Latest Post
92 অন্যান্য 51 অর্থনীতি 24 আইন ও আদালত 76 আন্তর্জাতিক 645 এক ঝলক 3 কক্সবাজার 1 কবিতা 22 কিশোরগঞ্জ 4 কুড়িগ্রাম 6 কুমিল্লা 1 কুষ্টিয়া 3 কৃষি 107 কৃষি ও প্রকৃতি 10 ক্রিকেট 1 খাগড়াছড়ি 73 খেলাধুলা 51 গণমাধ্যম 12 গাইবান্ধা 1 গাজীপুর 17 চট্টগ্রাম 5 চাঁদপুর 5 চাঁপাইনবাবগঞ্জ 2 চুয়াডাঙ্গা 14 জয়পুরহাট 2 জাতীয় 3 জামালপুর 1 জোকস 6 ঝনিাইদহ 246 ঝালকাঠি 12 ঝিনাইদহ 4 টাঙ্গাইল 44 ঠাকুরগাঁও 39 ঢাকা 1 থী 4 দিনাজপুর 4838 দেশজুড়ে 42 ধর্ম 3469 নওগাঁ 14 নাটোর 2 নারায়ণগঞ্জ 1 নিহত ২ 1 নীলফামারীর 2 নেত্রকোনা 1 নোয়াখালী 3 পঞ্চগড় 4 পিরোজপু 2 প্রকৃতি 2839 প্রথম পাতা 23 প্রবাস 1 ফরিদপুর 17 ফিচার 8 ফুটবল 1 ফেনী 94 বগুড়া 2 বলিউড 58 বাগমারা 87 বিএমএসএফ 31 বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি 53 বিনোদন 51 বেনাপোল 2 ব্রাক্ষণবাড়িয়া 1 ব্রাহ্মণবাড়িয়া 51 ভিডিও 18 ভোলা 8 ভ্রমণ 59 ময়মুনসিংহ 1 মাগুরা 1 মাদারীপু 2 মাদারীপুর 1 মানিকগঞ্জ 1 মেহেরপুর 495 যশোর 5 রংপুর 104 রাজনীতি 3 রাজবাড়ী 95 রাজশাহী 3 লক্ষ্মীপুর 24 লাইফস্টাইল 2 লালমনিরহা 41 শিক্ষা 1 শ্রীপুর 891 সকল জেলা 2 সাতক্ষীরা 9 সিরাজগঞ্জ 3 সিলেট 63 সুনামগঞ্জ 31 স্বাস্থ্য 4 হবিগঞ্জ 1 হলিউড 10 bmsf

বোরো ইরি চাষে মাঠে নেমেছেন নওগাঁর রাণীনগরে চাষিরা

নিজস্ব ডেস্ক: উত্তর জনপদের খাদ্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত নওগাঁর রাণীনগরে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ধানরোপণে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন চাষিরা।

বন্যার পানি ইরি চাষের আবাদি জমি থেকে তাড়াতাড়ি নেমে যাওয়ায় কৃষকরা সময় নষ্ট না করে তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে কিছুটা আগেই ইরি-বোরো চাষের জন্য জমি তৈরির পাশাপাশি ধানরোপণ শুরু করছে। চাষিরা নিজ জমিতে আগে ধান লাগানোর জন্য ব্যাস্ত সময় পার করছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের মাঝে রবিশস্য চাষের জন্য রাসায়নিক সারসহ কৃষি উপকরণ বিতরণের ফলে যথা সময়ে রবিশস্য চাষের পরে এবার বুরো ধান চাষে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে চাষীরা।

উপজেলা কৃষি আফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে প্রায় ১৭ হাজার ৮ শ হেক্টর চাষযোগ্য আবাদি জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি এই পরিমাণ জমিতে ধান রোপণের জন্য কৃষকরা প্রায় ৮ শত ৫০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করেন। আবহাওয়া ভালো থাকার কারণে কোন প্রকার রোগবালাই ছাড়া চারা ভালো হয়েছে।

