনে, বাজারের বিভিন্ন চায়ের দোকানে বিক্রি হয় এসব বেকারি খাদ্য পণ্য। অনেক জায়গায় পচা ও বাসী খাদ্য বিক্রি হয়। ফলে বেকারি খাদ্য খেয়ে সব বয়সী মানুষ বিশেষ করে কোমলমতি শিশুরা পেটের পীড়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। খাদ্য নীতিমালা অনুযায়ী বিএসটিআই ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদন নিয়ে বেকারি চালু করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানছেন না কেউ। এছাড়া প্যাকেটের গায়ে বাধ্যতামূলক পণ্যের উপাদান, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ লেখার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্থানে পণ্য উৎপাদনের কথা থাকলেও কোনো মালিকই এসবের তোয়াক্কা করছেন না। বিএসটিআই এর দ্বারস্থ না হওয়ায় এসব বেকারির উৎপন্ন খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণের কোন ব্যবস্থা নেই। টেকনিশিয়ান না থাকায় নিজেদের কলাকৌশলে আটা, ময়দা, চিনি, ডালডা, সোডা, রং ও মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন ক্যামিকেল ব্যবহার করা হচ্ছে। সরেজমিনে উপজেলার চান্দাস ইউনিয়নের বাগডোব বাজারের জহুরার মোড় এলাকার রুপালি বেকারিতে গিয়ে দেখা যায়, এ কারখানার বিএসটিআই এর কোন অনুমোদন নেই। খাদ্যের গুণগতমান নষ্ট করে স্যাঁতস্যাঁতে নোংরা পরিবেশে অদক্ষ কারিগর দ্বারা ভেজাল ও নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তৈরী করা হচ্ছে এসব বেকারি সামগ্রী। দূর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে আশ পাশে। কেক, পাউরুটি, বিস্কুট, টোস্টসহ নানা রকমের খাবার ট্রে গুলোতে যখন সাজিয়ে রাখা হয় তখন দেখা গেছে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছি ভন ভন করছে। আবার কিছু খাবারের উপর জেঁকে বসছে। আটা ময়দা প্রক্রিয়াজাত করার কড়াইগুলো অপরিস্কার ও নোংরা। শ্রমিকরা খালি গায়ে ও হাতে এসব পণ্যের কাচামাল বানাচ্ছে এবং খালি পায়ে এসব পণ্যের পাশ দিয়ে হাঁটাহাটি করছে। সেই সাথে খালি গায়ে থাকার ফলে শ্রমিকদের শরীরের ঘাম এসে পড়ছে আটার উপর। কারখানার ভিতরের একটি হাউজে নোংরা পানিতে করা হচ্ছে মাছ চাষ। উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ছাড়াই বাহারি রকমের আকর্ষণীয় মোড়কে বাজার জাতের জন্য প্যাকেট করা হচ্ছে। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে বসত বাড়ির ভেতরে হওয়ায় বছরের পর বছর অনুমোদনহীন কারখানা চালানোর পরেও অজ্ঞাত কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তেমন কোন ব্যবস্থা নেয়নি। উক্ত বেকারিতে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে গত ৯ মে বুধবার বিকেলে বেকারি মালিক ছামাদ ও তার সহযোগিরা সংবাদ সংগ্রহে বাধাদেন এবং সাংবাদিকদের দেখে নেয়ার হুমকি দেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভেজাল কেমিক্যাল ও নিম্নমানের উপকরন দিয়ে তৈরি করা এসব খাবার খেলে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি হতে পারে। পেটব্যাথা, শরীর দূর্বলসহ জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি রয়েছে। মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর এসব ভেজাল খাদ্য উৎপাদন বন্ধ করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই। মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোবারক হোসেন জানান, যেসব প্রতিষ্ঠান নিয়ম নীতি না মেনে খাদ্য দ্রব্য উৎপাদন করছে অতি দ্রæত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।