উল্টো পথের সরকারি গাড়ি আটকাতে গিয়ে আহত পুলিশ পরিদর্শকের অবস্থা আশঙ্কাজনক
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি বাস উল্টো পথে চলছিল। বাসটিকে পুলিশ থামানোর পর উল্টো তর্কে জড়ায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাসচালক ও হেলপার। একপর্যায়ে চালক বেপরোয়া হয়ে বাসটি চালাতে থাকে। আর ওই সময় বাসের চাকায় পিষ্ট হয় ট্রাফিক ইন্সপেক্টর দেলোয়ারের পা।
এ ঘটনায় আহত লালবাগ জোনের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. দেলোয়ার হোসেন এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন হাসপাতালে। তাঁর এই ভয়াবহ অবস্থা দেখে কান্না থামছে না পরিবারের সদস্যদের। তারা কী করবে, কোথায় নিয়ে যাবে বুঝে উঠতে পারছে না। তবে দেলোয়ারের সহকর্মীদের দাবি, তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত বিদেশে পাঠানো হোক।
এদিকে গতকাল শনিবার পর্যন্তও সেই নির্দয় বেপরোয়া বাসচালককে আটক করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার পর পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে কেউ সামান্য সান্ত্বনা পর্যন্ত দেয়নি দেলোয়ারের পরিবারকে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেলোয়ারের পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা।
দেলোয়ারের পরিবারের একজন সদস্য গতকাল জানান, দেলোয়ারের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে খুবই ক্রিটিক্যাল পর্যায়ে। তাঁকে দ্রুত বিদেশে পাঠিয়ে চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি, তাঁকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হোক।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া গতকাল বিকেলে বলেন, ‘ওই বাসচালক গুরুতর অপরাধ করেছে। অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। আর দেলোয়ারকে চিকিৎসায় যা যা খরচ প্রয়োজন হবে পুলিশের পক্ষ থেকে সব দেওয়া হবে। প্রয়োজনে তাঁকে বিদেশেও পাঠানো হবে। তাঁর পরিবারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে।’
ইন্সপেক্টর দেলোয়ার হোসেন গত সোমবার সকাল ৭টা থেকে রাজধানীর পলাশী এলাকায় দায়িত্ব পালন শুরু করছিলেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহন করা বাস (ঢাকা মেট্রো-চ-০৮-০০৫৩) নীলক্ষেতের দিক থেকে উল্টো দিকের রাস্তায় পলাশী হয়ে সচিবালয়ের দিকে যাচ্ছিল। ওই সময় পলাশীর মোড়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন এক এএসআইসহ তিনজন পুলিশ সদস্য। তাঁরা উল্টো দিকে যাওয়ায় বাসটিকে আটকে দেন। এ সময় বাসের চালক, হেলপারসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাস থেকে নেমে পুলিশের সঙ্গে ঝগড়া শুরু করেন। কিছুটা দূর থেকে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর দেলোয়ার হোসেনের চোখে এই দৃশ্য পড়তেই তিনি সেখানে ছুটে যান। এ সময় তাঁরা তাঁর সঙ্গেও তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এরই একপর্যায়ে চালক বেপরোয়াভাবে বাসটি চালিয়ে দেয়। এতে ইন্সপেক্টর দেলোয়ারের বাঁ পা বাসের চাকার নিচে পিষ্ট হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় অ্যাপোলো হাসপাতালে। সেখানকার চিকিৎসক তাঁর পা কেটে ফেলার পরামর্শ দিলে তাঁর পরিবারের সদস্যরা পা রক্ষার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। গত মঙ্গলবার দেলোয়ারকে পান্থপথের স্পাইনাল অর্থোপেডিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে গত বুধবার তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় স্কয়ার হাসপতালে। সেখানে নেওয়ার পর তাঁর অবস্থার আরো অবনতি হয়। বর্তমানে তাঁকে আইসিইউয়ে রাখা হয়েছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এ ঘটনায় গত ১৭ এপ্রিল শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নম্বর ৩৪। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বাসচালক নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, চালককে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য খোঁজা হচ্ছে।