বন্যার পানি দ্রুত গতিতে নেমে যাওয়ায় বোরো চাষের জন্য জমি উপযোগী হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের কিছু আগেই মাঠের পর মাঠ জুড়ে কৃষকরা শুধু বোরো ধান রোপণের কাজে ঝুঁকে পড়ছে। বোরো ধান চাষের অনুকূল পরিবেশ থাকায় কিছুটা বৈরি আবহাওয়া থাকলেও দিনের বেলায় তাপমাত্রার বেশি থাকায় ধান রোপণের পরে ঠান্ডা, ঘণ কুয়াশা জনিত কারণে চারাগুলোর তেমন কোন ক্ষতি হবে না বলে স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করেন। তাই কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের মাঝে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সঠিক সময়ে বোরো ধান লাগানো যথাযথ ভাবে পরিচর্যা, রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে যে গতিতে কৃষকরা ধান রোপণ করছে তাতে খুব তাড়াতাড়ি বোরো চাষাবাদ শেষ হবে বলে কৃষকরা জানান।

 
বোরো ইরি চাষে মাঠে নেমেছেন নওগাঁর রাণীনগরে চাষিরা
উপজেলার মিরাট ইউপি’র জামিল, তোফাজ্জল হোসেন, তুষার রহমান, ইউনুছ সাহেব, সিয়াস রহমান সহ বেশ কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বোরো ধান লাগানোর উপযোগী আবহাওয়া থাকায় তারা সুযোগ বুঝে জমিতে ধান লাগানো শুরু করেছে। গত বছর ধানের ফলন ভালো হলেও দাম কম থাকায় ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়েছে। তাই বুক ভরা আশা নিয়ে কৃষকরা অনেক কষ্ট করে চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো ধান চাষে তারা উঠে পড়ে লেগেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম জানান, চলতি বোরো মৌসুমে এই উপজেলায় ১৭ হাজার ৮ শত হেক্টর জমিতে ইরি বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণ ধান লাগানোর সম্ভাবনা রয়েছে। চাষীরা কৃষি বিভাগের পরামর্শ ক্রমে আগেই বীজতলা তৈরি করে মানসম্পন্ন রোপণ যোগ্য চারা প্রস্তুত করেছে। সুষম সার, আধুনিক পদ্ধতিতে লাইন করে ধান লাগানো, নিবিড় পরিচর্যা ও যথা সময়ে রাসায়নিক সার, কীটনাশক প্রয়োগের জন্য মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা প্রতিদিনই সময় উপযোগী পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। এতে করে চাষিরা বেশ উৎসাহী হয়ে ইরি- বোরো ধান লাগানো শুরু করেছে।
(২নং ছবি)

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের ৩০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁয় বর্নাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক: “মাদককে রুখবো, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়বো” এই প্রদিপাদ্যকে সামনে রেখে নওগাঁয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের ৩০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বর্নাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও জেলা মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের আয়োজনে সমবার সকালে জিলা স্কুল থেকে একটি বর্নাঢ্য র‌্যালী বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে পুনরায় সেখানে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কামরুজ্জামান। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। আলোচনা সভায় জেল সুপার শাহ আলম, জেলা মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক একে.এম দিদারুল আলম, উপ-পরিদর্শক সবুজ চন্দ্র দেবনাথ, মানব অধিকার কর্মী মৌসুমী সুলতানা শান্ত প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। র‌্যালী ও আলোচনা সভায় জেলা মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্ররা উপস্থিত ছিলেন।


নওগাঁর রাণীনগরে মাঠে মাঠে শোভা পাচ্ছে সরিষার হলুদ গাঁদার ফুল

নিজস্ব ডেস্ক: নওগাঁর রাণীনগরে মাঠে মাঠে শোভা পাচ্ছে সরিষার হলুদ ফুলের সমারোহ। আর সরিষার ফুল থেকে মধু আহরন করছে হাজার হাজার মৌমাছি। শৈত প্রবাহ উপেক্ষা করে চলতি মৌসুমে উপজেলায় সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা আশা করছেন কৃষকরা। অপরদিকে কৃষি বিভাগ বলছে বর্তমান আবহাওয়া সরিষার ফলনে তেমন কোন প্রভাব ফেলবে না।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রধান ফসল বোরো ধান চাষের পূর্বে রবি শস্য হিসেবে সরিষার চাষ খুবই গুরুত্বপূর্ন। কারণ জমিতে সরিষার চাষের পরই বোরো ধান রোপনের জন্য জমি প্রস্তুত করা শুরু হয়। এছাড়াও সরিষা চাষের পর ওই জমির উর্বরতা শক্তি, উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ও ওই জমির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়। তাই পরবর্তি ফসল উৎপাদনের সহায়ক হিসেবে কাজ করে এই রবি ফসল সরিষা। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২হাজার ৮শত ৫০হেক্টর জমিতে বারি সরিয়া-১৪, ১৫ এবং এই প্রথম নতুন উদ্ভাবিত উন্নত ফলনশীল জাত বারি সরিষা-১৭ চাষ করা হয়েছে। ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে সদর, মিরাট, গোনা, কালিগ্রাম ও পারইল ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি জমিতে সরিষার চাষ করা হয়েছে। উপজেলার অধিকাংশ সরিষা চাষীদের সম্পূরক রবি ফসল হিসেবে সরিষা চাষে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষে সরিষার এই বীজগুলো সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে প্রদান করা হয়েছে। তবে বন্যার পানি জমে থাকার কারণে কিছু কিছু নিচু জমি সময় মতো প্রস্তুত করতে না পারায় গত বছরের চেয়ে চলতি বছর সরিষার আবাদ কিছুটা কম হয়েছে।
নওগাঁর রাণীনগরে মাঠে মাঠে শোভা পাচ্ছে সরিষার হলুদ গাঁদার ফুল
 

উপজেলার খট্টেশ্বর রাণীনগর গ্রামের কৃষক শরিফ উদ্দিন বলেন ইতিমধ্যেই চাষকৃত সরিষার বেশির ভাগেরই দানা ও ফুল এসে গেছে। কিন্তু চলমান শৈত প্রবাহ ও ঘনকুয়াশা দীর্ঘদিন থাকলে সরিষার ফলনে কিছুটা ব্যাঘাত হবে। তবে শেষ পর্যন্ত যদি আবহাওয়া সরিষা চাষের অনুক’লে থাকে ও সরিষার বর্তমান বাজার দর অব্যাহত থাকে তাহলে অবশ্যই কৃষকরা লাভবান হবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম বলেন চলতি মৌসুমে বিঘা প্রতি সরিষার ফলন ৬ থেকে সাড়ে ৬মণ হারে আশা করা হচ্ছে। এছাড়াও সরিষার বাজার দরও অনেক ভালো। সরিষা চাষ পরবর্তি বোরো ধান চাষের জন্য অনেক উপকারী। সরিষা চাষের পর সরিষার গাছ জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। তাই সব মিলিয়ে একজন সরিষা চাষী বিঘা প্রতি ১০-১১হাজার টাকা লাভ করতে পারবেন। বর্তমান আবহাওয়া সরিষার তেমন কোন ক্ষতি করতে পারবে না। কারণ শতকরা ৭০ভাগ সরিষার গাছে দানা এসে গেছে। সবমিলিয়ে চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলন আশা করছি।