বারের মত গত ২৬-৩০ চৈত্র পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপি উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে একযোগে বিশেষ ভূমি হালখাতার আয়োজন করা হয়। এতে তিনি সাফল্য অর্জন করেন, ২টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ১লা বৈশাখের পূর্বেই শতভাগ কর আদায় ও উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে শতকরা ৯৬ভাগ ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করতে সক্ষম হয়েছে উপজেলা ভূমি প্রশাসন। আর অভিনব এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মডেল হিসাবে নেয়ার দাবি জানিয়েছে মহাদেবপুরের সচেতন মহল। ভূমি উন্নয়ন কর আদায়, ভূমি বিষয়ক জনসচেতনতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতা মুলক ভূমি প্রশাসন গড়তে এ বিশেষ ভূমি হালখাতার আয়োজন করেন এসিল্যান্ড। এস এম হাবিবুল হাসানের উদ্ভাবনী উদ্যোগে উৎসাহিত হয়ে দেশের বিভিন্ন ভূমি অফিসে ওই হালখাতার আয়োজন করা হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। কোথায় থেকে এমন ধারনা পেলেন প্রশ্নের উত্তরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম হাবিবুল হাসান প্রতিবেদককে জানান, মানুষ কে কোন বিষয়ে জানাতে হলে প্রয়োজন নতুনত্ব চিন্তা করা। মূলত এখান থেকেই এল “ভূমি হালখাতা”। জনগণকে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানে উৎসাহিত করতে এ বিশেষ হালখাতার আয়োজন করা হয়। ভবিষ্যতে এটি যাতে মডেল হিসেবে সারাদেশে পালিত হয় সেজন্য তিনি উর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে অবহিত করবেন বলেও জানান। আত্রাই নদীর বালুমহালের ম্যাপিং, জলমহাল, খাস জমি, ভিপি সম্পত্তির ছবিসহ ডাটাবেইজ তৈরী করা হয়। ফলে মহুর্তের মধ্যেই সেবা গ্রহীতাদের জানিয়ে দেয়া সম্ভব হয় এ সকল তথ্য। ভূমি দস্যুদের থেকে খাস জমি রক্ষায় গঠন করা হয়েছে বিশেষ টাস্কফোর্স।
মহাদেবপুরের দীর্ঘদিনের সমস্যা মহাদেবপুর-পোরশা প্রধান সড়কের উপর বাজার। তিনি যোগদানের পর-পরই জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহযোহিতায় বাজার স্থানান্তর করে মহাদেবপুরের প্রধান সড়ক যানজট মুক্ত করেন । জন-হয়রানি লাঘবে প্রতি বুধবার খলিয়ানে গণশুনানির আয়োজন করা হয়। শুনানিতে আসা জৈনক আব্দুস সালাম জানান, জমির নামজারী করতে এসেছেন তিনি, মাত্র ১৫ দিনেই তার নামজারী অনুমোদন হয়েছে কোন ঝামেলা ছাড়াই। ভূমি অফিসের পরিবেশ দালালমুক্ত বলেও জানান তিনি। যে কোন পরামর্শ ও অভিযোগ জানানোর জন্য স্থাপন করা হয়েছে অভিযোগ বক্স। আর এ বক্সে অভিযোগ পরার সাথে সাথে ওই নাগরিকের সমস্যার সন্তোষ জনক সেবা প্রদান করে ভূমি অফিস। “অপ খধহফ গড়যধফবাঢ়ঁৎ” নামক ফেসবুক পেজ থেকে নাগরিকদের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকেন এসিল্যান্ড হাবিবুল হাসান। কেউ দালাল কিংবা অফিসের কোন কর্মকর্তা, কর্মচারীর হয়রানির স্বীকার হলে ওই ফেসবুক পেজে অভিযোগ জানালে তিনি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করেন। এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এস এম হাবিবুল হাসান জানান, ভূমি অফিস সম্পর্কে সকলের যে নেতিবাচক ধারনা রয়েছে তা পাল্টে দেবার চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি। আর তাঁর এই প্রচেষ্টায় আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন পারভেজ ও জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান।

নিহত এখলাসের মা কামরুন্নাহার বলেন, ‘অস্ত্রোপচার কক্ষে কোনো অবেদনবিদ ছিলেন না। এ অবস্থায় অজ্ঞান করতে গিয়ে আমার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। ক্লিনিকের লোকজনের কানাঘুষা করতে দেখে আমরা বুঝতে পারি, এখলাসের মৃত্যু হয়েছে। এরপরেও ক্লিনিকের লোকজন জোর করে আমার সন্তানকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেয়। অ্যাম্বুলেন্স কিছু দূর যাওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্সের চালক বলেন, আপনাদের রোগী মারা গেছে রাজশাহী যেয়ে আর কি করবেন? আমরা আবার নওগাঁয় ফিরে আসি। এরপর আমরা আরও স্বজনদের খবর দিলে তাঁরা সবাই ক্লিনিকে জড়ো হয়।’
এসময় জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান, পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল আকতার ও রাশেদুল হক, পৌরসভার মেয়র নজমুল হক সনি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি অংশ নেয়।
শোভাযাত্রায় আবহমান বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে সা¤প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রতীকী উপস্থাপনের নানা বিষয় তুলে ধরা হয়।