সাপাহারে পিয়াজ চাষাবাদে ঝুঁকে পড়েছেন কৃষকগণ

নয়ন বাবু, সাপাহার (নওগাঁ): সারা দেশে বাংলা ও বাঙালীর প্রতিটি পরিবারে রন্ধন শিল্পে মসলাদির মধ্যে পিয়াজ অন্যতম মসলা। ইতোমেধ্যেই সেই মসলার পিয়াজ তার ঝাঁজ জানান দিয়েছে সবার কাছে। প্রতিটি পরিবারে রন্ধন প্রক্রিয়ায় কমবেশী পিয়াজের ব্যবহার হয়েই থাকে। তাই এ বছরে পিয়াজ তার আপন ঝাঁজে ব্যাস্ত থাকায় অনেক পরিবারের গৃহিনীরা বিনা পিয়াজে তাদের রন্ধন প্রক্রিয়া চালিয়েছেন বেশ কিছুদিন ধরে। অদুর ভবিষ্যতে এরকম পরিস্থিতি এড়াতে দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলার কৃষক কিষানীরা বর্তমানে সর্বস্ব দিয়ে পিয়াজ চাষাবাদে ঝুঁকে পড়েছেন।
তারই ব্যস্ত চিত্র নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলায় দেখা গেছে। এ উপজেলার কৃষক কিষানীদের কথা ভবিষ্যতে পিয়াজ বাজারজাত করতে না পারলেও অন্তত সারা বছর ধরে খাবার পিয়াজ টুকু নিজকে আবাদ করতে হবে। তাই তারা নিজের জমি হোক আর অন্যের জমি হোক সকলেই কম বেশী পিয়াজের চাষাবাদে ঝুঁকে পড়েছে। উপজেলার পিছলডাঙ্গ গ্রামের আব্দুল হাকিম, মদনশিং গ্রামের মফিজ উদ্দীন, কাশিতাড়ার আনারুল, ইসলামপুর গ্রামের ফিরুজ কবির, আজগর হোসেন সহ বেশ কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা হলে তারা জানান, তারা প্রত্যেকেই দেড় থেকে দু’বিঘা পরিমান করে পিয়াজের চষাবাদ করেছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মুজিবুর রহমান জানান, এবারে উপজেলায় পিয়াজ থেকে পিয়াজ (কন্দ) পিয়াজের চাষাবাদ হয়েছে ৫৫ হেক্টোর জমিতে যা বর্তমানে ক্ষেত থেকে তোলার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া এবছর নতুন আমবাগানে সাথী ফসল হিসেবে ও অন্যন্য জমি সহ ৪শ’হেক্টোর জমিতে পিয়াজ চাষাবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই তার প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হেক্টর জমিতে পিয়াজের চারা রোপন কার্য শেষ হয়েছে।
এ বছরের পিয়াজের চাষাবাদ অতিতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে বলে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষন অফিসার রহমান সেলিম জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে এ বছর সাপাহারে কৃষক কুল কোমর বেধেঁ পিয়াজের চাষাবাদে মনোনিবেশন করেছেন বলে উপজেলার সর্বস্থ্যরের জনসাধারণ জানিয়েছেন।

নওগাঁর মহাদেবপুরে দোকানের কর্মচারির মরদেহ উদ্ধার

তন্ময় ভৌমকি: নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা থেকে দুলাল হোসেন মন্ডল (৪৫) নামে এক দোকানের কর্মচারির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। দুলাল হোসেন সদর উপজেলা এলাকার একটি ভাংরির দোকানের কর্মচারি হিসেবে ছিলেন।
দুলাল হোসেন উপজেলার উত্তরগ্রাম দোকানদার পাড়া এলাকার মৃত তাছের আলী মন্ডলের ছেলে। স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুলাল হোসেন সদর উপজেলা এলাকার একটি ভাংরির দোকানের কর্মচারি হিসেবে ছিলেন। সোমবার সকালে দোকানে চলে আসেন দুলাল। রাতে তিনি আর বাড়ি ফিরেন যান নি। পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজা খোজি করে পায়ননি। মঙ্গলবার  সকালে মহাদেবপুর-মাজাতী সড়কের মন্ডপতলী এলাকায় পাকা রাস্তার পাশে দুলালের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জুয়েল জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে তার কিভাবে মৃত্যু হয়েছে তার অনুসন্ধান চলছে।

নওগাঁর রাণীনগরে মাটি কাটার মহোৎসব ৩ ফসলী কৃষি জমি পরিনত হচ্ছে পুকুরে

রিফাত হোসাইন সবুজ: নওগাঁর রাণীনগরে দিনের পর দিন ৩ ফসলী কৃষি জমিগুলো পরিণত হচ্ছে পুকুরে। এতে করে উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে কমছে কৃষি জমি। এক শ্রেণীর পুকুর ব্যবসায়ীরা কৃষকদের জমিতে ফসল চাষের বদলে বড় পুকুরের মালিক করে দেওয়ার লোভনী অফার দিয়ে দীর্ঘ সময়ের লিজ প্রক্রিয়ায় চালু করেছে কৃষি জমিতে পুকুর তৈরির পায়তারা। উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের অধিকাংশ কৃষি জমিতে মেশিন দিয়ে ৮ফুট গভীর করে জমির চার দিকে বাঁধ দিয়ে পুকুর খননের মহোৎসব চলছে।

রাত-দিন বিরতিহীন ভাবে পুকুর খনন করে সেই মাটি আবার রাণীনগর, আত্রাই উপজেলা এবং বগুড়া জেলার আদমদিঘী উপজেলার সান্তাহারের বিভিন্ন ইট ভাটাতে মাটি সরবারহ করা হচ্ছে। কৃষকরা না বুঝে একদিকে হারাচ্ছে তাদের ফসলী জমি অন্যদিকে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন এক শ্রেণীর প্রভাবশালী পুকুর ব্যবসায়ী মহল। রাজশাহী, নাটোর, পাবনা এমনকি রাজধানী ঢাকা শহর থেকে এসে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তিদের সহযোগিতায় কৃষি জমিতে পুকুর খননের এই উৎসব চলছে। ব্যক্তি মালিকানা জমির পাশাপাশি সরকারের ১নং খতিয়ানভূক্ত জমিও এই পুকুর দস্যুদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ প্রশাসনের উদাসীনতা আর অবহেলার কারণে এই পুকুর খননের প্রবণতা দিন দিন আরো দ্বিগুন হচ্ছে।

জানা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে নদী-নালা খাল-বিল বাদে প্রায় সাড়ে ২১হাজার হেক্টর ফসলী জমি রয়েছে। শ্রেণী ভেদে প্রায় সকল জমিতেই সারা বছর কোন না কোন ধরণের ফসল হয়। কৃষি উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি এবং উৎপাদিত ধানের যথাযথ মূল্য না পাওয়ায় প্রতি বিঘা জমি ১২ হাজার টাকার বিনিময়ে ৫থেকে ১০ বছর মেয়াদের চুক্তিনামা করে ফসলী জমিতে পুকুর তৈরি করা হচ্ছে। জমির সেই মাটি প্রতি গাড়ি (ট্রাক্টর) সাতশত টাকায় বিভিন্ন ইট ভাটায় বিক্রয় করছে পুকুর ব্যবসায়ীরা। ভূমি আইনের নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে আবাদী কৃষি জমিতে অবাদে পুকুর খনন করায় দিনদিন কমে যাচ্ছে ফসলী জমি অন্য দিকে পাশের জমির কৃষকরা বিভিন্ন সমস্যার কারণে ধান রোপনে বাধগ্রস্ত হচ্ছেন। ফলে বাধ্য হয়েই কেউ চলে যাচ্ছেন পুকুর দস্যুদের কাছে আবার কেউ জমি চাষ না করে ফেলে রাখছেন। চলতি মৌসুমে প্রায় ৬শত হেক্টর জমিতে বোরো চাষ কম হওয়ার আশংকা করছে কৃষি বিভাগ। উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে পুকুর খননের প্রবনতা লক্ষ্য করা গেলেও বিশেষ করে মিরাট ইউপি’র আয়াপুর ও আতাইকুলা মৌজার ১নম্বর ও ২ নম্বর সুইচ গেট নামক স্থানে পুকুর খননের প্রবনতা বেশি লক্ষ্য করা গেছে। ইতিমধ্যেই শুধুমাত্র মিরাট ইউনিয়নেই প্রায় ৫০টিরও বেশি পুকুর খনন করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম বলেন, কৃষি জমিতে স্কেবেটার মেশিন দিয়ে মাটি কেটে পুকুর খননের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ার আশংকায় মিরাট ইউনিয়নের আতাইকুলা মৌজার বেশকিছু জমিতে চলতি মৌসুমে বোরো ধান না হওয়ার আশংকা রয়েছে। আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছি পুকুর খনন থেকে বিরত থাকার জন্য। এছাড়াও কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করাসহ দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, বিষয়টি সম্প্রতি জেনেছি। এদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

আজকের দেশ সংবাদ . Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget